Patanjali Ayurveda: আশ্রম থেকে শপিং মলের শেলফে- ভারতের এফএমসিজি দুনিয়াকে কীভাবে বদলে দিচ্ছে পতঞ্জলি ?
Patanjali FMCG: সংস্থার মতে একটি সাধারণ ফার্মেসি হিসেবে শুরু হওয়া এই ব্র্যান্ডটি এখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম এফএমসিজি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে যার বার্ষিক টার্নওভার ৪৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ দাবি করে যে তারা একটি ছোট্ট ফার্মেসি থেকে একটি শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় এফএমসিজি সংস্থায় পরিণত হয়েছে। স্বদেশি আবেদন, কম খরচের বা সাশ্রয়ী মডেল এবং উদ্ভাবনের উপরে জোর দেওয়াই এর সাফল্যের মূলে রয়েছে। পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ লিমিটেড দাবি করে যে এটি ভারতের দ্রুতগতির ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) খাতে দেশীয় উদ্ভাবনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সংস্থার মতে একটি সাধারণ ফার্মেসি হিসেবে শুরু হওয়া এই ব্র্যান্ডটি এখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম এফএমসিজি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে যার বার্ষিক টার্নওভার ৪৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। পতঞ্জলির ব্যবসায়িক মডেলটি স্বতন্ত্র কারণ এটি ভারতীয় সংস্কৃতি আয়ুর্বেদ এবং স্বনির্ভরতার নীতিগুলিতে প্রোথিত রয়েছে। আর এটিই ভারতীয় গ্রাহকদের মধ্যে গভীরভাবে অনুরণিত হয়েছে। পতঞ্জলি জানিয়েছে যে সংস্থার সাফল্যের প্রথম স্তম্ভ হল এর স্বদেশি আবেদন। আত্মনির্ভর ভারত এবং মেড ইন ইন্ডিয়ার চেতনাকে মিশিয়ে সংস্থাটি আয়ুর্বেদিক এবং প্রাকৃতিক পণ্যের প্রচার করেছে। পতঞ্জলির শ্যাম্পু, খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, ভারতীয় ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক উপাদানের উপরে ভিত্তি করে তৈরি। এটিই গ্রাহকদের মনে দাগ কেটেছে। বাবা রামদেবকে যোগব্যায়াম এবং আয়ুর্বেদের বিশ্বস্ত মুখ হিসেবে উপস্থাপন করে ব্র্যান্ডটি গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে। তাঁর টেলিভিশনে প্রচারিত যোগব্যায়াম ক্লাস, শিবিরগুলি প্রতিটি ঘরে পতঞ্জলির পরিচিতি এনে দিয়েছে।
সাশ্রয়ী মডেল গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেছে
পতঞ্জলির দাবি সংস্থার কম খরচের মডেল গ্রাহকদের কাছে আবেদন তৈরি করেছে। এটি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে। ক্রয় খরচ কমায় এবং সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য বাজারে আনতে পারে। নিজস্ব খুচর পণ্যের দোকান এবং গ্রাহকদের কাছে সরাসরি যোগাযোগের পদ্ধতি বিতরণ খরচ অনেক কমিয়ে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ পতঞ্জলির পণ্যগুলি প্রধান ব্র্যান্ডগুলির তুলনায় ১৫-৩০ শতাংশ সস্তা, যা এটিকে মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্তদের প্রথম পছন্দ করে তুলেছে।
পতঞ্জলি জোর দিয়ে জানিয়েছে যে সংস্থার উদ্ভাবনের উপরে দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে। এর গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র আধুনিক ভোক্তাদের চাহিদা অনুসারে নতুন নতুন পণ্য তৈরিতে ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছে। চ্যবনপ্রাশ থেকে শুরু করে নুডলস, পোশাক পর্যন্ত পতঞ্জলি তার পণ্যের পোর্টফোলিওকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। ২০১৯ সালে রুচি সোয়া অধিগ্রহণের ফলে এর বিতরণ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।
স্বদেশি মূল্যবোধের মাধ্যমে বৈদেশিক জায়ান্টদের প্রতিহত করা
পতঞ্জলি বিশ্বাস করে যে তাদের মডেলটি দেখায় ভারতীয় মূল্যবোধ, সাশ্রয়ীভাব, উদ্ভাবনের সমন্বয় কীভাবে বিশ্বব্যাপী জায়ান্টদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। সংস্থাটি নিজেকে কেবল একটি ব্যবসা হিসেবে নয়, বরং একটি আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করে যা প্রাচীন দেশজ অভ্যাস ও সুস্থ জীবনধারার প্রচার করে।






















