UN Warning on Weather: ভারতের আবহাওয়া নিয়ে বড় সতর্কতা রাষ্ট্রপুঞ্জের, কী কী বিপদের আশঙ্কা করছে?
এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, 'পৃথিবী আগুনে পুড়ছে'। এর জেরে ভারতের বর্ষা, কৃষি ও জলবায়ুর উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে WMO।

নয়া দিল্লি: বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এবার সেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর সতর্কবার্তা, পৃথিবী এমন এক জলবায়ুগত সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে যেখানে শক্তিশালী এল নিনো (El Niño) পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের বর্ষা, কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার উপর।
গুতেরেস বলেন, "দু মাস আগে বলেছিলাম এল নিনো আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। এখন তা ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েছে এবং এমন এক পৃথিবীতে আরও আগুন জ্বালাচ্ছে, যা আগে থেকে জ্বলছিল।" তাঁর মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার এই সঙ্কটকে আরও তীব্র করে তুলছে এবং বিশ্ব এখন "অজানা জলবায়ুগত পরিস্থিতি"-র দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-র সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, অগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও আবার তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বর্ষার সম্ভাবনা বেড়েছে, যা কৃষি উৎপাদন, জলসম্পদ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে খরা, দাবানল এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে বলে সতর্ক করেছে WMO।
গুতেরেস আরও বলেন, চলতি বছরই বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, বিধ্বংসী দাবানল এবং সমুদ্রের অস্বাভাবিক উষ্ণতা দেখা গিয়েছে। তাঁর দাবি, এগুলি কেবল শুরু। এল নিনো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অর্থনীতি ও খাদ্য উৎপাদনের বড় অংশ এখনও বর্ষার উপর নির্ভরশীল। তাই বর্ষা দুর্বল হলে কৃষি, পানীয় জল, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং মূল্যস্ফীতির উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে সরকারগুলিকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া, দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।























