Hydrogen Train : ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম, লাগবে না ডিজেল বা ওভারহেড তার! হাইড্রোজেন ট্রেনের বৈশিষ্ট্য কী?
মোদীর হাত ধরে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের উদ্বোধন, কেন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এই ট্রেন?

হরিয়ানায় চালু হল দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন। আজই হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত রুটের এই ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ১০ কোচের এই ট্রেনে একসঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।
হাইড্রোজেন ও বাতাসের অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় ট্রেনের ভেতরেই তৈরি হবে বিদ্যুৎ। প্রয়োজন হবে না ডিজেল বা কয়লারও। ফলে কার্বন নির্গমন প্রায় শূন্য। বদলে চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটি থেকে নির্গত হবে শুধু জলীয় বাষ্প, ফলে বায়ুদূষণের সম্ভাবনাও তলানিতে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ট্রেন ভারতের রেল পরিবহনের উন্নতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে জানিয়েছে ভারতীয় রেল।
ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা । শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হরিয়ানার জিন্দ স্টেশন থেকে এই ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। এর মাধ্যমে জার্মানি, জাপান, চিন এবং আমেরিকার মতো দেশগুলির সঙ্গে একি সারিতে দাঁড়াল ভারত। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে ছোটে এই ট্রেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'হরমুজ প্রণালীতে এখনও যুদ্ধ চলছে । আমাদের পেট্রোপণ্য হরমুজের মাধ্যমেই আসে। গত কয়েক মাসে যুদ্ধের কারণে পেট্রোল-ডিজেল আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব রেল পরিষেবায় পড়েনি। হরিয়ানায় রেল নেটওয়ার্কের পুরোটারই বৈদ্যুতিকীকরণ হয়ে গেছে'।
এই হাইড্রোজেন ট্রেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি চালাতে ডিজেল বা প্রচলিত জ্বালানির প্রয়োজন হয় না। পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি, যার ফলে ট্রেন চলার সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড বা ধোঁয়া নির্গত হয় না। বরং তৈরি হয় শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প এবং তাপ। ভারতের এই হাইড্রোজেন ট্রেনটি ১০ কোচের, যা বিশ্বের দীর্ঘতম হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেনগুলির মধ্যে অন্যতম। ট্রেনটি ৩,২০০ হর্সপাওয়ারের শক্তিশালী প্রপালশন সিস্টেম দ্বারা চালিত। রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনটির সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম। তবে জিন্দ-সোনিপত রুটে নিরাপত্তা ও ট্র্যাকের উপযোগিতা বিবেচনায় এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চলবে।
কীভাবে চলে এই হাইড্রোজেন ট্রেন?
এই ট্রেনের মূল শক্তি আসে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি থেকে। ট্রেনে সংরক্ষিত হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয় এবং সেই বিদ্যুৎ ট্রেনের মোটর চালায়। আরও একটি বড় সুবিধা হল, প্রচলিত বৈদ্যুতিক ট্রেনের মতো এই ট্রেন চালানোর জন্য ওভারহেড বিদ্যুতায়নের (OHE) প্রয়োজন হয় না। ট্রেনের ভেতরেই হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হওয়ায় এটি তুলনামূলকভাবে আরও কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধব।
নিরাপত্তায় বিশেষ জোর
হাইড্রোজেন ব্যবহারের কারণে নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রেনটিতে হাইড্রোজেন লিক, অতিরিক্ত তাপ, আগুন ও ধোঁয়া শনাক্ত করার জন্য বহুস্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে।
বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত
এই ট্রেন চালুর মাধ্যমে জার্মানি, জাপান, চিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের সেই অল্প কয়েকটি দেশের তালিকায় নাম লেখাবে ভারত, যেখানে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন পরিষেবা চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ভারতীয় রেলের কার্বন নির্গমন কমাতে এবং সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হাইড্রোজেন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এই প্রকল্প দেশের টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।























