Bashar Al-Assad Sentenced to Death: মৃত্যুদণ্ডের সাজা সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে, রাশিয়া পালিয়ে গিয়েও হল না রক্ষে, কিন্তু ফেরানো যাবে কি?
Bashar Al-Assad: আসাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রায় দেড় দশক ব্যাপী সশস্ত্র সংগ্রামে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে সিরিয়া। প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হয়।

নয়াদিল্লি: দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন আগেই। তবে তাতে বাধা হল না বিচারপ্রক্রিয়া। সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনাল দেশের আদালত। ‘মানবতা বিরোধী অপরাধ’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধে’র মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে। (Bashar Al-Assad)
আসাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রায় দেড় দশক ব্যাপী সশস্ত্র সংগ্রামে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে সিরিয়া। প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হয়। সেই মামলাতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন আসাদ। ওই একই মামলায় তাঁর তুতো ভাই আতেফ নাজীবকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে আদালত। দক্ষিণের দারায় তিনি যেভাবে দমননীতি গ্রহণ করেন, গৃহযুদ্ধে তাঁর যে ভূমিকা ছিল, তার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে নাজীবকে। (Bashar Al-Assad Sentenced to Death)
আসাদ অনেক আগেই সিরিয়া ছেড়েছেন। তবে সিরিয়াতেই রয়েছেন নাজীব। কয়েদির পোশাকে, খাঁচায় বন্দি করে বিচারপতির সামনে হাজির করা হয় তাঁকে। সেখানেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয় তাঁকে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সশস্ত্র গোষ্ঠী যখন দামাস্কাসের দিকে এগোচ্ছে, সেই সময়ই সিরিয়া ছেড়ে পালান আসাদ এবং তাঁর ভাই মাহের। বর্তমানে রাশিয়ার আশ্রয়ে রয়েছেন তাঁরা। মাহেরকেও তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে। পরিকল্পিত ভাবে হত্যা এবং অত্যাচার চালানোর অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
আসাদরা সিরিয়া ছাড়ার পর গ্রেফতার হন নাজীব। দেশের হাই-প্রোফাইল আধিকারিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। সিরীয় সেনার প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজীব। আসাদের শাসনকালে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের পলিটিক্যাল সিকিউরিটি ব্রাঞ্চের প্রধান ছিলেন। ২০১১ সালে দারায় আন্দোলনকারীদের দমন করতে নামেন নাজীব। তার জেরে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় সেখানে।
আরও পড়ুন: শেষ পর্যন্ত ফুড ট্রাকে লুকোতে হল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে? ইরানের থেকে মাথা বাঁচাতেই কি? দাবি ঘিরে শোরগোল
ইচ্ছাকৃত ভাবে ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের হত্যা, অত্যাচার করে খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন নাজীব। বিচারপতি ফকর আল-দিন আল আরিয়ান জানান, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজীব। জানিয়েছেন, কোনও আফশোস নেই তাঁর। সিরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া আরও একাধিক প্রাক্তন সেনা আধিকারিকদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফাগাদ আল-ফ্রেজি, দরার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লুয়া আল-আলি।
সিরিয়ায় ক্ষমতার পালাবদলের পর এই প্রথম আসাদ এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও রায় এল। রায়দান করতে গিয়ে বিচারপতি আল-আরিয়ান জানান, দেশের সর্বোচ্চ শাসকদের অপরাধের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছিল। সিরিয়ার সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, আদালতের এই রায় তাঁদের ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিল।
আসাদ এবং তাঁর পরিবারের লোকজনকে দেশে ফেরাতে রাশিয়া সরকারের কাছে ইতিমধ্যেই প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে সিরিয়ার বর্তমান সরকার। মস্কোয় তাঁরা যে ‘বিলাসিতা’র জীবন কাটাচ্ছেন, তা তাঁদের প্রাপ্য নয় বলে জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত আসাদকে প্রত্যর্পণের আবেদনে সাড়া দেয়নি রাশিয়া।






















