Delhi Stampede: 'পেরেক গেঁথে গিয়েছিল মাথায়', ৭ বছরের মেয়ের মৃত্যুতে বাবার হাহাকার, 'ওকে ফিরিয়ে দিন'...
Delhi Stampede Case: গন্তব্য় ছিল প্রয়াগরাজ, মহাকুম্ভ- সেখানে, মাঝপথেই এই ভয়ঙ্কর পরিণতি। দিল্লির সাগরপুরের বাসিন্দা, ওপিল সিংহ, চোখের সামনে মেয়ের মৃত্যু যন্ত্রণা দেখেছেন।

নয়া দিল্লি: চোখের সামনে দেখা, ভয়াবহ দৃশ্য, ভাবলেই শিউরে উঠে চোখ বন্ধ করছেন। সন্তানকে হারিয়েছেন, সেই শোকে বিহ্বল বাবা। মাথা চাপড়ে কেঁদে উঠছে মাঝে মধ্যেই। শনিবারে দিল্লিতে পদপিষ্ট বিপর্যয় প্রাণ কেড়েছে ৭ বছরের কন্যার। কুম্ভে যাওয়ার পথেই বিধ্বস্থ পরিবার।
গন্তব্য় ছিল প্রয়াগরাজ, মহাকুম্ভ- সেখানে, মাঝপথেই এই ভয়ঙ্কর পরিণতি। দিল্লির সাগরপুরের বাসিন্দা, ওপিল সিংহ, চোখের সামনে মেয়ের মৃত্যু যন্ত্রণা দেখেছেন। হাহাকার বুকেই জানালেন শেষ চেষ্টা করেছিলেন মেয়েকে বাঁচানোর কিন্তু সাহায্য তো দূরঅস্থ, হাসপাতাল অবধি পৌঁছতে পৌঁছতেই প্রাণ বেরিয়ে গেছিল মেয়ের। হাসপাতালে নিয়ে গেলে, ৭ বছরের শিশুকন্য়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
কী হয়েছিল? সদ্য সন্তানহারা বাবার কথায়, প্রয়াগরাজ যাওয়ার জন্য, শনিবার রাতে নয়াদিল্লি স্টেশনে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু প্রচণ্ড ভিড় দেখে, বাড়ি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম বদলানোর সময় দেখি মারাত্মক ভিড়। তখনই সিদ্ধান্ত নেই যে ফিরে আসব বাড়ি। এই ভিড়ের মধ্যে মেয়েদের নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কোথাও একচুল দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। সেই ভেবেই বউ, দুই মেয়ে, ভাইদের নিয়ে ফিরে আসার চিন্তা করি। সেই সময়ই ঘটে যায় বিপদ!
আরও পড়ুন, দিল্লিতে ভূমিকম্প, 'বিশাল আওয়াজ' আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় মানুষ
ভিড়ের ধাক্কায়, তাঁর মেয়ে ছিটকে পড়ে রেলিংয়ে। শোকস্তব্ধ গলায় কন্যা-হারানো বাবা বলে চলেন, 'মেয়ে যখন ওখানে ফেঁসে গিয়েছিল সেই সময়ই ওখান থেকে প্রায় ৫-৬ হাজার মানুষ নামতে শুরু করে। সেই সময়ই মাথায় পেরেক গেঁথে গিয়েছিল ওঁর...' এরপর আর কথা বলতে পারেননি। এমনকী ভিড়ের মধ্যে পকেট কেটে টাকাও নিয়ে নেয় কেউ, এমনই অভিযোগ। মৃত মেয়ের বাবা বলেন, 'কোনও সাহায্য পাইনি। ওখানে যিনি কুলি ছিলেন, তিনি আমায় ৩০০ টাকা দিয়েছিলেন। কলাবতী হাসপতালে নিয়ে যাই। ডাক্তার বলল মেয়ে আর বেঁচে নেই।' ফের বন্ধ হয়ে আসে গলা। চোখের কোল ভিজে যাচ্ছে জলে। মাথা চাপড়ে চলেছেন বাবা। 'ওঁকে ফিরিয়ে দিন'... ফের কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
নয়া দিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনা কি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল প্রশাসন? শনিবারের ঘটনার পর, মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে সাহায্য, গুরুতর আহতদের আড়াই লক্ষ টাকা এবং অল্প আহতদের এক লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রেল। প্রশ্ন হচ্ছে, এতবড় ঘটনার দায় কি কেউ নেবে?
আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট এখন পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে






















