Ayatollah Ali Khamenei Death: ইরানে নিহত আয়াতোল্লার মেয়ে-জামাই-নাতনি-বৌমাও, খামেনেই পরিবারের বাকিরা কোথায় এখন?
Ayatollah Ali Khamenei Family: Fars News জানিয়েছে, ‘সর্বোচ্চ শাসকের পরিবার সূত্রে তাঁর মেয়ে, জামাতা, পৌত্রী এবং পুত্রবধূর শহিদ হওয়ার খবর মিলেছে’।

নয়াদিল্লি: ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যও। মারা গিয়েছেন খামেনেইয়ের মেয়ে, জামাতা, পৌত্রী, পুত্রবধূও। ইরানের Fars News-ই এই খবর সামনে এনেছে। (Ayatollah Ali Khamenei Family)
Fars News জানিয়েছে, ‘সর্বোচ্চ শাসকের পরিবার সূত্রে তাঁর মেয়ে, জামাতা, পৌত্রী এবং পুত্রবধূর শহিদ হওয়ার খবর মিলেছে’। দুই কন্যা-সহ খামেনেইয়ের মোট ছয় সন্তান। কোন মেয়ে মারা গিয়েছেন, তা যদিও এখনও স্পষ্ট নয়। (Ayatollah Ali Khamenei Death)
ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমোনেইয়ের অনুগামী খামেনেই। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ শাসকের পদে আসীন ছিলেন। ইরান সরকার, সামরিক বাহিনী, বিচারবিভাগের কর্তৃত্ব ছিল তাঁর হাতেই, পাশাপাশি, দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাও ছিলেন তিনি।
ব্য়ক্তিগত জীবন বরাবরই আড়ালে রেখেছিলেন খামেনেই। তাঁর স্ত্রী মনসিরে খোজাস্তে বাঘেরজ়াদা যদিও পরিচিত মুখ। মনসিরের বাবা ইসমাইল খোজাস্তে বাঘেরজাদা ব্যবসায়ী হিসেবে বেশ পরিচিত। ভাই হাসান ইরানের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা IRIB-র ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন।
খামেনেই এবং মনসুরের ছয় সন্তান, চার ছেলে এবং দুই মেয়ে, মোস্তাফা, মোজতবা, মাসুদ, মেসাম, বোশরা এবং হোদা। বড় ছেলে মোস্তাফাও ধর্মগুরু, যিনি ইরানের প্রখ্যাত দার্শনিক আজিজোল্লা খোশভগতের কন্যাকে বিয়ে করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধেও অংশ নেন মোস্তাফা। মাসুদ বিয়ে করেন রাজনীতিক মহসিন খারাজির কন্যাকে। তিনি কোনও সরকারি পদে আসীন নন।
খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবাই সবচেয়ে জনপ্রিয়। গোলার আলি হাদ্দাদ আদেলের কন্যা তাঁর স্ত্রী। ইরাক-ইরান যুদ্ধে লড়াই করেন মোজতবাও। খামেনেইয়ের বাকি সন্তানদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে প্রভাবশালী। এমনকি তিনিই খামেনেইয়ের উত্তরাধিকারী বেল মনে করা হয়। তবে জনসমক্ষে সেভাবে আসেন না মোজতবা।
খামেনেইয়ের পৌত্র ও পৌত্রীর সংখ্য়া একাধিক হলেও, শুধুমাত্র মহম্মদ বাঘের খামেনেইকেই চেনেন সকলে। খামেনেইয়ের তিন ভাই, চার বোন, যার মধ্যে এক বোন, বদ্রি খামেনেই আটের দশক থেকে নির্বাসনে। তাঁর ভাইপো-ভাইঝিদের অনেকে প্যারিস-সহ অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। তবে খামেনেইয়ের ছেলেমেয়েরা সকলেই ইরানে বাস করেন। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে পরিবারের পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেও তাকিয়ে সকলে।
শনিবার সকালে ইরানে মুহুর্মুহু রকেট বর্ষণ করে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। হামলা চালানো হয় খামেনেইয়ের বাড়ি এবং দফতরেও। স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে দেখা যায়, ধুলোয় মিশে গিয়েছে খামেনেইয়ের বাড়িটি। তখন থেকেই তাঁকে নিয়ে আশঙ্কা দানা বাঁধছিল।
রাতে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথম খামেনেইয়ের মৃত্য়ুর খবর জানান। এর পর খবরে সিলমোহর দেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিহাসের সবচেয়ে অশুভ লোকজনের মধ্যে অন্যতম যিনি, তিনি নিহত। ইরানের মানুষই শুধু ন্যায় বিচার পেলেন, আমেরিকার মহান নাগরিক পৃথিবীর সর্বত্র যাঁরা খামেনেই এবং তাঁর রক্তপিপাসু দলবলের হামলার শিকার হয়েছেন, তাঁরা সকলে ন্যায় বিচার পেলেন’।
খামেনেই এবং ইরানের অন্য কোনো নেতা কিছু করার মতো অবস্থাতেই ছিলেন না বলে জানান ট্রাম্প। এর পর ইরানের সংবাদমাধ্যমও খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর সামনে আনে।

























