Pahalgam Attack : পহেলগাঁওকাণ্ডের পর পাকিস্তানে পাঠানো এই মহিলাকে কেন ফের দেশে ফেরাতে বলল আদালত?
জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নির্দেশ দেয়, ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার পর পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো ৬৩ বছর বয়সী এক মহিলাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

পহেলগাঁও হামলার পরেই প্রথম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রত্যাঘাত করেছিল ভারত। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের মাটি ছাড়তে হবে পাকিস্তানিদের। বেঁধে দেওয়া হয় সময়। পহেলগাঁও হামলার পর দেশে ফিরে পরপর বৈঠকে বসেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপর বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, পাকিস্তানিদের জন্য 'সার্ক' ভিসা বাতিল করা হল। সেই সঙ্গে বলে দেওয়া হয়, এসপিইএস ভিসার আওতায় থাকা সব পাকিস্তানিদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে বলা হয়। তার কিছুদিন পর ভারত সরকার পাকিস্তানিদের দেওয়া সবরকম ভিসাই বাতিল করে দেয়। সেই আবহে ভারতে বসবাস করা বহু পাকিস্তানিকে দেশ ছাড়তে হয় সরকারি নোটিশে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন দীর্ঘদিনেক ভারতের বাসিন্দা। যাঁরা এখানে বিরাট সংসারও পেতে ফেলেছিলেন। তেমনই এক পাকিস্তানী মহিলাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিল আদালত।
জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্ট একটি মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নির্দেশ দেয়, ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার পর পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো ৬৩ বছর বয়সী এক মহিলাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁর নাম রক্ষন্দা রশিদ। ওই মহিলা দীর্ঘমেয়াদী ভিসা বা এলটিভি-তে ৩৮ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন। তাঁর পরিবারও এখন এখানেই। আদালত এই মামলাটিকে বিরল মনে করে। পর্যবেক্ষণে জানায়, এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
কিন্তু কেন ? কেন পাক নাগরিক রক্ষন্দাকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে বলল আদালত। ৬ জুনের আদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ১০ দিনের মধ্যে তাকে দেশে ফিরে আসার অনুমতি দিতে বলে আদালত। সেই সঙ্গে ১ জুলাইয়ের মধ্যে compliance report দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রক্ষন্দাকে ফিরিয়ে আনার আবেদন করেছিলেন মেয়ে ফালাক জহুর। ওই মহিলার স্বামী শেখ জহুর আহমেদ আদালতকে জানান যে রক্ষন্দা অসুস্থ, তাঁকে পাকিস্তানে করার মতো কেউ নেই। সব শুনে বিচারপতি রাহুল ভারতী, আদেশ দেন, তাণকে যেন ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বিচারপতি তাণর পর্যবেক্ষণে জানান,
তিনি মনে করেন সবার উপরে মানবাধিকার। বলেন যে যেকোনো মূল্যে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আদালত মনে করে তাঁকে মানবিক কারণেই ফিরে আসতে দেওয়া উচিত।
আদালতের অর্ডার কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রক্ষন্দার স্বামী আহমেদ জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী একাধিক রোগে ভুগছেন । তাঁর জীবন ঝুঁকিতে আছে। সেখানে নিজেকেই নিজের দেখাশোনা করতে হচ্ছে। কারণ, পাকিস্তানে রক্ষন্দার কেউ নেই। এই পরিস্থিতিতে আদালত মনে করে,মানবাধিকার হল মানব জীবনের সবচেয়ে পবিত্র অঙ্গীকার এবং তাই আদালত ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে রক্ষন্দাকে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনানোর জন্য নির্দেশ দিচ্ছে।
পহেলগাঁও হামলার পর দীর্ঘমেয়াদী ভিসায় থাকা জম্মু ও কাশ্মীরের বসবাসকারী বহু পাক-নাগরিককে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে, তাঁদের অনেকের পরিবারই এখন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।






















