Ideas of India 2025: 'মানুষ আজও কাগজে জুতোর বিজ্ঞাপনে গোল দাগ দিয়ে রাখেন...' ঐতিহ্য কীভাবে বহমান আজও ? জানালেন শ্রীলেদার্সের ডিরেক্টর রচিতা
Rochita Dey: রচিতা জানান, কলকাতার লিন্ডসে স্ট্রিটে প্রথম একটি ছোট্ট দোকান ঘর দিয়ে শুরু হয় এই ব্যবসার যাত্রপথ তার বাবার হাত ধরে। মাত্র ১০০ বর্গফুটের একটি দোকান ছিল তখন।

Rochita Dey: বাঙালির ব্র্যান্ড, বাংলার ব্র্যান্ড থেকে আজ জাতীয় স্তরে সাড়া ফেলেছে জুতো প্রস্তুতকারী ও বিপণনকারী সংস্থা শ্রীলেদার্স (Sreeleathers)। ভারতের রিটেইল ব্যবসার দুনিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছে এই শ্রীলেদার্স। আর আজ এই সুপ্রাচীন সংস্থার হাল ধরেছেন আজকের প্রজন্মের তরুণী রচিতা দে (Rochita Dey), শ্রীলেদার্সের বর্তমান ডিরেক্টর। আইডিয়াজ অফ ইন্ডিয়ায় (Ideas of India) এসে তিনি জানান কীভাবে এই দীর্ঘ ঐতিহ্য বহন করেও আজও সার্বজনীন ব্র্যান্ড হয়ে আছে শ্রীলেদার্স, কী রহস্য এই ব্যবসায়িক সাফল্যের মূলে ?
আজ থেকে ৩৯ বছর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলার বুকে গড়ে উঠেছিল বাঙালির মনের প্রাণের ব্র্যান্ড পছন্দের জুতোর ব্র্যান্ড শ্রীলেদার্স। রচিতা জানান, কলকাতার লিন্ডসে স্ট্রিটে প্রথম একটি ছোট্ট দোকান ঘর দিয়ে শুরু হয় এই ব্যবসার যাত্রপথ তার বাবার হাত ধরে। মাত্র ১০০ বর্গফুটের একটি দোকান ছিল তখন। আর আজও এই স্টোর চলছে হইহই করে এবং এটি শ্রীলেদার্সের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ স্টোর যা আয়তনে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার বর্গফুট। এমনকী সর্ববৃহৎ একক ফুটওয়্যার স্টোরের আন্তর্জাতিক খেতাবও পেয়েছে শ্রীলেদার্স। মুকুটে জুড়েছে নয়া পালক। রচিতা আরও বলেন এই ইন্ডাস্ট্রিতে অন্য ব্র্যান্ডগুলি তাদের ইনভেন্টরি ঢেলে সাজায় ২০২ দিনে, তা শ্রীলেদার্সের লিন্ডসে স্ট্রিটের সেই স্টোর এখন মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ইনভেন্টরি নতুন করে সাজায়। ভারতের মোট ১০টি শহরে ৫০টি স্টোর রয়েছে এখন শ্রীলেদার্সের।
এদিন আলোচনার প্রসঙ্গেই রচিতা জানান, শ্রীলেদার্সের মূল দুই স্তম্ভ হল সাশ্রয়ী পণ্য এবং টেকসই পণ্য। এই ঐতিহ্য এখনও সমানভাবে বহমান, তার সঙ্গে এসে জুড়েছে কিছু বিলাসবহুল পণ্যও। আর ব্যবসাকে আরও উন্নত স্তরে নিয়ে যেতে গেলে যে কোনো সংস্থার দরকার বিভিন্ন ধরনের গ্রাহক বা ক্রেতা আর তাদের উপযোগী বিভিন্ন ধরনের পণ্য, শ্রীলেদার্সও সেই কাজ করে চলেছে। এখন অনলাইনে কেনাকাটার চাহিদা বেড়ে গিয়েছে ব্যাপকভাবে, তবে আজও অনলাইনের বদলে অফলাইন স্টোরেই আমাদের ব্যবসা ভাল চলছে। আমাদের মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপন হয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে। পুজোর তিন-চার মাস আগে থেকেই আমরা বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করি নতুন নতুন পণ্যের। আমাদের কোনও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর নেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও মানুষ সেই কাগজের বিজ্ঞাপন দেখে তাতে গোল করে দাগ দিয়ে সেই পছন্দের জুতোই কিনতে আসেন আজও। লাইনে দাঁড়িয়ে সেই ক্যাটালগ হাতে নিয়ে জুতো কিনতে আসেন মানুষ। এমনকী আমাদের ব্যবসায় যেমন পরম্পরা রয়েছে, গ্রাহক-ক্রেতাদের মধ্যেও পরম্পরা রয়েছে, কেউ শ্রীলেদার্সে কেনাকাটা করলে তিনি তার ছেলেকে বা মেয়েকে নিয়ে আসেন, এভাবেই ঐতিহ্য আর পরম্পরা আজও বহমান।'






















