Atmanirbhar Bharat : আত্মনির্ভর ভারতের জন্য দেশি নীলনকশা, পতঞ্জলির ব্যবসায়িক মডেল গড়ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
Patanjali Ayurveda : পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ আজ তৈরি করেছে আত্মনির্ভর ভারতের জন্য দেশি নীলনকশা।

Patanjali Ayurveda : বিদেশি নয় স্বদেশিতে বিশ্বাস রেখেই হচ্ছে কাজ, যার ফলে বিকশিত হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ আজ তৈরি করেছে আত্মনির্ভর ভারতের জন্য দেশি নীলনকশা। যাকে হাতিয়ার করেই অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম।
'কিষাণ সমৃদ্ধি যোজনা'র মাধ্যমেই হচ্ছে ক্ষমতায়ন
পতঞ্জলির মতে, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কাঁচামাল সংগ্রহ করে 'কিষাণ সমৃদ্ধি যোজনা'র মাধ্যমে তাদের ডিজিটালভাবে ক্ষমতায়নে সাহায্য় করছে সংস্থা। এর মাধ্যমে সারা দেশের মহিলা উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আত্মনির্ভর ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে অবদান রাখছে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ।
এমএসএমই খাত আজ ভারতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে
আজকাল বদলে গিয়েছে অর্থনীতির ধারণা। অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) খাত ভারতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, দেশের জিডিপিতে ৩০% এরও বেশি অবদান রাখছে। এই খাতে থেকেই লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের মতে, কোম্পানি এই খাতকে আরও শক্তিশালী করে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহুরে উভয় উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন করছে সংস্থা, যা আদতে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।
গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি
কোম্পানি জানিয়েছে “স্থানীয় কৃষক ও উৎপাদকদের কাছ থেকে সরাসরি কাঁচামাল সংগ্রহের মাধ্যমে পতঞ্জলির সবচেয়ে বড় কাজ করছে। পতঞ্জলি কৃষকদের কাছ থেকে ভেষজ, শস্য, তেল এবং অন্যান্য কাঁচামাল সংগ্রহ করে, যার ফলে তাদের আয় বৃদ্ধি পায়। এই পদক্ষেপ কেবল MSME-গুলিকে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করে না বরং গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি করে। হরিদ্বারে অবস্থিত পতঞ্জলি খাদ্য ও ভেষজ পার্ক স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। যেখানে কৃষক, পঞ্চায়েত এবং স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীগুলিকে সমবায় কৃষিতে জড়িত হতে উৎসাহিত করা হয়। এর ফলে শত শত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ও গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নত হয়েছে।”
কিষাণ সমৃদ্ধি যোজনা আসলে কী ?
পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, “কৃষকদের ডিজিটালভাবে ক্ষমতায়নের জন্য পতঞ্জলি 'কিষাণ সমৃদ্ধি যোজনা' চালু করেছে। এই যোজনার আওতায়, কৃষকরা স্মার্ট মাটি বিশ্লেষণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও রিয়েল-টাইম বাজার মূল্য প্রদানকারী মোবাইল অ্যাপের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পান। এই সরঞ্জামগুলি তাদের তথ্যবহুল ও লাভজনক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এছাড়াও, পতঞ্জলি ইনভয়েস-ভিত্তিক টাকা দেওয়ার জন্য ফিনটেক কোম্পানিগুলির সঙ্গে জোট বেঁধেছে, যা MSME-গুলিকে তাৎক্ষণিক কার্যকরী মূলধন পেতে সক্ষম করে। এটি ছোট ব্যবসাগুলিকে কার্যকরভাবে ইনভেন্টরি ও ক্যাশ ফ্লো পেতে সাহায্য করে।”
মহিলা উদ্যোগপতিদের ওপর জোর
এই কর্মযঞ্জে পতঞ্জলি মহিলাদের ক্ষমতায়নে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সংস্থার জানিয়েছে, তারা জৈব চাষের প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল সরঞ্জাম দিচ্ছে মহিলা উদ্যোক্তাদের। যা মহিলাদের বিশেষভাবে সাহায্য করছে। এর ফলে গ্রামীণ ও শহরতলির মহিলাদের জন্য স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পতঞ্জলির স্বদেশি কেন্দ্র ও আয়ুর্বেদিক ক্লিনিকের মতো উদ্যোগগুলি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তাদের ব্যবসা শুরু ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কোম্পানির দাবি করে, তাদের পণ্য কেবল বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং স্থানীয় সম্প্রদায়গুলিকে স্বাবলম্বী করে তোলার উপরও নজর দেয়।
অনুপ্রেরণামূলক MSMEs ও স্থানীয় উদ্যোগ
পতঞ্জলি দাবি করে, “এই উদ্যোগগুলি কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতি দেয় না। পাশাপাশি গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মধ্যে ব্যবধানও কমিয়ে আনে। কোম্পানির স্লোগান ‘প্রকৃতি কা আশীর্বাদ’ ভারতীয় সংস্কৃতি ও আয়ুর্বেদিক মূল্যবোধ প্রচারের লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে। পতঞ্জলির কৌশল সংস্থাকে ভারতের দ্রুততম বর্ধনশীল FMCG ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে একটি MSMEs ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসাবে নিজেদের তুলে ধরা।”






















