Inder Singh Parmar: রাজা রামমোহন রায় ‘ইংরেজদের দালাল’! BJP-র মন্ত্রীর মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, পবিত্র সরকারের
Ram Mohan British Agent Remarks: রামমোহন সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি-র মন্ত্রীর।

কলকাতা: রাজা রামমোহন রায়কে 'ইংরেজদের দালাল' বলে উল্লেখ। 'ভুয়ো সমাজ সংস্কারক' বলেও কটাক্ষ। মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী, বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা, ইন্দ্র সিংহ পারমারের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়। বিরোধীরা একযোগে সরব হয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধে। এবার মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাবিদরাও। রামমোহন সম্পর্কে কিছু না জেনে, তাঁকে নিয়ে আলটপকা মন্তব্য না করাই কাম্য বলে জানালেন তাঁরা। (Ram Mohan British Agent Remarks)
বিজেপি-র মন্ত্রীর রামমোহন-মন্তব্য় নিয়ে এবিপি আনন্দে প্রতিক্রিয়া জানান, সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "বালখিল্যের মতো কথা। ওরা ভাল করে জানে না। না জেনেশুনেই এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। এগুলি দুর্ভাগ্য়জনক। কারণ রামমোহন রায় শুধুমাত্র বাংলার নয়, গোটা ভারতের মস্ত বড় চিন্তাবিদ ছিলেন। অত বড় মাপের মানুষ সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্য বালখিল্যপনা, হাস্যকর।" (Inder Singh Parmar)
শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার এ নিয়ে কোনও আলোচনাই চলে না বলে জানান। তাঁর বক্তব্য, "এ নিয়ে মন্তব্য করার মতো মেজাজ সত্যিই নেই আমার। শুধু এটুকুই বলছি, আজকাল মন্ত্রী হতে যে শিক্ষিত হওয়ার দরকার নেই, ডিগ্রি থাকলেও যে শিক্ষিত হওয়া যায় না, মন্ত্রীদের এই সব মন্তব্যেই তা প্রমাণিত। ফলে এ সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্যের দরকার নেই। রামমোহন কী ছিলেন, তা উনি জানেন না।"
राजा राममोहन राय अंग्रेजों के दलाल थे यह कहना है मध्य प्रदेश के उच्च शिक्षा मंत्री इंदर सिंह परमार का सवाल ये है क्या सती प्रथा के खिलाफ लड़ना अंग्रेजों की दलाली थी? @GargiRawat @alok_pandey @manishdekoder pic.twitter.com/EwBP6kG4Nn
— Anurag Dwary (@Anurag_Dwary) November 15, 2025
রামমোহন সম্পর্কে এমন মন্তব্যে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই ফুঁসে উঠেছেন। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র ভূপেন্দ্র গুপ্ত বলেন, "ওঁর এই মন্তব্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। ওঁর ইতিহাস জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ আছে।" রামমোহন যে সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেছিলেন, তাও কি ইংরেজদের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্রের গোত্রে পড়ে কি না, বিজেপি-র কাছে জানতে চান তিনি। একসময় ইংরেজদের দালাল হিসেবে যারা কাজ করেছিল, তারা আজ যা ইচ্ছে তা বলে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন ভূপেন্দ্র।
তৃণমূলের তরফেও এ নিয়ে আক্রমণ শানানো হয়েছে। দলের নেতা অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "রাজা রামমোহন না কি ইংরেজদের দালাল? কারা বলছে? যারা নিজেরা ইংরেজদের দালালি করেছে, ব্রিটিশদের কাছে মুচলেকা দিয়ে অনুরক্ত থাকার অঙ্গীকার করেছে। কাকে বলছে? বাঙালির অন্যতম সেরা সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহনকে গালিগালাজ? এটাই বিজেপি, এটাই ওদের চরিত্র। তাই ওদের বহিরাগত জমিদার বলি, যারা বাংলার সংস্কৃতি জানে না, বাংলার মাটি চেনে না, রামমোহনের অবদান জানে না। আমার রাম রামমোহন রায়, আমার ঈশ্বর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, আমার ঠাকুরের নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যারা এই অস্মিতার বুকে আঘাত হানতে চাইবে, বাংলা তাদের বার বার মনে করিয়ে দেবে, তুমি ব্রিটিশের কাছে মুচলেকা দিয়েছিলে সাভারকর, তোমার দালালির জন্য বিপ্লবীরা ধরা পড়ত, ব্রিটিশের কাছে খোচরগিরি করতে তোমরা, RSS, হিন্দুসভা।"
বিতর্কের সূচনা বিরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকে। সেখানে ইন্দ্র সিংহকে বলতে শোনা যায়, “বাংলা…ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে দেশের মানুষের আস্থা বদলানোর দুষ্কর্ম চলছিল। দেশের কিছু মানুষকে ভুয়ো সমাজ সংস্কারক বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল ইংরেজরা, যার মধ্যে রাজা রামমোহন রায়ও শামিল ছিলেন। উনিও ইংরেজদের দালাল হিসেবেই কাজ করছিলেন দেশে। ধর্মান্তরণের যে কুচক্র চালিয়েছিলেন, তা আটকানোর সাহস যদি কেউ দেখিয়ে থাকেন, তিনি ছিলেন বিরসা মুন্ডা। আদিবাসী সমাজকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি।”
ইন্দ্র সিংহ আরও দাবি করেন, ইংরেজদের জমানায় মিশনারি স্কুলের মাধ্যমে ধর্মান্তরণের কুচক্র চালানো হতো। ইংরেজদের সমর্থন করতেন কিছু মানুষ। সমাজ সংস্কারের নামে তাঁরা ধর্মান্তরণের কাজে যুক্ত ছিলেন। বিরসা মুন্ডা আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতি ও পরিচয় বাঁচানোর লক্ষ্যে নিজের প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দেন। মন্ত্রী আরও দাবি, বিরসা মুন্ডা মিশনারি স্কুলে পড়তে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু গতিবিধি বুঝতে পেরে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন।






















