দিল্লিতে এবার নতুন সমীকরণ? ভেঙে চুরচুর তৃণমূল, সেই সময়ই অভিষেক ছুটলেন কার কাছে?
টালমাটাল পরিস্থিতিতে দিল্লিতে বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ( Rahul Gandhi )।

নয়াদিল্লি : তৃণমূল কংগ্রেসে ফের বড় রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। 'টালমাটাল বললেও কম বলা হয়। ঝড়ের মুখে কার্যত চুরচুর হয়ে ভাঙল তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গে মমতাপন্থী-তৃণমূলের তরী একেবারেই ডুবন্ত। অন্যদিকে দিল্লিতে বুধবার বড় ধাক্কায় খেল তৃণমূল। এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব। সেই সঙ্গে ছাড়লেন তৃণমূলের সব পদও। দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ সুশ্মিতা দেব। চলতি সপ্তাহে তিনিই দ্বিতীয় তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ, যিনি দলীয় পদ ছাড়লেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আর সটান চলে গেলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠক করতে। এমন টালমাটাল পরিস্থিতিতে দিল্লিতে বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ( Rahul Gandhi )। ১০ জনপথে হওয়া এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এই বৈঠকের মাত্র একদিন আগেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee ) সাক্ষাৎ করেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর ( Sonia Gandhi ) সঙ্গে। সূত্রের খবর, বিরোধী জোট INDIA-কে আরও শক্তিশালী করা এবং আগামী রাজনৈতিক কৌশল নিয়েই আলোচনা হয়েছে দুই নেত্রীর মধ্যে।
অন্যদিকে ২০২১ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন সুস্মিতা। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হিসেবে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। ইস্তফার পর তিনি জানিয়েছেন, জীবনের “নতুন অধ্যায়” শুরু করতে চলেছেন এবং জনসেবার ক্ষেত্রেই কাজ চালিয়ে যাবেন। সুখেন্দু শেখর রায়ের পর সুস্মিতার ইস্তফা, নিঃসন্দেহে তৃণমূলের কাছে বিরাট ধাক্কা। ইস্তফার পরেই অসমের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কাছে গিয়েছেন সুস্মিতা দেব । তাহলে তি সুস্মিতা যোগ দিচ্ছেন অসম বিজেপিতে? সাক্ষাৎ ঘিরে রাজধানীতে তুমুল জল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বিরোধী ঐক্য জোরদারের চেষ্টা, অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরেই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পদত্যাগ— এই দুই ঘটনাই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে সুশ্মিতা দেবের পদত্যাগের সময়কাল নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। আগামী দিনে সুশ্মিতা দেব কোন রাজনৈতিক পথে হাঁটেন এবং INDIA জোটে তৃণমূল-কংগ্রেস সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।























