US-China trade deal : বিরাট সিদ্ধান্ত নিল চিন, আমেরিকা, ৩ মাস আর নয় শুল্ক-সংঘাত
US-China trade deal : আগামী ৯০ দিন, চিনে মার্কিন পণ্যের উপর ১০ শতাংশ আরোপিত হবে। আর আমেরিকায় চিনের পণ্যের উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকবে।

দফায় দফায় আলোচনার পর বড় সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকা। শীতলতা কাটতে শুরু করল চিন ও আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্কে। আপাতত ৯০ দিনের জন্য দুই দেশই একে অপরের উপর পারস্পরিক শুল্কের হার ১১৫ শতাংশ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’। দুই দেশ জেনেভায় দুই দিন ব্যাপী দীর্ঘ বৈঠকের পর এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
উভয় দেশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী ৯০ দিন, চিনে মার্কিন পণ্যের উপর ১০ শতাংশ আরোপিত হবে। আর আমেরিকায় চিনের পণ্যের উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকবে।
আমেরিকা চিন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর শুল্ক ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছিল। এর ফলে বেশ বিপাকে পড়ে আমেরিকাই। চিনও আমেরিকার মাটি থেকে বাণিজ্য সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবতে শুরু করে। ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা করতে শুরু করেন ট্রাম্প। এই জটিল পরিস্থিতির জট ছাড়াতে শনিবার থেকে সুইৎজ়ারল্যান্ডে চলছিল আমেরিকা ও চিনের আলোচনা। এই আলোচনার ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মসৃণ হবে বলে মনে করছেন ট্রাম্প।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, দুই দেশ পরস্পরের উপর আরোপিত শুল্ক প্রায় ১১৫ শতাংশ কমাতে চলেছে। এই ৯০ দিনের মধ্যে চিনা পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক ১৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হবে। অন্যদিকে চিনও একইভাবে আমেরিকান পণ্যের উপর শুল্ক ১২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ রাখবে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি চিনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে বলে জানিয়েছেন। দুই দেশ একে অপরের ভাবনাকে সম্মান করেছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, এটা মাথায় রাখতে হবে, আমরা কীভাবে এত তাড়াতাড়ি চুক্তিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে পেরেছি । এটাই প্রমাণ করে, আমেরিকা ও চিনের মধ্যে মতের পার্থক্য তেমন কিছু বেশি ছিল না।
ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই কানাডা, মেক্সিকো এবং চিনের পণ্যের উপর বেশি শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন । আমেরিকা-চিন বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়তে শুরু করে। শুধু এই তিন দেশ নয়, ভারত-সহ অন্যান্য দেশের উপরও রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চাপানোর কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। শুল্ক বাড়ে চিনা পণ্যের উপরেও। পাল্টা শুল্ক চাপায় চিনও। একে অপরের ওপর ধাপে ধাপে একে অন্যের উপর শুল্ক বাড়াতেই থাকে। পরে অন্য দেশগুলির উপর শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করলেও চিনকে এই তালিকা থেকে বাদই রেখেছিল হোয়াইট হাউস।
আমেরিকা ও চিনের মধ্যে যে শুল্ক-যুদ্ধ চলছিল, তার ফলে বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজার টালমাটাল হয়ে গিয়েছিল। মন্দার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। আমেরিকা ও চিনের এই সিদ্ধান্তে আপাতত কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।






















