Balochistan Train Hijack: পাকিস্তানে যাত্রী সমেত ট্রেন হাইজ্যাক, বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি, নিহত ৬ পাক সৈনিক
Pakistan Train Hijack: মঙ্গলবার বালুচিস্তানের বোলান জেলায় Jaffar Express হাইজ্যাক করে BLA.

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের বালুচিস্তান সীমানায় হাইজ্যাক করা হল ট্রেন। ৫০০ যাত্রী-সহ পাকিস্তানে ট্রেন ছিনতাই করল দেশের বিচ্ছিন্নতাকামী সংগঠন Baloch Liberation Army. পাক সরকার যদিও ওই সংগঠনকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবেই গণ্য করে। ৫০০-র মধ্যে শতাধিক যাত্রীকে BLA পণবন্দি করেছে বলে খবর। পণবন্দি হওয়া যাত্রীদের মধ্যে পাক সেনা-সহ সাধারণ মানুষ রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ট্রেন হাইজ্যাক করার দায় স্বীকার করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। পাক সেনার বেশ কয়েক জন রয়েছেন ট্রেনে। রেললাইনে বিস্ফোরক রেখে গোটা ট্রেনটিকে হাইজ্যাক করা হয় বলে খবর। গুলিতে কিছু যাত্রী আহত হয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে। (Pakistan Train Hijack)
শুধু তাই নয়, সেনা অভিযান চালিয়ে পণবন্দিদের উদ্ধারের চেষ্টা করলে, গোটা ট্রেনই উড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে BLA. দু'পক্ষের সংঘর্ষে ছয় পাক সৈনিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি বালোচ লিবারেশন আর্মির। (Balochistan Train Hijack)
মঙ্গলবার বালুচিস্তানের বোলান জেলায় Jaffar Express হাইজ্যাক করে BLA. ট্রেনে প্রায় ৫০০ যাত্রী রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যাত্রীদের সকলকেই পণবন্দি করেছে BLA. পাকিস্তান সেনা অভিযান চালাতে এলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ট্রেন উড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। ট্রেনটি কোয়েট্টা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার যাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে প্রথম গুলিবৃষ্টি করা হয়। এর পর হাইজ্যাক করা হয় ট্রেনটিকে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম Dawn জানিয়েছে, ট্রেনটির নয়টি কামরায় প্রায় ৫০০ যাত্রী ছিলেন। বালুচিস্তান প্রদেশ সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, পেহরো কুনরি এবং গাদালরের মাঝে ট্রেনটিকে হাইজ্যাক করা হয়। এলোপাথাড়ি বৃষ্টি চালানো হয় ট্রেন লক্ষ্য করা হয়। চালককে বাধ্য করা হয় ট্রেন থামাতে।
পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, বালুচিস্তানের সিবি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স রওনা দিয়েছে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে। অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি, আকাশে চক্কর দিতে শুরু করেছে সেনা ও বায়ুসেনার বিমান-কপ্টার। কিন্তু যেখানে ট্রেনটিকে পণবন্দি করা হয়েছে, সেটি একটি পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানে পৌঁছনো কঠিন। রেলের তরফে ওই এলাকার কাছাকাছি আরও ট্রেন মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে উদ্ধারকার্যে সুবিধা হয়।
বালুচিস্তান প্রদেশ সরকার সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখতে আবেদন জানিয়েছে। এই সময় গুজবে কান দিতে নিষেধ করা হয়েছে সকলকে। কোয়েট্টার সরকারি হাসপাতালেও জরুরি অবস্থার ঘোষণা হয়েছে। ছুটি বাতিল করে সমস্ত চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক্যাল কর্মীকে হাসপাতালে পৌঁছতে বলেছে সরকার। সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লঞ্জর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, "দেশ বিরোধী এই জঘন্য আচরণ, সমাজ বিরোধী মানসিকতাকে বাড়তে দেওয়া হবে না।" গুলিতে যাত্রীরা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এর আগে, গত বছর অক্টোবর মাসে পাকিস্তান রেলের তরফে কোয়েট্টা থেকে পেশোয়ারের মধ্যে নতুন করে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় দেড় বছর পরিষেবা বন্ধ থাকার পর ওই রুটে ফের শুরু হয় ট্রেন চলাচল। কিন্তু গত কয়েক মাসে বালুচিস্তানের পরিস্থিতিতর অবনতি ঘটেছে ক্রমশ। গত বছর ডিসেম্বর মাসে কোয়েট্টা স্টেশনে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা, যাতে ২৬ জন মারা যান, আহত হন ৬২ জন। জানুয়ারি মাসে Pak Institute for Peace Studies-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৪ সালে বালুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা এতটাই বেড়েছে যে ২০১৪ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা যায়। বেশ কিছু অঞ্চল জঙ্গিদের হাতছাড়া হলেও, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানে তাদের উপস্থিতি উদ্বিগ্ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে যত সন্ত্রাসী হামলা হয়, তার ৯৫ শতাংশই খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানে ঘটে।
বালুচিস্তানে সন্ত্রাসী কাজকর্ম এবং নাশকতামূলক হামলার নেপথ্যে একাধিক সংগঠনের নাম উঠে এসেছে। সেই তালিকায় রয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মি, Balochistan Liberation Front. iগত বছর বালুচিস্তানে ১৭১টি এমন ঘটনা ঘটে, অর্থাৎ নাশকতামূলক হামলার ঘটনায় ১১৯ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয় Pak Institute for Peace Studies-এর রিপোর্টে।






















