ফের প্রকাশ্যে জঙ্গি-ঘনিষ্ঠতা? স্বাধীনতা দিবসে হেভিওয়েট লস্কর জঙ্গির কবরে শ্রদ্ধা পাক সেনা-পুলিশের শীর্ষকর্তাদের, দাবি
পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে,পাকিস্তানের সেনা - পুলিশের উচ্চপদস্থরা ছুটলেন লস্কর জঙ্গির কবরে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে। সেই ছবি প্রকাশ্যে।

পাকিস্তান যতবারই নিজেদের সন্ত্রাসবাদবিরোধী হিসেবে বিশ্বের কাছে দাবি করেছে, প্রমাণ তার উল্টো কথা বলেছে। নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির সাথে পাকিস্তানের গভীর সম্পর্কের একের পর এক দলিল প্রকাশ্যে এসেছে । অপারেশন সিঁদুরে ভারত সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর, মৃতদের মর্যাদা সহকারে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিল পাকিস্তান। লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) জঙ্গিদের কবরে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে এসেছিল পাকিস্তান সেনার ঊর্ধ্বতনরা। আবারও সেই জঙ্গিপ্রীতি স্পষ্ট করল পাকিস্তান। ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে, লাহোর ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল রাও ইমরান সারতাজ, ফেডারেল মন্ত্রী মালিক রশিদ আহমেদ খান, জেলা পুলিশ অফিসার কাসুর মুহাম্মদ ঈসা খান এবং ডেপুটি কমিশনার ইমরান আলি ছুটলেন লস্কর জঙ্গির কবরে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে । ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদনে দাবি এমনটাই। একটি প্রামাণ্য ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে আর্টিকলটির সঙ্গে। এবিপি লাইভ যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি।
ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদনে দাবি, ১৯৯৯ সালের আইসি-৮১৪ বিমান ছিনতাই এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে জড়িত লস্কর-ই-তৈবার হেভিওয়েট মেম্বার মুদাসিরের কবরে ফুল দিতে ছুটে গেলেন পাকিস্তানের সেনা - পুলিশের উচ্চপদস্থরা। ভারতীয় সেনা যখন লস্কর-ই-তৈবার মূল ঘাঁটিতে আঘাত হানে, তখনই মারা যায় এই মুদাসির। মুদাসির আহমেদ ছাড়াও, ভারতীয় সেনার প্রত্যাঘাতে ইউসুফ আজহার এবং আব্দুল মালিক রউফ সহ বহু মোস্ট-ওয়ান্টেড লস্কর জঙ্গিই নিকেশ হয়। এরা প্রত্যেকেই ভারতের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলাগুলোর মূল মাথা ছিল।
গত ৭ মে মুরিদকেতে কুখ্যাত জঙ্গি মুদাসিরের শেষকৃত্য হয়। তার নেতৃত্বে ছিল লস্কর-ই-তৈবা কমান্ডার আব্দুল রউফ । এই আব্দুল , আবদুর রউফ নামেও পরিচিত। রউফকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্লোবাল টেররিস্ট বলে চিহ্নিত করেছে আগেই। এই সব কুখ্যাত জঙ্গিদের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পাঞ্জাব পুলিশের আধিকারিকদের। তার প্রমাণ এখন সারা বিশ্বের নজরে।
অপারেশন সিঁদুরের পরও নিহত জঙ্গিদের ঘটা করে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাজির ছিলেন পাক সেনা এবং পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। পরে সাংবাদিক বৈঠকে সেই সব পাক আধিকারিকদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করে ভারত। সেই তালিকায় পুলিশের আইজি থেকে শুরু করে সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল, অনেকের নামই ছিল। তালিকায় পাক সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফায়াজ হোসেন শাহ থেকে শুরু করে মেজর জেনারেল রাও ইমরান সরতাজ সহ অনেকের নামই ছিল। ছিল পঞ্জাব পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেলের নামও। এই সব ছবিই সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণের সুস্পষ্ট প্রমাণ।






















