Myanmar Earthquake Update: চারিদিকে ধ্বংসস্তূপ, লাশের সারি; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬০০-র বেশি; মায়ানমার-তাইল্যান্ডজুড়ে স্বজনহারাদের কান্নার রোল !
Earthquake Destruction: প্রথমে একটা তীব্র ঝাঁকুনি। আতঙ্ক কাটতে না কাটতে, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ঘরবাড়ি। ভেঙে পড়ল ব্রিজ। হুড়মুড়িয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল নির্মীয়মাণ বহুতল।

নয়াদিল্লি : চারিদিকে ধ্বংসস্তূপ । লাশের সারি। সময় যত গড়াচ্ছে তত বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শুধু মায়ানমারেই ভূমিকম্পের কারণে প্রাণ গেছে ১৬৪৪ জনের। শনিবার সন্ধের তথ্য অনুযায়ী, মায়ানমার ও তাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬০০। শনিবার সকালেই মায়ানমারের জুন্টা সরকার বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
প্রথমে একটা তীব্র ঝাঁকুনি। আতঙ্ক কাটতে না কাটতে, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ঘরবাড়ি। ভেঙে পড়ল ব্রিজ। হুড়মুড়িয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল নির্মীয়মাণ বহুতল। হোটেল, বহুতলের সুইমিং পুল থেকে চলকে পড়ল জল। ফেটে চৌচির হয়ে গেল রাস্তা। কয়েক সেকেন্ডের ভূমিকম্প তছনছ করে দিয়েছে মায়ানমার, তাইল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা।
কঠিন এই সময়ে অন্যান্য দেশের কাছে সাহায্য চেয়েছে মায়ানমারের জুন্টা সরকার। এক্স হ্যান্ডলে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, অপারেশন ব্রহ্মা চলছে। শনিবার সকালে ভারত থেকে প্রথম দফায় ১৫ টন ত্রাণসামগ্রী মায়ানমারের ইয়াঙ্গন বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।
উত্তরপ্রদেশের হিন্ডন বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার সি১৩০জে বিমানে ভারত থেকে পাঠানো হয়েছে- তাঁবু, কম্বল, ঘুমের ব্যাগ, খাবারের প্যাকেট, জেনারেটর। পাঠানো হয়েছে- হাইজিন কিট, প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক, সিরিঞ্জ, গ্লাভস, ব্যান্ডেজের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবারই মায়ানমার এবং তাইল্যান্ডের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছন - মায়ানমারে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানাই। ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রতিবেশী হিসেবে ভারত এই কঠিন সময়ে মায়ানমারের মানুষের পাশে আছে
ভারতীয় সময় শুক্রবার সকাল ১১টা ৫০-এ আচমকা কেঁপে ওঠে মায়ানমার। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির রিপোর্ট অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৭। প্রথম কম্পনের ১২ মিনিটের মাথায় ফের কম্পন! দ্বিতীয় কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৪! দ্বিতীয়বার ভূমিকম্পের ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ঘটে ফেপ কেঁপে ওছে মায়ানমানেরর মাটি। তৃতীয় কম্পনের মাত্রা ছিল ৫। কম্পনের উৎসস্থল বর্মা প্রদেশের ১২ কিলোমিটার উত্তরে মান্দালয় শহরে, মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে।
মায়ানমারে ভূমিকম্পের জেরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিবেশী তাইল্যান্ডও। জোরালো কম্পনে রাজধানী ব্যাঙ্ককে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ ৩০ তলা একটি বাড়ি।
কম্পন টের পাওয়া যায় কলকাতাতেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুক্রবার সকাল থেকে অন্তত ১৫ বার কেঁপেছে ভারতের পূর্ব দিকের প্রতিবেশী দেশের মাটি।
একাধিক আফটারশকেই মায়ানমারের বিপর্যয় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মায়ানমারে দু’টি সেতু ভেঙে গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মান্দালয় শহর।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তির চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপের চারপাশে উদ্বিগ্ন আত্মীয়স্বজনের ভিড়। ভূমিকম্পবিধ্বস্ত এলাকায় এখন শুধুই স্বজনহারাদের কান্নার রোল। হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা চলছে অসংখ্যা মানুষের।






















