'মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছেন মমতা, সাইবার আইনে পদক্ষেপ করা হোক', ' দিল্লিতে পরিযায়ী হেনস্থা' নিয়ে আক্রমণে শুভেন্দু
মালদার পরিযায়ী পরিবারকে হেনস্থার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর, সাজানো ভিডিওর তত্ত্ব দিল্লি পুলিশের। মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছেন, আক্রমণ শুভেনদুর। সাইবার আইনে পদক্ষেপ চান বিরোধী দলনেতা।

বিজেপি শাসিত রাজ্য়গুলিতে বাংলায় কথা বললেই হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগে সরব তৃণমূল। বাঙালি অস্মিতায় শান দিয়ে ভিন রাজ্যে বাঙালি হেনস্থার অভিযোগ তুলে ২৮ জুলাই বীরভূমে পথেও নামেন তিনি। শুধু পরিযায়ী শ্রমিক নন, ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের শিশু সন্তানকে অত্যাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী পোস্ট করেন, দিল্লিতে শুধুমাত্র পরিযায়ী শ্রমিক নয়, তাঁদের শিশু সন্তানকেও অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে। এই বিষয়ে একটি ভিডিও-ও শেয়ার করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেই ভিডিওকে ভিত্তিহীন এবং তৈরি করা, ফেক বলে দাবি করল দিল্লি পুলিশ । দিল্লি পুলিশের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত, সাজানো ভিডিও। শুধু এখানেই থামেনি দিল্লি পুলিশ। এই বিষয়ে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছে তারা।
দিল্লি পুলিশের দাবি, মালদার রাজনৈতিক কর্মী তথা এক আত্মীয়ের কথাতেই এই ভিত্তিহীন ভিডিও বানানো হয়েছে। এই ভিডিও তৈরি করে ওই রাজনৈতিক কর্মীকে পাঠানো হয়। বলে দাবি দিল্লি পুলিশের। তারপরই সেই ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়া হয়। অর্থাৎদিল্লিতে সাদা পোশাকের পুলিশের হাতে হেনস্থা, ২৫ হাজার চাওয়ার দাবি সর্বৈব মিথ্যে ! দিল্লি পুলিশের DC-র দাবি , জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই স্বীকার করেছেন অভিযোগকারী মহিলা। কালিমালিপ্ত করতেই এই ধরনের ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছে দিল্লি পুুলিশ।
আর তারপরই দিল্লি পুলিশের এই ব্যাখ্যাকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে আক্রমণ শানান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'গুজবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মিথ্যে খবর ছড়াচ্ছেন। গুজব রটানোর মাস্টার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়'। শুভেন্দুর দাবি, বেশকয়েকদিন ধরে লাগাতার ভুয়ো ভিডিও পোস্ট করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লিতে মা-শিশুর ওপর অত্যাচারের বিষয়টিকে মুখ্যমন্ত্রীর মিথ্যাচার বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, 'জেনে গিয়েছে জনতা, মিথ্যেবাদী মমতা'। মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট করা ভিডিও ভুয়ো বলে দাবি করে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগটি কী?
মালদার চাঁচলের পিরোজাবাদের এক দম্পতি, সন্তান সহ দিল্লির গীতা কলোনিতে থাকেন। অভিযোগ, বাংলাদেশের নাগরিক সন্দেহে শনিবার শিশুর মাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। সেইসময় দেড় বছরের শিশু আহত হয়। ওই পরিবারের কাছ থেকে দিল্লি পুুলিশ মোটা অঙ্কের টাকাও চায় বলে অভিযোগ। পরে শিশুর মা--বাবাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টের পর ফের মা-বাবা, ঠাকুমা ও শিশুদের তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। চাঁচল থানায় অভিযোগ দায়ের করে পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার। রাতে শ্রমিকের বাড়িতে যান চাঁচল থানার IC. সেই অভিযোগ নিয়েই এই তরজা।






















