Parliament Monsoon Session: বিরোধী দলগুলিতে পর পর ভাঙন, শক্তি বেড়েছে NDA-র, বাদল অধিবেশনে কি সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে পারবে মোদি সরকার?
Constitution Amendment Bill in Monsoon Session: বিদ্রোহী সাংসদরা NDA-র ছত্রছায়ায়। এবার কি সংবিধান সংশোধন বিল পাস করাতে পারবে মোদি সরকার?

নয়াদিল্লি: গত তিন মাসে বদলে গিয়েছে সংসদের ভিতরকার সমীকরণ। আর তাতেই ফের সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পেশ করার ভাবনা কেন্দ্রের। ২০ জুলাই থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সেখানে নতুন করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পেশ করার ভাবনাচিন্তা চলছে বলে খবর। (Constitution Amendment Bill in Monsoon Session)
তৃণমূল, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)-র মতো বিরোধী দলগুলি খান খান হয়ে গিয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA শিবিরে যোগদানের কথা জানিয়েছেন। এর ফলে সংসদের অন্দরে সংখ্য়ার হিসেব বদলে গিয়েছে। আর তাতেই কেন্দ্র নতুন করে সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করতে উৎসাহিত বোধ করছে।(Parliament Monsoon Session)
সংবিধান সংশোধনী বিলের তালিকায় রয়েছে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল, যার আওতায় শুধুমাত্র অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩০ দিনের কারাদণ্ড হলে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের অপসারণের বিধান রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল, যার আওতায় সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রশ্ন জড়িয়ে।
গত এপ্রিল মাসেই দ্বিতীয় বিলটি সংসদে পেশ করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে বিল পাস করানো সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি, ‘এক দেশ, এক নির্বাচনে’র মতো বৃহত্তর ভাবনাও রয়েছে, যা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে সংসদে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টিকে সংবিধানের জন্য বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছে। তবে এবার কি আর বিল পাসে বাধা থাকবে না? উঠছে প্রশ্ন।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ শনিবার এ নিয়ে বিশেষ টিপ্পনি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “সাম্প্রতিক দল ভাঙানোর যে খেলা শুরু হয়েছে, তার আসল উদ্দেশ্য সংবিধান সংশোধন। তাঁর বক্তব্য, ‘বার বার চেষ্টা করেও সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি ওরা…এখন বিভিন্ন দল ভাঙছে। কিন্তু এর পরও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না ওরা।”
সংবাদ সংস্থা ANI-এর মুখোমুখি হয়ে জয়রাম আরও বলেন, “আসল উদ্দেশ্য হল ভারতের সংবিধান বদলে দেওয়া…৪০০ আসন পেরনোর লক্ষ্যও ছিল সংবিধান পাল্টানোর জায়গায় পৌঁছনো।”
অন্য বিলের তুলনায় সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পাস করানো বেশ দুষ্কর। সেক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ ৩৬৮ কার্যকর হয়, যার আওতায় শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কাজ হয় না, দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনের প্রয়োজন পড়ে। অর্থাৎ ‘yes’ ভোট অবশ্যই মোট সদস্যসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি হতে হবে। পাশাপাশি, ভোটাভুটিতে উপস্থিত এবং ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়া সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি হতে হবে ‘yes’ ভোট।
বর্তমানে লোকসভার মোট সদস্য সংখ্যা ৩৪০। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ২৭১ জনের সমর্থন পেলেই হল না, দুই-তৃতীয়াংশের ‘yes’ জরুরি, দরকার তাঁদের ভোটের। ৫৪০ জন সাংসদই যদি ভোট দেন, তাহলে ৩৬০ ভোট হয়। যদি ভোটাভুটিতে অংশ নেন ৫০০ জন, সেক্ষেত্রে ৩৩৪ জনের ভোট হয়। ৪৮০ জন ভোট দিলে,সেই সংখ্যা হবে ৩২০।
আরও পড়ুন: বুলডোজার চলল বাড়িতে, দাঁড়িয়ে দেখলেন বলিউড অভিনেতা, ভিডিও ভাইরাল
সম্প্রতি বিভিন্ন দলের বিদ্রোহী সাংসদরা NDA-র প্রতি সমর্থন জানানোয়, বিজেপি-র শক্তি ৩০০ পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার পরও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা মেলেনি। রাজ্যসভাতেও একই সমস্যা।
১৩০তম সংবিধান সংশোধন: এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরা যদি কমপক্ষে পাঁচ বছরের সাজার বিধান থাকা কোনও মামলায় একটানা ৩০ দিনের বেশি জেলে থাকেন, তাহলে আপনাআপনিই ক্ষমতাচ্যুত হবেন তাঁরা। গত বছর এই প্রস্তাব পেশ করা হয়, যা এই মুহূর্তে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পর্যালোচনার স্তরে রয়েছে। আগামী ১৭ জুলাই নাগাদ সেই নিয়ে রিপোর্ট আসতে পারে। তার পরই বাদল অধিবেশনে বিলটি পেশ হতে পারে বলে একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। বিরোধীদের দাবি, সংবিধান সংশোধনের নামে আসলে বিরোধীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে কাউকে একটানা ৩০ দিন জেলে রেখে চেয়ার কেড়ে নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, শুধুমাত্র অভিযোগ এবং ৩০ দিন জেলে রাখার প্রেক্ষিতে আপসারণের প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে গোড়া থেকেই।
১৩১তম সংবিধান সংশোধন: সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে লোকসভার আসনবৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ২০১১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি হিসেবে রেখেছে কেন্দ্র। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সেটিকে আইনে পরিণত করার লক্ষ্য়। এর মাধ্যমে মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার কথা বলছে কেন্দ্র, যদিও বিরোধীদের দাবি, এখনই সংরক্ষণ দিতে আপত্তি কোথায়? সীমান পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নে বিশেষ আপত্তি দক্ষিণের রাজ্যগুলির। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণের রাজ্যগুলি যেহেতু গোড়া থেকে সচেতন, তাই উত্তরের রাজ্যগুলিতে আসন বাড়িয়ে, ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। শুধু তাই নয়, আসন বৃদ্ধির সঙ্গে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিয়ে বঞ্চনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে DMK থেকে অন্য বিরোধী দলগুলিও।
এক দেশ, এক নির্বাচন: এক দেশ, এক নির্বাচনের প্রস্তাবটি ৩৯ সদস্যের যৌথ সংসদীয় কমিটিতে রয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিজেপি-র সাংসদ পিপি চৌধরি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খরচ কমানোর যুক্তি দিলেও, বিরোধীদের দাবি, ওই প্রস্তাব দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। যে দলের শক্তি বেশি, টাকা বেশি, তারাই একচ্ছত্র রাজত্ব করবে ওই বিল কার্যকর হলে।
Before You Go
Chandrima Bhattacharya: 'বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন ফেরার প্রশ্ন নেই', বললেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য























