Hilsa Market In Bengal : আসেনি পদ্মার ইলিশ, পুজোর আগে বাজার ভরেছে মোদির রাজ্যের রুপোলি শস্যে, কেমন দাম?
রাজনৈতিক দূরত্ব যতই থাকুক না কেন, আপাতত বাঙালির রসনা তৃপ্ত করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য।

সুনীত হালদার , হাওড়া : ভরা বর্ষা। নদী ভরভরন্ত। তবু এ রাজ্যে এই বছর ইলিশ উৎপাদন কম। বাংলাদেশ সরকারও এখনও পর্যন্ত এ দেশে পাঠায়নি পদ্মার ইলিশ। তাই ঘাটতি পূরণে এবারে বাংলার ভরসা এবার গুজরাতের ইলিশ। এ বছরে গুজরাত থেকে রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ আমদানি করেছেন হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাই রাজনৈতিক দূরত্ব যতই থাকুক না কেন, আপাতত বাঙালির রসনা তৃপ্ত করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য।
ফি বছর ভোর হতেই হাওড়া স্টেশন লাগোয়া হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ইলিশ মাছ ভর্তি লরি চলে আসে। কাকদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবার, দীঘা, শংকরপুর সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ইলিশ ভর্তি লরি এবং ট্রাক চলে আসে হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারে। তবে এবারের ছবিটা একেবারে আলাদা। ওইসব জায়গা গুলোতে মাছের উৎপাদন কম হওয়ায় সেভাবে আর ইলিশের গাড়ি আসছে না। তার বদলে ইলিশ মাছ সরাসরি আসছে গুজরাতের ভারুচ থেকে।
প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ ভর্তি বিশেষ ট্রাক মাছ নিয়ে ঢ়ুকছে বাজারে। ফিস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, "এ বছরে রেকর্ড পরিমাণ গুজরাতের ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৪৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি করা হয়েছে যা হাওড়া ছাড়াও কলকাতার সবকটি বড় বড় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। যেহেতু এই ইলিশের স্বাদ খুব ভালো সেই কারণে সাধারণ ক্রেতার কাছে চাহিদা বেশ ভালো।"
জানা গিয়েছে , ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ মাছ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা দরে। ৯০০ থেকে ১১০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা দরে। সেই মাছ খুচরো বাজারে কেজি প্রতি ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই বাজার থেকেই কলকাতার শিয়ালদা, মানিকতলা, লেক মার্কেট, দমদম, গড়িয়াহাট, সল্টলেক, বেহালা সহ সবকটি বড় বড় বাজারে মাছ ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি এখান থেকেই ওই মাছ সরাসরি চলে যাচ্ছে বেঙ্গালুরু, মুম্বই , দিল্লি, গুয়ায়াটি, হায়দরাবাদ, শিলিগুড়ি সহ বড় বড় শহরে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন গুজরাট থেকে ৮০ শতাংশ মাছ লরিতে এলেও ২০ শতাংশ মাছ ট্রেনে আসছে। এক লরি চালক মহম্মদ বসির বলেন, "লরিতে বিশেষ রেফ্রিজারেটরের ব্যবস্থা আছে। মাছকে বিশেষ প্যাকেজিং এর মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়। গুজরাট থেকে এখানে আসতে তিন দিন সময় লাগে। বাংলা মানুষের কাছে ইলিশের প্রচুর চাহিদা থাকায় গুজরাট থেকে প্রতিদিন অনেক গাড়ি আসছে।" দক্ষিণ কলকাতার বাঘাযতীন বাজারের খুচরো মাছ বিক্রেতা জয়দেব দাস বলেন,"এবারে গুজরাতের ইলিশের বিক্রি খুব ভালো। সুস্বাদু অথচ দাম একটু কম হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।"
মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন প্রতি বছর দুর্গা পুজোর আগে বাংলাদেশী সরকার পুজোর উপহার হিসাবে পদ্মার ইলিশ কলকাতায় পাঠায়। আমদানি চলে প্রায় একমাস ধরে। ফিশ ইনপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে গত জুলাই মাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এবারও মাছ পাঠানোর অনুরোধ জানায়। যেহেতু বাংলাদেশে এবারে ইলিশের উৎপাদন কম তাই এপার বাংলায় মাছ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তবে ব্যবসায়ীদের আশা, খুব শীঘ্রই তারা মাছ পাঠাবে। তবে আপাতত পুজোর মাসে বাঙালির ভরসা গুজরাতের ইলিশ।






















