এক্সপ্লোর
রকেটে ব্যবহৃত সামগ্রী, প্রযুক্তি দিয়ে হৃদপিণ্ডের পাম্প তৈরি করল ইসরো

নয়াদিল্লি: মানব-শরীরে রকেট যন্ত্রাংশের প্রয়োগ! অবাক মনে হলেও এটাই সত্যি। সম্প্রতি, রকেটে ব্যবহৃত সামগ্রী ও দেশীয় প্রযুক্তির সাহায্যে একটি কৃত্রিম হৃদপিণ্ড তৈরি করার প্রায় দোড়গোড়ায় চলে এসেছেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র বিজ্ঞানীরা। মেড-ইন-ইন্ডিয়া লেফট ভেন্ট্রিকেল নামের ওই ছোট্ট যন্ত্রটির ওজন প্রায় ১০০ গ্রাম। বিজ্ঞানীদের মতে, হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের রোগীদের বিশেষভাবে উপকারে আসতে পারে এই যন্ত্রটি। জানা গিয়েছে, বর্তমানে পশুদের ওপর যন্ত্রটির পরীক্ষা-নিরিক্ষা চালানো হচ্ছে। যদি এই পরীক্ষা সফল হল, তাহলে মানবদেহেও এর প্রয়োগ করা হবে। ইসরোর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই যন্ত্রটি বায়ো-কম্প্যাটিবল টাইটানিয়াম অ্যালয় (যা দিয়ে রকেট নির্মাণ হয়) দিয়ে তৈরি। এটি প্রতি মিনিটে ৩ থেকে ৫ লিটার রক্ত শরীরে পাম্প করতে সক্ষম। এধরনের বিদেশ থেকে আমদানি করা কৃত্রিম হৃদপিণ্ডের দাম পড়ে কয়েক কোটি টাকা। সেখানেই ইসরোর তৈরি এই যন্ত্রের দাম পড়বে মাত্র ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। সম্প্রতি, একটি সর্বভারতীয় চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের অধিকর্তা কে শিবণ জানিয়েছেন, রকেট তৈরিতে ব্যবহৃত সামগ্রী, পদ্ধতি ও বৈদ্যুতিন প্রযুক্তির মিশেলে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়েছে। মেটালার্জিস্ট, ইলেকট্রলিক ইঞ্জিনিয়ার, ফ্লো মেকানিক্স ও কনডাকশন স্পেশালিস্ট নিয়ে গঠিত প্রায় ২৪ জনের দল গত ৬ বছর ধরে নিরন্তর প্রয়াস করে এই যন্ত্র নির্মাণ করেছে। তিনি জানান, বর্তমানে শুকরের শরীরে এই যন্ত্র অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই যন্ত্র কাজে আসবে। তাঁর মতে, কৃত্রিম হৃদযন্ত্রের সহজলভ্য বিকল্প হিসেবে এই যন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করেন শিবণ। ইসরোর চেয়ারম্যান কিরণ কুমার জানান, রকেট প্রযুক্তি বা কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তি কী ভাবে মানব-শরীরের উপকারে আসতে পারে, এই যন্ত্রই তার সবচেয়ে বড় নিদর্শন। তিনি বলেন, এই যন্ত্র একটি হৃদপিণ্ডের একটি বাই-পাস পাম্পিং সিস্টেম হিসেবে কাজ করবে।
Before You Go
CM Suvendu Adhikari: পুরুলিয়ায় আজ করম উৎসবে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী | ABP Ananda





















