Commonwealth weightlifting Championships: বাবার স্বপ্নপূরণ করল ছেলে, কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয় বাংলার অনীকের
Anik Mudi: বাড়িতেই গড়েছিলেন আখড়া। ২০১৯ সাল থেকে বিগত ছয় বছর ধরে অনীককে নিজেই প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন বাবা শ্রীকান্ত মুদি।

সুনীত হালদার, কলকাতা: সে এখনও স্কুলের গণ্ডি টপকায়নি, এখনও সাবালক নয়। বয়স মাত্র ১৭ বছর। তবে এই বয়সেই গোটা রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছে অনীক মুদি (Anik Mudi)। আমদাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়া কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে (Commonwealth weightlifting championships) সোনার পদক জিতেছে সে। পাঁচলার দেউলপুরে অনীকের গ্রামে এই খবর পৌঁছতেই গোটা গ্রামে বইছে খুশির হাওয়া।
পাঁচলার দেউলপুরের গোলুই পাড়ায় থাকেন প্রাক্তন জাতীয় ভারোত্তোলক শ্রীকান্ত মুদি। বেশ কয়েকবার তিনি জাতীয় প্রতিযোগিতায় পদক জিতেছিলেন। খেলার সূত্রেই তিনি রেলেও চাকরি পান। তবে তারপর আর বেশিদূর এগোতে পারেননি। কিন্তু স্বপ্ন দেখতেন তাঁর ছেলে বড় কিছু করে দেখাবে। সেই লক্ষ্যেই বাড়িতেই তিনি ওয়েটলিফটিং এর আখড়া তৈরি করেছিলেন। ২০১৯ সাল থেকে বিগত ছয় বছর ধরে অনীককে নিজেই প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন শ্রীকান্ত বাবু। বাবাকে কোচ হিসাবে পেয়ে অনীকও দ্রুত এগোতে থাকে। জেলার এবং রাজ্যের একাধিক প্রতিযোগিতায় সোনার পদক জয় করে। এ বছরের জুন মাসে পাতিয়ালা জাতীয় শিবিরে নির্বাচিত হয় অনীক। চলে আরও কঠোর অনুশীলন। সেই অনুশীলন কাজেও দেয়।
আমদাবাদে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৬৫ কেজি বিভাগে ২৩৮ কেজি ওজন তুলে সোনার পদক জিতে নেয় টিনএজ ভারোত্তোলক। এরমধ্যে সে স্ন্যাচে ১০৩ কেজি এবং ক্লিন ও জারকে ১৩৫ কেজি ওজন তোলে। ঘরের ছেলে যখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ওজন তুলতে ব্যস্ত তখন বাবা-মা, ঠাকুমা এবং গ্রামের প্রতিবেশীদের চোখ টিভির পর্দায়। পোডিয়ামে তার গলায় সোনার পদক ঝুলতেই খুশির হওয়া গোটা পরিবারে।
মায়ের স্বপ্ন ছেলে অলিম্পিক্সে খেলবে। অনীকের মা পুষ্প মুদি বলেন, 'ছেলেকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে। আমরা খুব খুশি। গোটা গ্রামের মানুষ আনন্দে মিষ্টি খেতে এসেছে। আমার স্বপ্ন ও অলিম্পিক্সে খেলবে।' এখন গোটা পরিবার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কখন ঘরের ছেলে ঘরে ফেরে। অনীক মাংসের বিভিন্ন পদ এবং মিষ্টি খেতে ভালোবাসে। ছেলে ঘরে এলে মা সেই পদ গুলোই রাঁধবেন বলে ঠিক করে রেখেছেন। বর্তমানে অনীক গ্রামেরই একটি স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আরেক আত্মীয় বিশ্বজিৎ মুদি বলেন, 'গ্রামের মানুষ সকলেই খুব খুশি। আমরা চাই অনীক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও সাফল্য পাক। ঘরে ফিরলে তাকে গ্রাম থেকে সম্বর্ধনা দেওয়া হবে।'






















