Power of Governor: অনন্তকাল বিল আটকে রাখা ‘বেআইনি’, ‘স্বেচ্ছাচারিতা’, রাজ্যপালকে ক্ষমতা স্মরণ করাল সুপ্রিম কোর্ট
Supreme Court: তামিলনাড়ু বিধানসভায় পাস হওয়া ১০টি বিল রাজ্যপাল রবি আটকে রেখেছেন বলে আদালতে মামলা হয়েছিল।

নয়াদিল্লি: বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতে বার বার রাজ্য বনাম রাজ্যপাল সংঘাত দেখা গিয়েছে। সেই আবহেই রাজ্যপালের ক্ষমতার এক্তিয়ার নিয়ে যুগান্তকারী রায় দিল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। তামিলনাড়ুর এমকে স্ট্যালিন সরকার এবং রাজ্যের রাজ্যপাল আরএন রবির মধ্যে যে টানাপোড়েন, সেই নিয়েই বিশেষ মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত। রাজ্য বিধানসভায় পাস হয়ে যাওয়া বিলগুলি আটকে রাখা নিয়ে রাজ্যপালকে তাঁর ক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, রাজ্য বিধানসভায় বিল পাস হওয়ার পর রাজ্যপাল তা আটকে রাখতে পারেন না। (Power of Governor)
তামিলনাড়ু বিধানসভায় পাস হওয়া ১০টি বিল রাজ্যপাল রবি আটকে রেখেছেন বলে আদালতে মামলা হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই নিয়ে শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জেবি পর্দিওয়ালা এবং আর মহাদেবনের বেঞ্চ বলে, “রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর কথা যে ১০টি বিলকে, সেগুলি রাজ্যপাল যেভাবে আটকে রেখেছেন, তা বেআইনি এবং স্বেচ্ছাচারিতা। রাজ্যপালের সেই পদক্ষেপ বাতিল করা হল। রাজ্যপালের কাছে পুনরায় যেদিন বিল পাঠানো হয়, সেই দিল থেকেই বিলগুলি পাস হয়ে গিয়েছে বলে ধরা হবে।” রাজ্যপালের উদ্দেশ্য ‘সৎ’ নয় বলেও মন্তব্য করেছে আদালত। (Supreme Court:)
আদালতের নির্দেশে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্ট্যালিন। এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক রায়। শুধুমাত্র তামিলনাড়ুর জন্যই নয়, ভারতের সমস্ত রাজ্যের জন্য এই রায় ঐতিহাসিক। রাজ্যের স্বতন্ত্রতা রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ধরে রাখতে DMK লড়াই চালিয়ে যাবে’। বিধানসভায় পুনরায় বিল পাস হওয়ার পর যখন পাঠানো হয় বিলটি, সেই সময়ই বিলটি রাজ্যপালের ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল বলে জানিয়েছে আদালত।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০০-তে বলা আছে, বিধানসভায় বিল পাস হওয়ার পর রাজ্যপাল বিলে অনুমোদন দিতে পারেন, ফেরত পাঠাতে পারেন, আবার রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর জন্য সংরক্ষিতও রাখতে পারেন। পাশাপাশি, বিলটি বিধানসভায় পুনরায় বিবেচনার জন্য পাঠাতে পারেন তিনি। কিন্তু পুনরায় বিধানসভায় যদি বিল পাস হয়, সেক্ষেত্রে বিলটি আর আটকে রাখতে পারেন না রাজ্যপাল। সংবিধানের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ মনে না হলে, জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী মনে হলে বিলটিকে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর জন্য সংরক্ষিত রাখতে পারেন তিনি।
সেই নিরিখে এদিন আদালত জানায়, অনির্দিষ্ট কালের জন্য বিল আটকে রাখতে পারেন না রাজ্যপাল।বিলে ছাড়পত্র দেওয়া হোক বা রাষ্ট্রপতির জন্য বিল সংরক্ষণ, অথবা বিধানসভায় ফেরত পাঠানো, তিন মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। রাজ্য বিধানসভায় পুনরায় বিলটি পাস হলে, সেক্ষেত্রে এক মাসের মধ্যে বিলটি ছেড়ে দিতে হবে রাজ্যপালকে। অনুচ্ছেদ ২০০ অনুযায়ী, রাজ্যপালের কাজকর্ম পর্যালোচনার এক্তিয়ার আছে আদালতের। রাজ্যপালের ক্ষমতাকে খাটো করা হচ্ছে না, কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতিনীতি মেনেই রাজ্যপালকে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতিরা।
তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রবি একসময় CBI আধিকারিক ছিলেন। ২০২১ সালে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল নিযুক্ত হন। সেই থেকে স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে লাগাতার সংঘাত বেঁধেছে তাঁর। বিল আটকে রাখা নিয়ে স্ট্যালিন সরকার সরব হলে, রবি জানান, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সম্মতি দেওয়া বা না দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে দিয়েছে সংবিধান। শুধু তাই নয়, বিধানসভায় রাজ্যপালের সম্ভাষণ নিয়েও বিরোধ শুরু হয়। জাতীয় সঙ্গীত কেন গাওয়া হল না, সেই প্রশ্ন তুলে গতবছর বিধানসভা থেকে বেরিয়েও যান রাজ্যপাল রবি। তামিলনাড়ুর নিজস্ব রাজ্যসঙ্গীত রয়েছে। অধিবেশনের শুরুতে সেটি গাওয়া হয়, শেষে গাওয়া হয় জাতীয় সঙ্গীত। কিন্তু রাজ্যপাল রবি দাবি করেন, অধিবেশনের শুরু এবং শেষে, দু'বারই জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হবে। ২০২৩ সালে তিনি বক্তৃতা করতই রাজি হননি। রাজ্য খসড়ায় 'মিথ্যে দাবি' করেছে বলে দাবি করেছিলেন। ২০২২ সালে আবার বক্তৃতায় বিআর অম্বেডকর, পেরিয়ারের নাম এবং 'দ্রাবিড় মডেল' শব্দটি উচ্চারণে রাজি হননি।






















