(Source: ECI/ABP News)
H-1B Visa ভিসার ফি বাড়িয়ে নিজের পায়ে কুড়ুল মারলেন ট্রাম্প, 'লাভবান হবে ভারত'
India US Relation : অন্তত তেমনই মনে করছেন, নীতি আয়োগের প্রাক্তন প্রধান অভিতাভ কান্ত (NITI Aayog CEO Amitabh Kant)। কীভাবে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

India US Relation : ভারতীয়দের ক্ষতির চেষ্টা করলেও উল্টে আমেরিকার ক্ষতি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। অন্তত তেমনই মনে করছেন, নীতি আয়োগের প্রাক্তন প্রধান অভিতাভ কান্ত (NITI Aayog CEO Amitabh Kant)। কীভাবে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
কী ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প
প্রথমে শুল্ক তারপর জরিমানা, এখন H-1B ভিসা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের জন্য একের পর এক নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প H-1B ভিসার জন্য বিশাল ফি বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন। এর অর্থ হল H-1B ভিসার আবেদনকারীদের এখন বার্ষিক আবেদন ফি $100,000 (প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা) দিতে হবে। ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণা আরেকটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভারতের ক্ষতি না লাভ ?
এই বিষয়ে শিল্প বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ভারতের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ তাদের জন্য ব্যয়বহুল প্রমাণিত হতে পারে। তবে তারা বিশ্বাস করেন, এই সিদ্ধান্ত ভারতের ক্ষতির চেয়ে ভাল হবে। শুক্রবার, ট্রাম্প H-1B ভিসার মূল্য বৃদ্ধি বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন, যা আজ, রবিবার থেকে কার্যকর হবে।
H-1B ভিসার সমস্যা কী ?
বর্তমানে, H-1B ভিসার ফি কোম্পানির আকার ও অন্যান্য খরচের উপর নির্ভর করে প্রায় US$2,000 থেকে US$5,000 পর্যন্ত রয়েছে। H-1B ভিসার মেয়াদ তিন বছর। এই রিনিউযোগ্য ভিসা মার্কিন কোম্পানিগুলি আরও দক্ষ বিদেশি পেশাদারদের আকর্ষণ করার জন্য ব্যবহার করেছিল, যাদের মধ্যে অনেকেই ছিল ভারতীয়।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) অনুসারে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অনুমোদিত সমস্ত H-1B ভিসার প্রায় 71% ভারতীয়দের জন্য জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, H-1B ভিসা প্রোগ্রামের অপব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরও দক্ষ অস্থায়ী কর্মী আনার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তবে, এটি আমেরিকান কর্মীদের চাকরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলি আমেরিকান কর্মীদের পরিবর্তে সস্তা বিদেশি কর্মীদের দিয়ে প্রোগ্রামটি ব্যবহার করেছে। তিনি এই ভিসার নীতিকে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যা বলে মনে করেন।
ভারত কীভাবে লাভবান হবে ?
এই বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন নীতি আয়োগের প্রাক্তন সিইও অমিতাভ কান্ত। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, "ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০০,০০০ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি বৃদ্ধি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভাবনে বাধা তৈরি করবে। বিশ্বব্যাপী প্রতিভার দরজা বন্ধ করে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ল্যাব, পেটেন্ট, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপের পরবর্তী ঢেউ বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, পুনে ও গুরগাঁওয়ে ঠেলে দিচ্ছে।" এই বিষয়ে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেছন, ভারতে এখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানীদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। যারা আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে পছন্দ করতেন এখন তাদের দেশে পাওয়া যাবে।
প্রতিভাবান ব্যক্তিরা ভারতের দিকে ঝুঁকবেন
ইনফোসিসের প্রাক্তন সিএফও ও অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী মোহনদাস পাইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে পিটিআই জানিয়েছে, "আমেরিকা এইচ-১বি ভিসার জন্য ফি বৃদ্ধি করা আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করবে। প্রথমত, এই নিয়ম ইতিমধ্যেই সেখানে যারা আছেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাই এটি ভবিষ্যতে আবেদনকারী যে কারও উপর প্রভাব ফেলতে পারে, নতুন আবেদন হ্রাস করতে পারে। কেউ এর জন্য ১০০,০০০ ডলার দেবে না, এটি একেবারে সত্য।"
উদ্যোক্তা এবং স্ন্যাপডিলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা কুণাল বাহলও তার মতামত প্রকাশ করে বলেন, নতুন নিয়মের ফলে অনেক দক্ষ পেশাদার তাদের নিজ দেশে ফিরে যাবেন। তিনি X-তে লিখেছেন, "নতুন H-1B নিয়মগুলি বিপুল সংখ্যক প্রতিভাবান ব্যক্তিকে ভারতে ফিরিয়ে আনবে।"
সেরা শিরোনাম























