US Attacks Venezuela: ভেনিজুয়েলার পর আরও তিন দেশকে হুঁশিয়ারি, লাতিন আমেরিকার কোন কোন দেশের উপর নজর ট্রাম্পের?
Donald Trump: শনিবার ভেনিজুয়েলায় ঢুকে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া মাদুরোকে বন্দি করে আমেরিকা।

নয়াদিল্লি: রাতারাতি ‘দখল’ হয়ে গিয়েছে ভেনিজুয়েলা। দেশের অন্দরেই সেই নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠছে। কিন্তু নিরুত্তাপ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং এবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, লাতিন আমেরিকার অন্য দুই দেশ, মেক্সিকো এবং কিউবাকেও হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প। ওই সব দেশ মাদক ব্যবসার আঁতুড়ঘর বলে উল্লেখ করেন তিনি। (Donald Trump)
শনিবার ভেনিজুয়েলায় ঢুকে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া মাদুরোকে বন্দি করে আমেরিকা। সেই নিয়ে আমেরিকার তীব্র নিন্দা করেন পেত্রো। আমেরিকা ভেনিজুয়েলার সার্বভৌমত্বে আঘাত হেনেছে, লাতিন আমেরিকায় মানবিক সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে জানান তিনি। মাদুরোর সঙ্গে পেত্রোর সম্পর্ক এমনিতে বরাবরই ভাল। সেই নিয়ে ফুঁসে উঠেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, “ওরা কোকেন তৈরি করে আমেরিকায় পাঠাচ্ছে। ওঁর নিজেকে নিয়ে ভাবা উচিত।” (US Attacks Venezuela)
ভেনিজুয়েলা আক্রমণের আগে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনিজুয়েলার একের পর এক জাহাজ গুঁড়িয়ে দেয় আমেরিকা। বাজেয়াপ্ত করে তাদের তেলের ট্যাঙ্কারও। ভেনিজুয়েলায় রকেটও নিক্ষেপ করান তিনি। সেই সময় কলম্বিয়ার ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কলম্বিয়ায় মাদক উৎপাদন কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি। সেই নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছিলেন পেত্রোও। তাই মাদুরোকে বন্দি করার পর পেত্রোর উদ্দেশে যে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প, তাতে অশনি সঙ্কেত দেখছেন অনেকেই।
এর পাশাপাশি, মেক্সিকো এবং কিউবা নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “কিউবা নিয়েও কথা হবে।” আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও তাতে যোগ করেন, “আমি হাভানায় থেকেছি। সেখানে সরকারে কাজ করেছি আমি। আমি হলে উদ্বিগ্ন হতাম।” ফোনে Fox News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেক্সিকো নিয়েও জল্পনা উস্কে দেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, “মেক্সিকোর ব্যাপারেও কিছু করতে হবে।” জানান, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লউদিয়া শেনবউমের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। মাদকচক্রকে উপড়ে ফেলতে আমেরিকাকে সেনা পাঠাতে হবে কি না, জানতে চান তাঁর কাছে। ট্রাম্পের বক্তব্য, “পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার কর্তৃত্ব নিয়ে আর প্রশ্নের অবকাশ থাকবে না।”
ঘটনাচক্রে কিউবা এবং মেক্সিকো, দুই দেশেই ভেনিজুয়েলায় মাদুরোকে বন্দি করা নিয়ে আমেরিকার সমালোচনায় সরব হয়েছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল লেখেন, ‘ভেনিজুয়েলার উপর যে অপরাধমূলক আক্রমণ চালানো হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা করছে কিউবা। আন্তর্জাতিক মহলকেও অবিলম্বে একবাক্যে এর নিন্দায় সরব হতে আর্জি জানাচ্ছে। ভেনিজুয়েলার সাহসী মানুষের বিরুদ্ধে, আমাদের আমেরিকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে। মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, আমরা হাসিল করবই!’
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লউদিয়া জানান, আমেরিকা রাষ্ট্রপুঞ্জের বিধিনিয়ম লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাচিও লুলা ডা সিলভাও নিন্দা করেছেন আমেরিকার। তাঁর মতে, সব সীমা অতিক্রম করেছে আমেরিকা। লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের রাজনীতিতে বহির্শক্তির হস্তক্ষেপের ফল ভাল হবে না বলে জানান তিনি।
যেভাবে ভেনিজুয়েলা থেকে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে আনা হয়েছে, ভেনিজুয়েলার উপর নিজেদের কর্তৃত্ব ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প, তা নিয়ে আমেরিকাতেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে অবাক নন অনেকেই। কারণ দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে বার বার বিদেশনীতি নিয়ে নিজের আবস্থান বুঝিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের সহযোগী দেশ কানাডাকে গোড়াতেই আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার ঘোষণা করেন তিনি। গ্রিনল্যান্ডকে উপনিবেশে পরিণত করার কথাও জানান, যা কি না ডেনমার্কের একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ। তাই ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।






















