মোথাবাড়ি কাণ্ড নিয়ে শুরু রাজনৈতিক তরজা ! ফিরহাদ বলেন 'মানুষের চিন্তা', সুকান্ত বলেন 'TMC'র উস্কানি'
Malda Mothabari Incident: মোথাবাড়ি কাণ্ডে ফিরহাদ জানান, 'মানুষের চিন্তা, আমি ভারতের নাগরিক, আমাদের ভোটাধিকার চলে গেল'। সুকান্ত বলেন, 'এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের ১ সেকেন্ডের উস্কানি'।

মালদা: SIR-এ নাম নেই, এই অভিযোগেই শুরু হয় তাণ্ডব। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি। দফায় দফায় চলে প্রতিবাদ। ভাঙচুর চালানো হয় গাড়িতে, লাগানো হয় আগুনও। আটকে রাখা হয় জুডিশিয়াল অফিসারদের। এই ঘটনার জেরে শোরগোল পড়ে যায় গোটা বাংলায়।
মোথাবাড়ির এই ভয়ঙ্কর ঘটনাকে নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেয় সুপ্রিম কোর্টও। রাজ্যের মুখ্যসচিব, DGP, DM, SP-কে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়। CBI বা NIA-কে দিয়ে গোটা বিষয়টি তদন্ত করানো হবে এবং তার রিপোর্ট সরাসরি জমা দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় রাজনৈতিক উত্তেজনা। মোথাবাড়ির ঘটনাকে নিয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, '' মানুষের চিন্তা, আমি ভারতের নাগরিক, আমাদের ভোটাধিকার চলে গেল, নাম ডিলিট হয়ে গেল, এরপর আমার কী হবে? এরপর ভারতবর্ষে আমার অস্তিত্ব কী? চিন্তাটা বুঝতে হবে।'' ''নিশ্চই অপরাধ হয়েছে অফিসারদের সাথে এটা করে। কিন্তু মানুষের চিন্তা, যার নাম বাদ যায়, তার চিন্তাটা বোঝার চেষ্টা করুন। আমার পাড়াতেও কিছুজনের নাম বাদ গেছে। তারা এসে আমার হাত ধরে বলছে দাদা আমরা এবার কোথায় যাব। আমি জবাব দিতে পারছিনা যে কোথায় যাবে। ''
এই ঘটনা নিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ''আমরা যে ঘটনা দেখলাম টিভির পর্দায়, সেটা ভয়ঙ্করতম ঘটনা। বিচারপতিদের যে ভাবে আটকে রাখা হয়েছে শুধু তাই নয়, যখন এই জেলার SP মহিলা বিচারপতিদের উদ্ধার করে যখন বাইরে বার করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই সময় তাঁদের গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে আটকানোর চেষ্টা করা হয়, গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এবং এর থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ঠিক বাম আমলে যেভাবে অনিতা দেওয়ান-কে গাড়ি থেকে নামিয়ে, পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল, ঠিক একই ভাবে মহিলা বিচারপতিদের হেনস্থা করার চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। আর এই পুরো ঘটনাটি ঘটেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের ১ সেকেন্ডের উস্কানিতে। এই এক সেকেন্ডের মহড়া তৃণমূল দেখাচ্ছে বাংলার মানুষকে, বাংলার হিন্দুদেরকে। ''
মোথাবাড়ির ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, 'রাজ্যের সচিব পর্যায়ের আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। আমরা এখান থেকে প্রশাসনকে বলার পরে কাজ হল। রাজনৈতিক নেতারা কী করছিলেন?' অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি আরও বলেছেন, 'সব থেকে দুর্ভাগ্যজনক হল আপনার রাজ্যে সব কিছু নিয়ে রাজনীতি হয়। আদালতের নির্দেশ মানার ক্ষেত্রেও রাজনীতি হয়।'
























