Mohun Bagan: মোহনবাগান সমর্থকদের বিক্ষোভে উত্তাল কিশোরভারতী, পুলিশের লাঠিচার্জ! আইএফএ-কে চিঠি
IFA Shield: রাতে মোহনবাগান ক্লাবের তরফে আইএফএ-কে চিঠি দিয়ে গোটা বিশৃঙ্খলতার কারণ ও কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল জানতে চাওয়া হয়েছে।

কলকাতা: ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাবকে ২-০ হারিয়ে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে মোহনবাগান। ফাইনালে আবার সামনে যে কোনও প্রতিপক্ষ নয়, একেবারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালে উঠে কোথায় প্রতিপক্ষের উদ্দেশে শিঙা ফোঁকাফুঁকি করবেন তা নয়, সবুজ-মেরুন জনতা প্রিয় ক্লাবের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
বুধবার কিশোরভারতী স্টেডিয়াম মোহনবাগান ম্যাচের পর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠি চালিয়েছে বলেও অভিযোগ ফুটবলপ্রেমীদের। মোহনবাগানের অন্যতম কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে 'গো ব্যাক' স্লোগান দেওয়া হয়। দুই সমর্থককে পুলিশ আটক করেছে বলেও খবর। গোটা ঘটনায় আইএফএ-কে বুধবার রাতেই চিঠি পাঠাল মোহনবাগান ক্লাব।
শনিবার আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ডার্বি। তবে বুধবার সব কিছুকে ছাপিয়ে গেল মোহনবাগান সমর্থকদের বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। আহত হয়েছেন কয়েকজন সমর্থক।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুয়ের ম্যাচ খেলতে ইরানে না যাওয়ায় মোহনবাগানের ওপর ক্ষিপ্ত সমর্থকেরা। ক্ষোভের কেন্দ্রে দিমিত্রি পেত্রাতোস। সমর্থকদের অভিযোগ, দিমিত্রির আপত্তিতেই ইরান সফর বাতিল করে মোহনবাগান। দিমিত্রিই এখন সবুজ-মেরুন জনতার চোখে খলনায়ক। ইউনাইটেড স্পোর্টস ম্যাচের আগে পেত্রাতোস মাঠে ঢোকার সময়ে তাঁকে ঘিরে সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পেত্রাতোস প্রথম গোল করার পরেও গ্যালারি থেকে ধিক্কার দেওয়া হয়। পেত্রাতোস এদিন গোল করে কোনও উৎসব করেননি।
নিরাপত্তার অভাবের কারণ দেখিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুয়ের ম্যাচ খেলতে ইরানে যায়নি মোহনবাগান। তারপর থেকেই বাগান সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ দল পরিচালন সমিতির উপর। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ফুটবলারদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন সমর্থকেরা।
বুধবার ইউনাইটেড স্পোর্টস ম্যাচের আগে থেকেই অগ্নিগর্ভ হতে থাকে পরিস্থিতি। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা-সহ বাকি কর্তাদের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। তবে ম্যাচের শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগ, দিমিত্রি পেত্রাতোস নিজের গাড়িতে করে যখন মাঠ থেকে বেরোচ্ছিলেন, তখন মোহনবাগান সমর্থকদের একাংশ তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। গাড়িতে ধাক্কাধাক্কি করা হয় বলেও অভিযোগ। পুলিশ তখন লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। তিন সমর্থক আহত হয়েছেন। পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে বাগান সমর্থকেরা কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা পরে মোহনবাগান এবং ইউনাইটেড স্পোর্টসের ফুটবলাররা মাঠ ছাড়েন।
রাতে মোহনবাগান ক্লাবের তরফে আইএফএ-কে চিঠি দিয়ে গোটা বিশৃঙ্খলতার কারণ ও কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফের এরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে তা সামলানো হবে, পুলিশি নিরাপত্তা কী রাখা হবে, সেটাও জানতে চাওয়া হয়েছে। ফুটবলার, ক্লাবকর্তা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে আইএফএ-কে।






















