Haryana News: 'বউ পালিয়ে গিয়েছে', জানিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোক, তারপর মারাত্মক অবস্থায় উদ্ধার হল তরুণীর দেহ
Dowry Demand: পুলিশ সূত্রে খবর, খননকারী যন্ত্রের সাহায্যে ওই গভীর গর্ত থেকে খুঁড়ে বার করা হয়েছে তরুণীর দেহ। তাঁর নাম তনু, বয়স ২৪ বছর।

Haryana News: রাস্তার উপরে ১০ ফুট গভীর গর্ত। প্রতিবেশীরা জানেন তা খোঁড়া হয়েছে নিকাশি ব্যবস্থা সঠিক করার জন্য। কিন্তু সেই গর্ত থেকেই অবশেষে উদ্ধার হল এক তরুণীর পচাগলা দেহ। হরিয়ানার ফরিদাবাদে এই বীভৎস ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, খননকারী যন্ত্রের সাহায্যে ওই গভীর গর্ত থেকে খুঁড়ে বার করা হয়েছে তরুণীর দেহ। তাঁর নাম তনু, বয়স ২৪ বছর। উত্তরপ্রদেশের শিকোহাবাদের বাসিন্দা তিনি। বছর দুই আগে ফরিদাবাদের রোশন নগরের অরুণের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। এই গোটা ঘটনায় তনুর স্বামী অরুণ, শ্বশুর, শাশুড়ি এবং আরেক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে বলে খবর।
পুলিশ সূত্রে খবর, তনুর শ্বশুরবাড়ির পাশের রাস্তাতেই ছিল ওই গর্ত। বেশিদিন আগে খোঁড়া হয়নি। এই গর্তের মধ্যে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল তরুণীর দেহ। স্থানীয়রা জানিয়েছে, মাস দুয়েক আগে এই গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। গর্ত খুঁড়েছিলেন তনুর শ্বশুর। জিজ্ঞাসা করায় বলেছিলেন ড্রেন তৈরি করছেন যাতে নোংরা জল সঠিকভাবে বেরিয়ে যায়। বাড়ির নিকাশি ব্যবস্থা ভাল করতেই এই ব্যবস্থা বলে জানিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। এমনটাই দাবি করেছেন স্থানীয়রা। খুব তাড়াতাড়ি ওই গর্তের মুখ সিমেন্টের স্ল্যাব দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। তরুণীর দেহ ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং সময় জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তনুর দিদি অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর বোনের উপর মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ২০২৩ সালে বিয়ে হয়েছিল তনুর। তারপর থেকেই চলছিল পণের দাবিতে অত্যাচার। এমনটাই অভিযোগ তনুর দিদির। সোনার গয়না, টাকাপয়সা সবই দাবি করেছিল তনুর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তনুর বাপের বাড়ি থেকেও যতটা তাদের পক্ষে সম্ভব, ততটা জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তনুর শ্বশুরবাড়ির দাবি ক্রমশ বেড়েই চলেছিল। তনুর দিদি প্রীতি এও অভিযোগ করেছেন যে, বিয়ের কয়েকমাসের মধ্যে অত্যাচারের কারণে মামার বাড়িতে গিয়ে থাকতে হয়েছিল তনুকে। শ্বশুরবাড়ির তরফে ভাল ব্যবহার করা হতো না তনুর সঙ্গে। প্রায় একবছর মামার বাড়িতে থাকার পর তনু যখন শ্বশুরবাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন, তখন আবারও অত্যাচার শুরু করেন সেখানকার লোকজন, এমনকি বাপের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে বা ফোনে কথা বলতেও দিতে না তারা, এমনই অভিযোগ করেছেন তনুর দিদি।
প্রীতি জানিয়েছেন, গত ২৩ এপ্রিল তাঁর বোনের শ্বশুরবাড়ির লোক জানিয়েছিল, তনু বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। অথচ তার কয়েকদিন আগে থেকেই ৯ এপ্রিল, বোনকে ফোন করে যোগাযোগ করতে পারেননি প্রীতি। তখন থেকেই দানা বাঁধে সন্দেহ। অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হন তনুর পরিবারের লোকজন। অভিযোগ, বেশ কিছু সপ্তাহ কেটে গেলেও পুলিশের তরফে তেমন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এখন তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কারা কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, কেন, কীভাবে তনুর এই পরিণতি হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।






















