Ranji Trophy: এখনও রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারে বাংলা! কোন অঙ্কে?
BCCI: চলতি রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার ভবিষ্যৎ কী? বাংলার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রাস্তা কি পুরোপুরি বন্ধ? নাকি এখনও রয়েছে আশার কোনও সূক্ষ আলো?

কলকাতা: হরিয়ানার বিরুদ্ধে ছিল মরণ-বাঁচন ম্যাচ। রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy) নক আউটে ওঠার দৌড়ে থাকতে হরিয়ানাকে সরাসরি হারাতেই হতো বাংলাকে। সবুজ পিচে হরিয়ানার পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল বাংলা। কিন্তু ব্যুমেরাং হয়ে ফেরে সেই কৌশল। কল্যাণীতে বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে তিনদিনের মধ্যে ২৮৩ রানের বিশাল ব্যবধানে বাংলাকে হারিয়ে দিয়েছে হরিয়ানা। সেই সঙ্গে নক আউটে ওঠাও নিশ্চিত করে ফেলেছে কপিল দেব নিখাঞ্জের রাজ্য।
প্রশ্ন হচ্ছে, চলতি রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার ভবিষ্যৎ তাহলে কী? বাংলার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রাস্তা কি পুরোপুরি বন্ধ? নাকি এখনও রয়েছে আশার কোনও সূক্ষ আলো?
রঞ্জি ট্রফিতে এলিট পর্বে চারটি গ্রুপ রয়েছে। প্রত্যেক গ্রুপে রয়েছে ৮টি করে দল। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ম হচ্ছে, প্রত্যেক গ্রুপ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ২টি করে দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে।
বাংলা রয়েছে এলিট গ্রুপ সি-তে। আট দলের প্রত্যেক দলই ৬টি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। প্রত্যেক দলেরই আর একটি করে ম্যাচ বাকি রয়েছে।
৬টি ম্যাচ খেলে ৩টি ম্যাচ সরাসরি জিতে ও ৩টি ড্র করে ২৬ পয়েন্ট হরিয়ানার। গ্রুপের একমাত্র দল হিসাবে শেষ আটে জায়গা পাকা করে ফেলেছেন অংশুল কম্বোজরা। বাকি একটি জায়গার জন্য লড়াই।
বিহার, পাঞ্জাব, মধ্য প্রদেশে ও উত্তর প্রদেশ নক আউটের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে। ৬ ম্যাচে ১ পয়েন্ট বিহারের। পাঞ্জাব ও মধ্য প্রদেশ দুই দলেরই ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট করে রয়েছে। উত্তর প্রদেশের ৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে ফলাফল যাই হোক না কেন, এই চার দল আর কোনওভাবেই কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে না।
নক আউটে বাকি একটি জায়গার জন্য লড়াই তাই তিন দলের। কেরল, কর্নাটক ও বাংলা।
এদের মধ্যে কেরলের সুযোগ সবচেয়ে ভাল। ৬ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট রয়েছে তাদের। শেষ ম্যাচ বিহারের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত তাদের। ড্র করলেও থাকছে সুযোগ। সেক্ষেত্রে কর্নাটককে শেষ ম্যাচ জিতলে চলবে না।
৬ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তিন নম্বরে কর্নাটক। তাদের শেষ ম্যাচ ঘরের মাঠে হরিয়ানার বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ জিতলে নক আউটে পৌঁছে যেতে পারে কর্নাটকও। তবে তাকিয়ে থাকতে হবে কেরল-বিহার ম্যাচের দিকে।
আর বাংলা?
বাংলার ৬ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট। অনুষ্টুপ মজুমদারেরা গ্রুপে তাঁদের শেষ ম্যাচ খেলবেন ইডেনে, পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু সেই ম্যাচে বাংলাকে বোনাস পয়েন্ট-সহ জিততেই হবে। পাশাপাশি প্রার্থনা করতে হবে, বিরাট অঘটন ঘটিয়ে বিহার যেন কেরলকে হারিয়ে দেয়। কর্নাটকও যেন হরিয়ানার কাছে হারে বা ম্যাচ ড্র হয় ও হরিয়ানা প্রথম ইনিংসের লিড নেয়।
সেক্ষেত্রে বাংলা ও কেরল - দুই দলেরই পয়েন্ট হবে ২১। ১৯ বা ২০ পয়েন্টে আটকে যাবে কর্নাটক। গ্রুপে দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে দেখা হয় নিজেদের মধ্যে ম্যাচে কারা জিতেছিল বা প্রথম ইনিংসের লিড নিয়েছিল। কিন্তু বাংলা বনাম কেরল ম্যাচের একটি করে ইনিংসও শেষ হয়নি। ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট করে পেয়েছিল দুই দল। তাই সেই ম্যাচ থেকে কিছুই নির্ধারিত হবে না।
এরপর দেখা হয় কোন দল সরাসরি বেশি ম্যাচ জিতেছে। কেরল বিহারের কাছে হেরে গেলে ২টি সরাসরি জয়ে আটকে যাবে। বাংলা পাঞ্জাবকে হারালে ২টি জয় ছিনিয়ে নেবে। সেই হিসাবেও হবে না মীমাংসা। তখন দেখা হবে রান রেট।
পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে বোনাস পয়েন্ট-সহ জিতে কেরলের চেয়ে রান রেট বেশি রাখতে পারলে, বাংলার কপাল ও নক আউটের দরজা - দুই-ই খুলে যাবে।
আপাতত অলৌকিকের প্রার্থনায় বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা।
আরও পড়ুন: কপিল দেবের রাজ্যের এ কে ফর্টি সেভেনে ঝাঁঝরা বাংলার স্বপ্ন, ধোনির পরামর্শের অপেক্ষায়




















