Bangladesh Election : মোদির উদ্দেশে ঘৃণা বার্তা, উগ্র ভারতবিরোধী ভাষণ, তবুও বাংলাদেশে ভোটে হারলেন সারজিস আলম
ছাত্রনেতাকে ভোটে জেতাল না বাংলাদেশ। পঞ্চগড় ১ আসনে পরাজিত উগ্র ভারত বিরোধী জামাত জোট প্রার্থী সারজিস আলম।

ঢাকা : তাঁর রন্ধ্রে রন্ধ্রে চরম ভারত বিদ্বেষ। 'ভারতের দালালরা হুঁশিয়ার, সাবধান' - বলে বারবার হুঙ্কার ছেড়েছিলেন। সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম করে বিষোদ্গার করেছিলেন বাংলাদেশের ছাত্রনেতা সারজিস আলম। তিনি জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদকও বটে। এই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা বারবার হাসিনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণ্য ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। সেই ছাত্রনেতাকে ভোটে জেতাল না বাংলাদেশ। পঞ্চগড় ১ আসনে পরাজিত উগ্র ভারত বিরোধী জামাত জোট প্রার্থী সারজিস আলম।
বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল ‘এখন TV’-তে এক ভাষণে জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা হাসিনার দেশছাড়ার সঙ্গে তুলনা টানেন সেন বংশের রাজা লক্ষ্ণণ সেনের। সারজিস বলেন, লক্ষ্মণ সেন পালিয়ে এসেছিল বিক্রমপুরে। আর হাসিনা পালিয়েছে আগরতলা। বাংলাদেশের ছাত্রনেতার মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের মানুষ উগ্র সাম্প্রদায়িক মোদী বিরোধী। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়লে কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন বাংলাদেশের ছাত্রনেতা। সেই ছাত্রনেতারও জয়ের স্বপ্ন হল শেষ। উগ্র জাতীয়তাবাদী বুলিতে ভেজাতে পারলেন না চিঁড়ে। অবশেষে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হারলেন এই জামাত নেতা।
অন্যদিকে ঢাকায় জয়ী হয়েছে BNP-র হিন্দু প্রার্থী গয়েশ্বরচন্দ্র রায়। ঢাকা ৩ আসনে জয়ী হয়েছেন তিনি। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় সাড়ে ১৬ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন। গণনা যতই এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে বিএনপি-র জয়ের ছবিটা। বাংলাদেশের ভোটগণনায় জামাতকে বহু পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়ে BNP জোট। এই ট্রেন্ড একেবারে গণনার শুরু থেকেই। প্রথম আলো সূত্রে খবর, ২৯৯ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়ী হয়েছে BNP জোট । খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬, ২টি আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন । প্রায় দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে দু'দশক পর সরকারে গড়তে চলেছে BNP। তারেকের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসা শুধু সময়ের অপেক্ষা। অনেক পিছিয়ে থেকে ১০০-র নীচে থামতে হয়েছে মূল প্রতিপক্ষ জামাত-জোটকে। জামাতের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ে সেভাবে দাগই কাটতে পারেনি না ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা NCP।
এখন প্রশ্ন, BNP জোটের জয়ের পর অরাজকতার সেই ছবিটা কী বদলাবে? পদ্মাপারের দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে?























