Iran-US Conflict : 'আমেরিকা জ্বালানি কেন্দ্রগুলিকে টার্গেট করলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী', হুঁশিয়ারি ইরানের
West Asia Conflict : ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দফতর থেকে এমনই জানানো হয়েছে বলে সিএনএন-এর রিপোর্ট।

তেহরান : পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হওয়ার আশঙ্কা ! তাদের জ্বালানি কেন্দ্রে আমেরিকা বোমা নিক্ষেপের হুঁশিয়ার দিলে হরমুজ প্রণালীই "অনির্দিষ্টকালের" জন্য বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত ইরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দফতর থেকে এমনই জানানো হয়েছে বলে সিএনএন-এর রিপোর্ট।
যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের উত্তেজনার পারদ কমা তো দূর অস্ত, আরও বাড়ছে ! এই প্রেক্ষাপটে, ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ ইরানের ওপর যে কোনও ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, যদি দেশের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলি আক্রমণের শিকার হয়, তবে এই অঞ্চলের সামরিক বাজেট, জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় অর্থ জোগানদায়ী আমেরিকান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি তেহরানের টার্গেটের শিকার হবে। প্রসঙ্গত, গত শনিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী যাতায়াতের জন্য যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান খুলে না দেয় তাহলে ইরানের পরিকাঠামোয় বোমা নিক্ষেপ করা হবে। ইউএস সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর ভেতরে ও আশপাশে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি-স্বরূপ ইরানি নৌ টার্গেটগুলিকে ধ্বংস করছে।
এদিকে ট্রাম্পের হুমকির পর পরই আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে (IMO) নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি আলি মুসাভি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালী সবার জন্য বন্ধ নয়। তবে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো "শত্রু রাষ্ট্রগুলির" সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলি চলাচলের অনুমতি পাবে না। মুসাভি জানিয়েছেন, যেসব জাহাজ ইরানের শত্রু নয়, তারা তেহরানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা সমন্বয় করে চলে, তারা এই রুট ব্যবহার করতে পারবে। কেন এই হরমুজ প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ ? কারণ, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী বলা হয় এই প্রণালীকে। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এই পথ বন্ধ করার হুমকি দেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপোড়েনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বব্যাপী। এই পরিস্থিতিতে এমনও খবর সামনে এসেছে যে, এই জলপথের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। এই সংকীর্ণ জলপথ থেকে সুবিধা আদায়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে তারা। কিছু জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করলে তাদের ২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮.৮ কোটি টাকা) চার্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। ইরান ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য ও আইনপ্রণেতা আলাউদ্দিন বোরুজের্দি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)-কে জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের নতুন পদ্ধতির সূচনা করে ব্যাপক হারে টোল আদায় ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।






















