Donald Trump: পরমাণু শক্তিসম্পন্ন সাবমেরিন পাঠালেন ট্রাম্প, এবার কি সম্মুখসমরে আমেরিকা ও রাশিয়া? প্রহর গোনা শুরু
US-Russia Conflict: নয় নয় করে গত সাড়ে তিন বছর ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে।

নয়াদিল্লি: ঠান্ডাযুদ্ধ ছেড়ে এবার কি সরাসরি সংঘাতের পথে? আমেরিকা এবং রাশিয়ার সম্পর্ক ফের তেতে ওঠার আশঙ্কা। কারণ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার রাশিয়ার কাছাকাছি পরমাণু শক্তিসম্পন্ন সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিলেন। রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রে মেদভেদেভের উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরেই এমন পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন তিনি। (Donald Trump)
নয় নয় করে গত সাড়ে তিন বছর ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। অবিলম্বে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে বলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লাগাতার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার উপর আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। আর এবার সরাসরি পরমাণু শক্তিসম্পন্ন সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিলেন। (US-Russia Conflict)
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, "রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদবেদেভ যে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন, তাতে উপযুক্ত স্থানে পরমাণু শক্তিসম্পন্ন দু'টি সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছি আমি। মূর্খের মতো যে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন উনি, তার চেয়ে বেশি যাতে কিছু না হয়, সেই জন্যই এমন সিদ্ধান্ত।"
US President Donald Trump posts, "Based on the highly provocative statements of the Former President of Russia, Dmitry Medvedev, who is now the Deputy Chairman of the Security Council of the Russian Federation, I have ordered two Nuclear Submarines to be positioned in the… pic.twitter.com/vpkjdWwvkZ
— ANI (@ANI) August 1, 2025
ট্রাম্প আরও বলেন, "শব্দচয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কখনও কখনও তার ফল চরম হয়। আশাকরি, এক্ষেত্রে তেমন পরিস্থিতি হবে না।" কিন্তু রুশ ভূখণ্ডের কাছাকাছি পরমাণু শক্তিসম্পন্ন সাবমেরিন কেন মোতায়েনের নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প? তাঁর জবাব, "রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়েছেন। আমরা আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করব।"
ট্রাম্পের এই ঘোষণা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি পেন্টাগন এবং আমেরিকার নৌবাহিনী। তবে সামরিক অভিযান হোক বা গোপন অভিযান, আমেরিকার সেনা কখনওই এমন কোনও তথ্য সচরাচর প্রকাশ করে না নিরাপত্তার স্বার্থে। ঠিক কোথায় সাবমেরিন মোতায়েন করা হয়েছে, তা এখনও খোলসা হয়নি।
তবে হঠাৎ করে এতদূর জল গড়াল না। গত কয়েক মাস ধরেই রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। প্রথম বার যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন ট্রাম্প, সেই সময় পুতিনের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথা বার বার খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিত। দ্বিতীয় দফার গোড়ার দিকেও সেই সমীকরণ তেমন পাল্টায়নি। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে কোথাও না কোথাও তাল কেটেছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়া যুদ্ধ না থামালে, রাশিয়াকে তার মাশুল গুনতে হবে বলে বার বার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যই ট্রাম্প রাশিয়াকে থামাতে চাইছেন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে ট্রাম্প যে সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিলেন, তার জন্য তিনি নিজেই প্রাক্তন রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রির কিছু মন্তব্যকে দায়ী করেছেন। গত কয়েক দিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প এবং দিমিত্রির মধ্যে বাগযুদ্ধ চলছিল। যুদ্ধবিরতির জন্য ৮ অগাস্ট দিনটি বেঁধে দেন ট্রাম্প। কিন্তু আগের মতোই, এবারও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির কোনও ইঙ্গিত দেননি পুতিন। তাই ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে মেদভেদেভ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'প্রত্যেকটি হুঁশিয়ারি যুদ্ধের দিকে এক ধাপ করে এগিয়ে দেবে'। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে 'নাটুকে', 'রাশিয়ার কিছু যায় আসে না' বলেও বার বার দাবি করেন তিনি। বৃহস্পতিবার দিমিত্রি ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে 'Dead Hand' বলে উল্লেখ করেন, যা আসলে রাশিয়ার প্রত্যাঘ্যাতমূলক পরমাণু প্রযুক্তির কোডনেম বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা।
২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন দিমিত্রি। তাই তাঁর ওই মন্তব্য নিয়ে কাটাছেঁড়া হতে সময় লাগেনি। আর তার পরই রাশিয়ার কাছাকাছি পরমাণু শক্তিসম্পন্ন সাবমেরিন মোতায়েনের কথা সকলকে জানালেন ট্রাম্প। রাশিয়া এবং আমেরিকা,দুই দেশই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র। পৃথিবীতে যত পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, তার সিংহভাগই দুই দেশের দখলে। পরমাণু শক্তিসম্পন্ন সাবমেরিনও রয়েছে দুই দেশের কাছে। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এবার অন্যতম দুই মহাশক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে কি না, উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণা নিয়ে রাশিয়ার তরফে সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।






















