Tax Share of States: করের টাকায় রাজ্যের ভাগ কমাতে পারে কেন্দ্র, নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা
Narendra Modi Government: এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে উদ্ধৃত করেছে রয়টার্স।

নয়াদিল্লি: করবাবদ যে রাজস্ব আয় হয়, তা থেকে রাজ্যগুলির ভাগ কমতে পারে। কেন্দ্রের কোষাগারে অতিরিক্ত টাকা রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই মর্মে শীঘ্রই অর্থ কমিশনের কাছে সুপারিশ জমা পড়তে চলেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে কোন অনুপাতে করবাবদ আয়ের টাকা ভাগ হবে, তা অর্থ কমিশনই ঠিক করে। (Tax Share of States)
এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে উদ্ধৃত করেছে রয়টার্স। তারা জানিয়েছে, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সুপারিশপত্র জমা দেবেন অর্থনীতিবিদ অরবিন্দ পানাগরিয়া। সুপারিশে অনুমোদন মিললে ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষ থেকে করবাবদ আয়ে রাজ্যগুলির ভাগ কমে যাবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক এবং অর্থ কমিশন এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু জানায়নি। (Narendra Modi Government)
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে করবাবদ আয়ে রাজ্যগুলি ৪১ শতাংশ ভাগ পায়। আপাতত সেই ভাগ কমিয়ে ৪০ শতাংশ করতে চায় কেন্দ্র। মার্চ মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সেই মর্মে প্রস্তাব অনুমোদন হতে চলেছে। এর পর সেই সুপারিশ পাঠানো হবে অর্থ কমিশনে। আপাতদৃষ্টিতে ১ শতাংশ বেশি মনে না হলেও, রাজ্যগুলির ভাগ যদি ১ শতাংশ কমে, তাতে কেন্দ্রীয় রাজকোষে বাড়তি ৩৫০০ কোটি টাকা জমা পড়বে। তবে প্রতিবছর করবাবদ আয়ে ওঠাপড়া লেগে থাকে। সেই অনুযায়ী টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
১৯৮০ সাল করবাবদ আয়ে রাজ্যগুলির ভাগ যেখানে ২০ শতাংশ ছিল, তা বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ৪১ শতাংশে এসে পৌঁছেছে। দিল্লি সূত্রে জানা যাচ্ছে, অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ বেড়েছে। এর ফলে মোট অভ্য়ন্তরীণ উৎপাদনের নিরিখে ২০২৪-’২৫ সালে কেন্দ্রের রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে ৪.৮ শতাংশ হয়েছে। সেই নিরিখে রাজ্যগুলির রাজস্ব ঘাটতি ৩.২ শতাংশ। তাই করবাবদ আয়ে রাজ্যের ভাগ কমানোর কথা ভাবছে কেন্দ্র।
শুধু তাই নয়, হাতে হাতে নগদ তুলে দেওয়া, ঋণ মাফ করে দেওয়া এবং খয়রাতি খাতে রাজ্যগুলি যাতে ইচ্ছে মতো খরচ না করতে পারে, তার জন্যও কেন্দ্রের তরফে পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গত কয়েক বছর ধরেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে টাকা আটকে রাখার অভিযোগ উঠছে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্য বার বার প্রাপ্য টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে।
দেশের অর্থনীতিতে খরচের সাপেক্ষে রাজ্যগুলির যোগদান ৬০ শতাংশ। বিভিন্ন রাজ্যের সরকার মূলক সামাজিক পরিকাঠামো-স্বাস্থ্য, শিক্ষাখাতে খরচ করে। সেই নিরিখে কেন্দ্রের সরকার সবচেয়ে বেশি খরচ করে অন্য পরিকাঠামোয়। কিন্তু ২০১৭ সালে পণ্য ও পরিষেবা কর চালু হওয়ার পর থেকে রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধিও সীমিত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অতিমারির সময় থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার সেস এবং সারচার্জ বৃদ্ধি করেছে, যা রাজ্যগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয় না। এমতাবস্থায় কোন খাতে খরচ বেশি হবে, কোন খাতে কম, তা নিয়ে রাজ্যগুলির দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টে গিয়েছে।






















