Shimla Heatwave : প্রকৃতির এ কী খেলা! গরমে ফুটছে শৈলশহর শিমলা, গলছে পাহাড়ের বরফ, ফুঁসছে নদী
শৈলশহর শিমলা ও তার পার্শ্ববর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে এমন গরম, কল্পনাতেও ভাবতে পারেন না কেউ !

এ যেন উলটপুরাণ। প্রবল গরমের হাত থেকে বাঁচতে যে সব শৈলশহরে মানুষ ভিড় জমান, সেখানেই বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। শীতের শহর শিমলায় এখন লেপ কম্বল ট্রাঙ্কে উঠেছে। কোথাও কোথাও পাখার আরামও যথেষ্ট নয় মনে হচ্ছে। সমতল থেকে পাহাড় পর্যন্ত লু-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন রেকর্ড ভাঙছে তাপমাত্রা । মঙ্গলবার রাজ্যের পাঁচটি প্রধান জেলা , উনা, হামিরপুর, বিলাসপুর, কাংড়া এবং মান্ডিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। এই মান্ডিতেই মানুষ বরফ দেখতে যান। এর মধ্যে উনায় ছিল সব সবচেয়ে বেশি গরম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। হামিরপুরের নেরিতে তাপমাত্রা ৪৩.৩ ডিগ্রি, বিলাসপুরে ৪০.৮ ডিগ্রি, কাংড়া এবং মান্ডিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। শৈলশহর শিমলা ও তার পার্শ্ববর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে এমন গরম, কল্পনাতেও ভাবতে পারেন না কেউ !
শিমলাতে এই মরশুমে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ দিনে তাপমাত্রা ২৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এটা স্বাভাবিকের থেকে ৪ ডিগ্রি বেশি। মানালিতে প্রথমবার তাপমাত্রা ৩১.২ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি। লাহুল-স্পিতি-র কেলং-এর মতো স্থানের মানুষ জানেনই না গরমকাল কী ! সেখানেও তাপমাত্রা ২৫.৯ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৯ ডিগ্রি বেশি । মঙ্গলবার রাজ্যের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৩.৯ ডিগ্রি বেশি ছিল।
আবহাওয়া দফতর আগামী দুদিনের জন্য উনা, হামিরপুর, বিলাসপুর এবং কাংড়া জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। সূর্যের তাপ এত বেশি যে, মানুষকে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে। হিমাচলের পার্বত্য এলাকাগুলির মানুষ দরদর করে ঘামছেন। শিমলা, মানালি, ডালহৌসি, কুফরির মতো শৈত্যপ্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা চলছে।
লাহুল-স্পিতিতে দ্রুত বরফ গলছে
লাহুল-স্পিতিতেও স্বাভাবিকের থেকে তিন থেকে চার ডিগ্রি বেশি । গলতে শুরু করেছে পর্বতশিখরের বরফ। এর জেরে জলস্তর বেড়েছে পাহাড়ি নদীগুলির। আবহাওয়া দফতর মনে করছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় হওয়ার জন্য ১৩, ১৪ এবং ১৫ জুন রাজ্যে বিভিন্ন অংশে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে বজ্রপাত এবং ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে তীব্র হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ জুন এই প্রভাব আরও ব্যাপক হতে পারে। ১৬ জুন পর্যন্ত কিছু স্থানে বৃষ্টিও হতে পারে।






















