Terrorist Arrest : ফের বড়সড় সন্ত্রাসের ছক, বেছে বেছে ধর্মগুরুদের টার্গেট ! ISI মদতপুষ্ট ৭ জঙ্গিকে ধরে ফেলল পুলিশ, পাওয়া গেল ...
দিল্লিতে বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ। ISI-ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্কের ৭ সদস্য গ্রেফতার। উদ্ধার অস্ত্র, কার্তুজ ও পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ।

পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলার বড়সড় ছক ভেস্তে দিল দিল্লি পুলিশ। রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা, অস্ত্র ও মাদক পাচার এবং ধর্মীয় নেতাদের উপর হামলার ছক কষছিল একটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি-অপরাধ চক্র। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রের যোগ রয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-র সঙ্গে। ইতিমধ্যেই ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, মোবাইল ফোন এবং পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক প্রমাণ।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজধানী দিল্লি এবং তার আশপাশের এলাকায় বড়সড় নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল। জনবহুল এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, এমনকি একাধিক ধর্মীয় নেতাকেও নিশানা করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। পুলিশের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-র মদতে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি-অপরাধ চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে পাকিস্তানের গ্যাংস্টার-থেকে-জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টি এবং তার সহযোগী আজমল গুজ্জরের নাম। তাঁদের নির্দেশেই ভারতে অস্ত্র পাচার, মাদক চোরাচালান, গুপ্তচরবৃত্তি এবং সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে অভিযোগ।
কীভাবে সামনে এল চাঞ্চল্যকর চক্র?
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল সূত্রে খবর, গত মে মাসে গোয়েন্দাদের কাছে খবর আসে যে, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একটি নেটওয়ার্ক দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বড়সড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপরই শুরু হয় নজরদারি।
প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ, মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধীরে ধীরে গোটা নেটওয়ার্কের হদিশ পায় পুলিশ। তারপর একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় সাত অভিযুক্তকে।
কারা গ্রেফতার?
গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে— আনাস ওরফে আনাস ত্যাগী (২৬), মোহিত ওরফে যোগী (২৬),
দীপক ওরফে দীপক আগরোলা, আরিফ ওরফে প্রধান, করণবীর সিং যতন, সাবির। তদন্তে জানা গিয়েছে, এদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, অস্ত্র আইন, মাদক পাচার এবং গ্যাংস্টার আইনের একাধিক মামলা আগে থেকেই রয়েছে।
পাকিস্তান থেকে ড্রোনে আসত অস্ত্র ও মাদক!
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে পাঞ্জাবে পাঠানো হত অস্ত্র, গুলি এবং হেরোইনের চালান। সেখান থেকে নেটওয়ার্কের সদস্যরা সেই সব অস্ত্র ও মাদক সংগ্রহ করে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে পৌঁছে দিত। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, আনাস এবং করণবীর সিং-সহ কয়েকজন সদস্য নিয়মিত পাঞ্জাবে গিয়ে এই চালান সংগ্রহ করত।
নিশানায় ছিল জনবহুল এলাকা ও ধর্মগুরুরা
তদন্তকারীদের দাবি, শাহজাদ ভাট্টি এবং আজমল গুজ্জরের নির্দেশে অভিযুক্তরা দিল্লি-এনসিআরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্ত জায়গাগুলিতে রেকি চালিয়েছিল।
সেই সব জায়গার ছবি ও ভিডিও তুলে পাকিস্তানে পাঠানো হত। তদন্তকারীদের মতে, এর উদ্দেশ্য ছিল ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়া।
কী কী উদ্ধার হয়েছে?
অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে—
৫টি অত্যাধুনিক সেমি-অটোমেটিক পিস্তল
৪১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ
৭টি মোবাইল ফোন
একটি স্করপিও গাড়ি
একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য
মোবাইল ফোনগুলিতে পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে কথোপকথন, ভয়েস নোট এবং চ্যাটের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি পুলিশের।
সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদে যুবকরা
তদন্তে উঠে এসেছে, শাহজাদ ভাট্টি ও আজমল গুজ্জর সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে ভারতীয় যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। প্রথমে মোটা টাকার লোভ দেখানো হত। এরপর ধীরে ধীরে তাদের অস্ত্র পাচার, মাদক চোরাচালান, রেকি এবং অন্যান্য বেআইনি কাজে জড়িয়ে ফেলা হত। পুলিশের দাবি, প্রথমে সাধারণ অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকা কয়েকজন যুবক পরে ধীরে ধীরে জঙ্গি নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে ওঠে।
Before You Go
Debraj Chakraborty : গ্রেফতার দেবরাজ চক্রবর্তী, বাগুইয়াটিতে বাজি ফাটিয়ে উচ্ছ্বাস






















