এক্সপ্লোর
পঞ্চায়েত ভবনের সামনে শৌচকর্ম, মধ্যপ্রদেশে দুই দলিত নাবালককে লাঠিপেটা করে খুন, গ্রেফতার ২
শিবপুরির পুলিশ সুপার রাজেশ চান্দেল বলেছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ অনুচ্ছেদ ও তফসিলি জাতি ও উপজাতি নিগ্রহ রোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। তারা গ্রেফতারও হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করেছে, কোনও কুসংস্কার বা অস্পৃশ্যতার জেরেই এই খুন কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে।

নয়াদিল্লি: প্রকাশ্যে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করায় মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায় দুটি দলিত ছেলেমেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল। বুধবার সকালের মর্মান্তিক, ভয়াবহ ঘটনাটি জেলার ভাবখেড়ি গ্রামের। স্থানীয় পুলিশ ইনস্পেক্টর আর এস ধকড়কে উদ্ধৃত করে একথা জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা। নিহতদের শনাক্ত করা হয়েছে ১২ বছরের রোশনি ও ১০ বছরের অবিনাশ বলে। পুলিশ জানিয়েছে, পঞ্চায়েত ভবনের সামনে শৌচকর্ম করায় আপত্তি তুলে তাদের লাঠিপেটা করে কয়েকজন। শৌচকর্মের সময় মোবাইল ফোনে তাদের ছবি তোলা হয় বলেও অভিযোগ। জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা দুই নাবালককে মৃত ঘোষণা করেন। মারধরে যুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে, ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ধকড়। অপরাধীরা নিহতদের গ্রামেরই বাসিন্দা। শেষ খবর, তাদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। জুলাইয়ের গোড়ায় মধ্যপ্রদেশের নিমাচ জেলায় ময়ূর চুরির সন্দেহে ৫৮ বছরের এক প্রৌঢ়কেও উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে বলে অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। একটি সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের একজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, শয়তানদের খতম করো, ঈশ্বরের এই নির্দেশই পালন করেছে সে। শিবপুরির পুলিশ সুপার রাজেশ চান্দেল বলেছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ অনুচ্ছেদ ও তফসিলি জাতি ও উপজাতি নিগ্রহ রোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। তারা গ্রেফতারও হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করেছে, কোনও কুসংস্কার বা অস্পৃশ্যতার জেরেই এই খুন কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে। রাজ্যে শাসক কংগ্রেস সরকার সম্প্রতি গণপিটুনি রোধে বিল পেশ করেছে বিধানসভায়। প্রস্তাবিত আইনে মধ্যপ্রদেশ গোবংশ বধ প্রতিষেধ আইন, ২০০৪-এ সংশোধনের কথা রয়েছে। চলতি আইনের উদ্দেশ্য গোহত্যা দমন। সংশোধনের মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যারা গো-বাছুর হত্যা, গোমাংস কাছে রাখা বা বধ করার জন্য গরু যানে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো অপরাধে অভিযুক্ত বা অভিযুক্ত হতে পারে, এমন লোকজনকে মারধর বা তাদের সম্পত্তি যারা ভাঙচুর ও নষ্ট করবে, তাদের ন্যূনতম কারাবাসের মেয়াদ ৬ মাস থেকে বেড়ে এক বছর, সঙ্গে জরিমানা হতে পারে। বেআইনি জমায়েত থেকে লোকজন একই অপরাধ করলে ন্যূনতম শাস্তির মেয়াদ বেড়ে এক বছর, সর্বোচ্চ ৫ বছর হবে।
খবর (News) লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য দেখুন এবিপি লাইভ। ব্রেকিং নিউজ এবং ডেলি শিরোনাম দেখতে চোখ রাখুন এবিপি আনন্দ লাইভ টিভিতে
আরও পড়ুন






















