Bicycle Face Disease : 'সাইকেল চালালেই মেয়েদের মুখ-শরীর হবে বিকৃত', ১৯ শতকের 'বাইসাইকেল ফেস'-রোগের সত্যিটা কী?
বাইসাইকেল ফেস। ১৯ শতকে পশ্চিমি বিশ্বে হইচই ফেলে দেয় এমন এক অসুখের নাম।

সাইকেল চালালেই মুখ হয়ে যাবে বিকৃত। চিবুকের সুললিত ভাব হবে ভ্যানিশ।ঠোঁটের আকার হবে খারাপ। নারী দেহের সৌন্দর্য যাবে চলে। সুন্দরী নারী হয়ে যাবে পুরুষের মতো। এ বড় ভয়ানক , বিচ্ছিরি অসুখ - মেয়েদের বিচ্ছিরি করে দেওয়ার অসুখ। বাইসাইকেল ফেস। ১৯ শতকে পশ্চিমি বিশ্বে হইচই ফেলে দেয় এমন এক অসুখের নাম।
দুচাকার একটা যান। লাগে না কোনও ড্রাইভার । একটু ভারসাম্য অর্জন করতে পারলেই, গতির স্বাদ। সাঁইসাঁই করে এগিয়ে যাওয়া। একেবারে নিজের ছন্দে। কারও ওপর নির্ভর না করেই নিজের ছন্দে এগিয়ে যাওয়া। ১৯ শতকে বাইসাইকেলে ভর করে মুক্তির নতুন স্বাদ পেয়েছিল মেয়ের দল। পশ্চিমি বিশ্বে নারীদের স্বাধীনতার নতুন স্বাদ ছিল বাইসাইকেল। কিন্তু সে স্বাধীনতা বোধ হয় সহ্য হচ্ছিল না অনেকেরই। তথ্য ঘাঁটলে জানা যাবে, বাইসাইকেলে চড়ে মেয়েদেন এই স্বাধীন যাতায়াত মেনে নিতে না পেরে এক আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হয় পরিকল্পনা করেই। যার নাম - বাইসাইকেল ফেস।
ডাক্তাররা রটিয়ে দেন, এই রোগটি শুধুমাত্র মহিলাদেরই হয়, সাইকেল চালালেই হয়। নারীর মুখ সৌন্দর্য, দেহের সুন্দর গঠন হয়ে যায় বিকৃত। এমন ভয় ছড়িয়ে দেওয়া পশ্চিমি বিশ্বের সৌন্দর্য-সচেতন মেয়েদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেবে , ভেবেছিল পুরুষসমাজ, যারা মেয়েদের এই সামান্য বাইসাইকেল চালানো দেখেই ভয় পেয়েছিল। একে বারে গেল গেল রব তুলেছিল। কিন্তু ঠেকাতে পারছিল না মেয়েদের। তখনই নাকি নতুন ফন্দি আঁটা হয়, রোগের ভয় ছড়িয়ে দেওয়া - বাইসাইকেল ফেস। মহিলাদের এই স্বাধীন যাতায়াত আটকানোর জন্য সেখানকার সমাজে বাইসাইকেল ফেস নামক রোগের উদ্ভব করা হয়। মনে করা হয়, মহিলারা এই রোগের ভয়ে সাইকেলচালাবেন না।
বাইসাইকেল ফেস রোগটি আসলে কী ছিল?
বাইসাইকেল ফেস রোগের ক্ষেত্রে সাবধান করা হয়েছিল, সাইকেল চালালে মহিলাদের চোখ বাইরের দিকে বেরিয়ে আসবে। তাদের থুতনি সরু এবং খারাপ হয়ে যাবে। সারাদিন ক্লান্ত দেখাবে। গায়ের রং ফ্যাকাসে হয়ে যাবে। কুৎসিত হয়ে যাবে তারা। আসলে, এর একটি কথাওও সত্যি ছিল না, সবটাই ছিল পরিকল্পিত গুজব। সেই সময়ে মহিলাদের সাইকেল চালানো থেকে বিরত করার জন্য এই রোগ সম্পর্কে মিথ্যা খবর ছড়ানো হয়েছিল, যাতে মহিলারা সাইকেল না চালান। এছাড়াও, অনেক ডাক্তারের মতে, যে মহিলারা বাইসাইকেল চালালেপ্রজনন ক্ষমতাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকবে।
কেন এই গুজব ছড়ানো হয়েছিল?
উনিশ শতকে ইউরোপে এই গুজব ছড়ানোর অনেক কারণ ছিল। আসলে, এই সময়ে বাইসাইকেলের আবিষ্কারের পর মহিলারাও এটি চালাতে শুরু করেন। এর ফলে তারা স্বাধীন যাতায়াতের স্বাদ পেতে শুরু করেন। সাইকেল চালানোর পাশাপাশি মহিলাদের স্বাধীনতার উপরেও জোর দেওয়া হতে থাকে এবং তারা ঘর থেকে বাইরে বেরোতে থাকেন বেশি করে। সাইকেল চালানোর জন্য মহিলাদের পোশাকের ধরনেও পরিবর্তন দেখা যায়। ঐতিহ্যবাহী স্কার্ট ছেড়ে উপযুক্ত প্যান্টস-শার্টের মতো পোশাক পরতে শুরু করেন। সেই সময়ে বাইসাইকেলকে নারীবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হত। তখনই মহিলাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার জন্য এই প্রচার চালানো হয়েছিল। গুজবটি কিছু মানুষের মনে ভয় ধরাতে পারলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি। পরবর্তী যুগ প্রমাণ করেছে গুজবের থেকে দু-চাকার সাইকেলের গতি বেশি।






















