ফিস্টে চিকেন-পনির খাওয়ার পর থেকেই মারাত্মক অসুস্থ ১৫০ পড়ুয়া, ভয়ঙ্কর বিষক্রিয়া, হাসপাতালে প্রাণ বাঁচানোর লড়াই
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাটেল ভবন হস্টেলে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের প্রায় ১৮৫ জন ছাত্র থাকেন। বুধবার রাতে মেসে বিশেষ ডিনারের আয়োজন করা হয়েছিল

নয়া দিল্লি: উত্তরাখণ্ডের উদম সিং নগর গোবিন্দ বল্লভ পন্থ কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (GB Pant University) বড়সড় খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। হস্টেলের মেসে পরিবেশিত খাবার খাওয়ার পর প্রায় ১৫০ জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে দু'জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাটেল ভবন হস্টেলে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের প্রায় ১৮৫ জন ছাত্র থাকেন। বুধবার রাতে মেসে বিশেষ ডিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। নিরামিষভোজীদের জন্য পনির ও নান এবং আমিষভোজীদের জন্য চিকেন, নান ও ভাত পরিবেশন করা হয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বহু ছাত্রের বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়। আক্রান্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হোস্টেল কর্তৃপক্ষ হোস্টেল ম্যানেজার, ওয়ার্ডেন এবং ডিন স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার (ডিএসডব্লিউ)-কে বিষয়টি জানায়।
পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স এবং একটি বাসের সাহায্যে অসুস্থ পড়ুয়াদের হাসপাতালে পাঠায়। অধিকাংশ ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে দু'জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের রুদ্রপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, মেসে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। ছাত্রদের একাংশের দাবি, এর আগেও একাধিকবার খাবারে পোকামাকড় পাওয়া গিয়েছিল এবং সেই নিয়ে অভিযোগও জানানো হয়েছিল। খাদ্যের মান নিয়ে অতীতেও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন যে, মেস পরিচালক নিম্নমানের খাদ্য উপাদান ব্যবহার করছিলেন। তারা দাবি করেন যে, এর আগেও দুইবার খাবারে পোকামাকড় পাওয়া গিয়েছিল। এই অভিযোগগুলো সত্ত্বেও মেস পরিচালককে বদলানো হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর আগে ওই পরিচালকের ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপ করেছিল
ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য দফতর গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। রেজিস্ট্রারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হাসপাতালে পৌঁছেছেন। ঘটনাটি তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।






















