Ketan Murder Case : আগেও কেতনকে মারার চেষ্টা ? খাদে ফেলার আগে কী বলেছিলেন সিয়ার প্রেমিক?
Ketan Agarwal Murder Case : তদন্তে দাবি, আগেও একাধিকবার কেতনকে খাদে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। জেরায় একে অপরকে দোষ দিচ্ছেন সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরী।

পুণে: ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কেতনকে হত্যা কোনও হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করেই এই খুনের ছক কষা হয়েছিল। তবে জেরার মুখে দুই প্রধান অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী একে অপরের উপরই দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন।
'পালিয়ে গিয়ে নতুন জীবন চাইছিলাম', দাবি চেতনের
মানিকন্ট্রোলে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, তদন্তকারী সূত্রের খবর, জেরায় চেতন দাবি করেছেন, তিনি সিয়াকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিয়া নাকি মনে করতেন, তাঁর প্রভাবশালী পরিবার কিছুতেই কেতনের সঙ্গে বিয়ে ভাঙতে দেবে না। তাই কেতনকে সরিয়ে দেওয়াই একমাত্র উপায় বলে সিয়া জোর দিয়েছিলেন বলে দাবি চেতনের।
অন্যদিকে, সিয়ার বক্তব্য সম্পূর্ণ উল্টো। তাঁর দাবি, কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা প্রথম থেকেই চেতনের ছিল। এমনকি ১৪ জুনও তাঁকে মারার চেষ্টা করা হয়। যদিও তা ব্যর্থ হয়। সেইবার খুনের চেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর চেতন নাকি হতাশায় কেঁদেও ফেলেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
কেতনকে আগেও খাদে ফেলার চেষ্টা?
পুলিশের দাবি, ৩১ মে প্রথমবার কেতনকে খাদে ঠেলে ফেলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি একটি ঝোপ আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে যান। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই সময় সিয়া ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি নাকি কেতনকে বলেন, সামনে একটি সাপ দেখে তাঁকে বাঁচাতেই ধাক্কা দিয়েছিলেন। পরে উদ্ধার করারও অভিনয় করেন বলে অভিযোগ।
দ্বিতীয় পরিকল্পনা ভেস্তে যায়
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ৪ জুন আবার লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কেতনের মা তাঁকে যেতে বাধা দেওয়ায় সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। এরপরও সিয়া বারবার কেতনকে লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে কেতনের পরিবার।
শেষ পর্যন্ত ১৮ জুন...
পুলিশের অভিযোগ, ১৮ জুন সিয়া কেতনকে আবার লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন চেতন চৌধুরী। সুযোগ বুঝে দু'জনে মিলে কেতনকে পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে গভীর খাদে ফেলে দেন বলে অভিযোগ।
প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করা হলেও তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই পুলিশ হত্যার মামলা রুজু করে এবং সিয়া ও চেতনকে গ্রেপ্তার করে।
একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ
বর্তমানে জেরায় সিয়া ও চেতন দু'জনেই একে অপরকে এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী বলে দাবি করছেন। তবে তদন্তকারীদের বক্তব্য, সংগৃহীত ডিজিটাল প্রমাণ, কল রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্য থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে পুরো ঘটনাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, মামলাটি এখনও বিচারাধীন। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তদের আইনত নির্দোষ বলেই গণ্য করা হবে।























