সৌরাষ্ট্র: ২০২৩ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল (Test Championship Final)। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হারের পরই চেতেশ্বর পূজারার কাছে নির্বাচকদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে তাঁকে আর টেস্টে জাতীয় দলে দেখতে চাইছেন না। কারণ তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। একশোর বেশি টেস্ট খেলা পূজারার ফর্মও তাঁর পক্ষে কথা বলছিল না একদমই।
সম্প্রতি নিজের বইয়ে কিছু অজানা কথা তুলে ধরেছেন চেতেশ্বরের স্ত্রী পূজা পূজারা। ২০২৩ সালের জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলেন তিনি। খারাপ ফর্মের জন্য তার পর বাদ পড়েন
ভারতীয় দল থেকে। আর ফিরতে পারেননি। গোটা ক্রিকেট কেরিয়ারে পূজারা পাশে পেয়েছেন পূজাকে। সম্প্রতি নিজের বই প্রকাশ করেছেন পূজা। সেখানেই ২০১৮-১৯ অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়ের একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন পূজারার স্ত্রী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, চেতেশ্বর পূজারার বাবা অরবিন্দ পূজারার হার্টের অবস্থা তখন একেবারেই ভাল ছিল না। অন্যদিকে সেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজে চারটি টেস্টে তিনটি শতরান হাঁকিয়েছিলেন পূজারা। পারথ টেস্ট চলার সময় একদিন রাতে পূজার ফোনে চেতেশ্বরের বাবার ফোন আসে। সেই সময় চেতেশ্বর পূজারার বাবা অরবিন্দ পূজারা ফোনে জানান যে তাঁর শরীর একেবারেই ভাল লাগছে না। দ্রুত পূজা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতালে ভর্তি করার।
মুম্বইয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য চেতেশ্বরের বাবা অরবিন্দকে নিয়ে পরের দিন সকালে বিমানে যাচ্ছিলেন পূজা। তখনও জানেন না যে পূজারা যে তাঁর বাবার কী অবস্থা। খেলার সময় যাতে মানসিকভাবে কোনও চাপ অনুভব না করেন ডানহাতি ব্যাটার, তার জন্যই কিছু জানাতে চাননি পূজা তাঁর স্বামীকে। পূজা লিখেছেন, ''আমি সকালে পূজারাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কেমন আছে?'' ও শুধু আমাকে উত্তর দিয়েছিল 'ঠিক আছি।' সেদিন শ্বশুরমশাইকে নিয়ে যখন মুম্বইয়ে হাসপাতালে পৌঁছেছেন পূজা। ততক্ষণে পূজারা শতরান পূরণ করে ফেলেছেন।
নিজেদের অনেক বিশেষ মুহূর্তেই দুজনে একসঙ্গে থাকতে পারেননি এমন। তা বইয়ে উল্লেখ করেছেন পূজা। রঞ্জি ম্য়াচ খেলতে বাইরে থাকায় মেয়ের জন্মের সময়ও পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেননি পূজারা। তবে এতকিছুর মধ্যেও দুজনের সম্পর্কের বন্ধন যে আরও শক্ত হয়েছে তা জানিয়েছেন পূজা।