India vs England 2nd Test: 'দুঃস্বপ্ন'-র এজবাস্টনেই কি জয়ের স্বাদ পাবে গিলের ভারত, না ফের জয়জয়কার হবে 'বাজ়বল'-র?
Indian Cricket Team: বিগত নয় টেস্টের মধ্যে মাত্র একটি ম্য়াচে জয় পেয়েছে ভারতীয় দল।

বার্মিংহাম: নতুন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সাইকেলে নতুন অধ্যায়, নতুন যুগের আগমন। ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে শুভমন গিলজমানা শুরুটা কেমনভাবে হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সকল ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমী। শুরুটা মন্দ হয়না, পাঁচ পাঁচটি শতরানও হাঁকায় ভারতীয় দল। তা সত্ত্বেও গিল তথা ভারতীয় দলকে খালি হাতেই হেডিংলে ছাড়তে হয়। 'বাজ়বল'-র বিপক্ষে পরাস্ত হতে হয় ভারতকে। সিরিজ়ে পিছিয়ে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার, ২ জুলাই থেকে ফের একবার দুই দল একে অপরের বিরুদ্ধে (India vs England 2nd Test) মাঠে নামছে। এক্ষেত্রে মঞ্চটা এজবাস্টন।
একদিকে নতুন অধিনায়কের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় দল পিছিয়ে পড়েও কেমনভাবে সিরিজ়ে ফেরার লক্ষ্য়ে ঝাঁপায়, সেই দেখার অপেক্ষায় অনেকেই। তবে সমালোচকরা যাই বলুন না কেন, ঘরের মাঠে পরপর দুই ম্য়াচে ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের ইতিহাসের দুই সবথেকে বড় রান তাড়া করে জয়ের নজির গড়ে ইংল্যান্ডও প্রমাণ করে দিয়েছে 'বাজ়বল' কতটা কার্যকরী। নিঃসন্দেহে গিল অ্যান্ড কোর সামনে চ্যালেঞ্জটা কঠিন। ইংল্যান্ডের পরিবেশে টেস্ট জেতা মুখের কথা নয়। তার ওপর এমন এক মাঠে টিম ইন্ডিয়া খেলতে নামছে, যেটা তাদের কাছে 'দুঃস্বপ্ন'-র থেকে কম কিছু নয়।
৬৮ বছর, প্রায় সাত দশক ধরে এই এজবাস্টনে ভারতীয় দল আটটি টেস্ট ম্য়াচ খেলেছে। এই মাঠে ভারতীয় দলের জয়ের ভাঁড়ার শূন্য। সাত ম্যাচে পরাজিতই হয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এমন এক মাঠে নামা যদি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং না হয়, তবে ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক ফর্ম নিঃসন্দেহে তা বাড়াতে বাধ্য। বিগত নয় টেস্ট ম্যাচে ভারত মাত্র একটি জয় পেয়েছে। বিগত এক দশকে এমন ঘটনা এই প্রথম। তাই বোঝাই যাচ্ছে বিলেতের মাটিতে অধিনায়ক হিসাবে মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলা গিলের সামনে এক পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে রয়েছে।
একাধিক বড় সিদ্ধান্তও নিতে হবে ভারতীয় ম্যানেজমেন্টকে। সম্ভবত সবথেকে বড় সিদ্ধান্ত হয়তো বুমরাকে খেলানো বা না খেলানো। সিরিজ়ে তিন টেস্ট খেলবেন বুমরা। প্রথম টেস্টে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টেও তাঁকে খেলালে হাতে থাকছে আর মাত্র একটি ম্যাচ। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের তুরুপের তাস এত আগে খেলবে ভারত! প্রশ্ন রয়েছে। ভারতীয় দলের তরফে জানানো হয়েছে বুমরা ফিট। অবশ্য তিনি দ্বিতীয় টেস্টে খেলবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত একেবারে শেষ মুহূর্তেই নেওয়া হবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই ধারণা ভারতীয় দলের গেমচেঞ্জার হয়ে উঠতে পারেন আরেকজন। তিনি কুলদীপ যাদব। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে হারের পর কুলদীপের ভারতীয় দলে যোগ দেওয়া দলের ভাগ্য ফিরিয়েছিল। চলতি সিরিজ়টা হচ্ছে ইংল্যান্ডের মাটিতে। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন চায়নাম্যান কুলদীপ ভারতের হয়ে ম্যাচের রং বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তাঁকে খেলাতে হলে একজন অলরাউন্ডারকে বসাতে হতে পারে। টিম ম্য়ানেজমেন্ট এই সাহসী সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেইদিকে নজর থাকবে।
অপরদিকে, ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে সমীকরণটা সহজ। প্রথম টেস্টের ছন্দ দ্বিতীয় টেস্টেও ধরে রাখ। বেন স্টোকসের দল না নিজেদের খেলার ধরন বদলাবে, না তাঁরা একাদশে কোনওরকম বদল ঘটিয়েছে। এই ছন্দ, ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা থেকেই সম্ভবত জোফ্রা আর্চার চার বছর পর দলে ফিরলেও, ইংল্যান্ডের একাদশে তাঁর ঠাঁই হয়নি।
মঞ্চ প্রস্তুত, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিও হয়ে গিয়েছে। এবার অপেক্ষা ব্যাট, বলের লড়াইয়ের। এজবাস্টনে ভারত দুরন্তভাবে সিরিজ়ে ফিরবে, না ইংল্যান্ড ২-০ এগিয়ে যাবে, এটাই এখন দেখার বিষয়।



















