Zohran Mamdani: ট্রাম্পের ‘যুদ্ধনীতি’র বিরুদ্ধে সরব জ়োহরান মামদানি, ভেনিজুয়েলা নিয়ে দেশের অন্দরেই চাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু
US Attacks Venezuela: ভেনিজুয়েলায় যে পদক্ষেপ করেছে আমেরিকা, গোড়াতেই তার নিন্দা করেছেন মামদানি।

নয়াদিল্লি: রাতারাতি ভেনিজুয়েলায় দখলদারি কায়েম করেছে আমেরিকা। দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ফার্স্টলেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে আমেরিকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই নিয়ে দেশের অন্দরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জায়গায় জায়গায় ইতিমধ্য়েই প্রতিবাদ, বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সেই আবহেই ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখ খুললেন নিউ ইয়র্কের নবনিযুক্ত মেয়র, ভারতীয় বংশোদ্ভুত জ়োহরান মামদানি।
ভেনিজুয়েলায় যে পদক্ষেপ করেছে আমেরিকা, গোড়াতেই তার নিন্দা করেছেন মামদানি। নিজের আপত্তির কথা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর। কোনও রকম রাখঢাক না করেই ভেনিজুয়েলায় আমেরিকার পদক্ষেপকে তিনি ‘Act of War’ বা ‘যুদ্ধনীতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। ভেনিজুয়েলায় আন্তর্জাতিক আইন যেমন লঙ্ঘিত হয়েছে, তেমনই দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনও লঙ্ঘিত বলে মন্তব্য করেছেন জ়োহরান।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জ়োহরান জানান, ফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। ভেনিজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপ এবং সরকার উল্টে দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন তিনি। জ়োহরান বলেন, “ফোনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বসেছি। সরাসরি নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছি ওঁকে। একটি দেশের সরকার বদলে চেওয়ার প্রচেষ্টা, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার যে আকাঙ্খা, তার বিরোধিতা করেছি।”
ট্রাম্পের কাছে নিজের মতামত তুলে ধরার পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়াতেও মুখ খোলেন জ়োহরান। তিনি লেখেন, ‘ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে, নিউ ইয়র্কে কারাবন্দি রাখার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয় আমাকে। একতরফা ভাবে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রকে এভাবে আক্রমণ করা যুদ্ধনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। সরকার উল্টে দেওোয়ার এই নির্লজ্জ প্রচেষ্টা শুধুমাত্র অন্য দেশে বসবাসকারীদেরই প্রভাবিত করে না, নিউ ইয়র্কের সাধারণ মানুষের উপরও এর প্রভাব প্রভাব পড়বে। কারণ নিউ ইয়র্কে ভেনিজুয়েলার হাজার হাজার মানুষ রয়েছেন, যাঁরা এই শহরকে নিজেদের ঘরবাড়ি মনে করেন। তাঁদেরএবং শহরের প্রত্যেক বাসিন্দার নিরাপত্তাই আমার কাছে প্রাধান্য পাবে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে এবং সেই মতো নির্দেশিকা মেনে চলবে’।
I was briefed this morning on the U.S. military capture of Venezuelan President Nicolás Maduro and his wife, as well as their planned imprisonment in federal custody here in New York City.
— Mayor Zohran Kwame Mamdani (@NYCMayor) January 3, 2026
Unilaterally attacking a sovereign nation is an act of war and a violation of federal and…
সরকার পরিবর্তনের এই নির্লজ্জ প্রচেষ্টা কেবল বিদেশের মানুষদেরই প্রভাবিত করে না, এটি সরাসরি নিউ ইয়র্কের বাসিন্দাদেরও প্রভাবিত করে, যার মধ্যে হাজার হাজার ভেনিজুয়েলানও রয়েছেন যারা এই শহরকে নিজেদের বাড়ি বলে মনে করেন। আমার প্রধান লক্ষ্য হলো তাদের এবং নিউ ইয়র্কের প্রতিটি বাসিন্দার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং আমার প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকবে ও প্রাসঙ্গিক নির্দেশনা জারি করবে।
তবে শুধুমাত্র জ়োহরানই নন, ওয়াশিংটনেও ট্রাম্পের পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষও সমালোচনায় সরব হয়েছেন। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। শিকাগোতে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন। নিউ ইয়র্কেও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিৎজকারও ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘ভেনিজুয়েলায় যে অসাংবিধানিক সামরিক পদক্ষেপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাতে আমাদের সেনারই ক্ষতি। আমেরিকার সাধারণ মানুষের এমন একজন প্রেসিডেন্ট প্রাপ্য, যিনি তাঁদের জীবনকে সহজতর করে তোলার কথা ভাববেন’।
শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন লেখেন, ‘গত দু’বছর ধরে বলে আসছি যে, ভেনিজুয়েলা থেকে আগত অভিবাসীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ এবং সমস্ত অভিবাসীদের সঙ্গেই যে চরম দক্ষিণপন্থী আচরণ করা হচ্ছে, তাতে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় সামরিক পদক্ষেপের রাস্তা তৈরি হচ্ছে। দেশের অন্দরে অভিবাসীদের প্রতি ট্রাম্প সরকারের অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা করছি আমি। একই ভাবে বিদেশে সরকার উল্টে দেওয়ারও তীব্র নিন্দা করছি’।
ডেমোক্র্যাট সেনেটর ট্যামি ডাকওয়র্থ লেখেন, ‘ভেনিজুয়েলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া এবং অসাংবিধানিক অভিযান, বিদেশি রাষ্ট্রনেতার গ্রেফতারির সঙ্গে আইন কার্যকর করার কোনও সম্পর্কই নেই। কারণ তেমনটা হলে কংগ্রেসের থেকে বিষয়টি লুকোতে হতো না তাঁকে। মাদুরো অবশ্যই খারাপ, কিন্তু কোনও প্রেসিডেন্টের সরকার উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা নেই’।






















