Mamata Banerjee: নির্ধারিত সময়ের আগেই ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Mamata Banerjee Dharmatala Dharna: ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় তৃণমূল সুপ্রিমো। আজ নির্ধারিত সময় দুপুর ২টোর কিছু আগেই মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেন তিনি। জানা যাচ্ছে, তিনি হয়তো রাতেও থাকতে পারেন।

Mamata Banerjee: এসআইআর (SIR) নিয়ে তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতির পারদ। এসআইআর শুরুর প্রথম দিন থেকেই তা নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বিরোধের ঝাঁঝ বাড়িতে আজ, শুক্রবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে (Dharmatala Metro Channel) ধর্নায় তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো। আজ নির্ধারিত সময় দুপুর ২টোর কিছু আগেই মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেন তিনি। জানা যাচ্ছে, তিনি হয়তো রাতেও থাকতে পারেন ধর্নায়।
মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না ঘিরে মেট্রো চ্যানেল চত্বরে সাজো সাজো রব। সেখানে তিনটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মূল মঞ্চ, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে থাকবেন। পাশে তৈরি আরও দুটি মঞ্চ। তবে এই প্রথম নয়, এসআইআর ইস্যুতে এর আগেও পথে নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে (Delhi) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে দেখা করে নালিশও জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকি দেশের শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়ে এ নিয়ে নিজে সওয়াল করেছিলেন তিনি, যা এক অর্থে বেনজির। দিনের পর দিন এই ইস্যুতে বিরোধিতার পারদ চড়েছে বৈ কমেনি। এবার আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে আজ ধর্নায় মুখ্যমন্ত্রী। আজ দুপুর ২ টোয় ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাতেও ধর্নায় থাকতে পারেন তিনি।
আজ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নার প্রসঙ্গে অনেকেই স্মৃতি হাতড়ে ফিরে যাচ্ছেন ২০০৬ সালে। মনে করছেন সিঙ্গুর আন্দোলনের (Singur Movement) কথা। জোর করে জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না ইস্যুতে এই মেট্রো চ্যানেলেই এত বড় মাপের মঞ্চ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৬ দিন অনশন করেছিলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর, ২০১৯ সালেও মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন তিনি। সারদা মামলায় পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে CBI-হানার প্রতিবাদে চলে ধর্না। তবে আজকের চিত্র অন্য। বদলেছে সময়, বদলেছে পরিস্থিতি। এসআইআর ইস্যুতে ৬৩ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম বাদ পড়েছে, ৬০ লক্ষেরও বেশি 'বিবেচনাধীন' ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ এখনও বাকি। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন (Election Commission) একযোগে পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, কোনও বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়া যাবে না।
প্রসঙ্গত, ৭ মে রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই সময়ের মধ্যে কি ৬০ লক্ষ 'বিবেচনাধীন' ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ সম্ভব? যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে সি ভি আনন্দ বোসের (CV Ananda Bose) পদত্যাগ ও নতুন অস্থায়ী রাজ্যপাল নিয়োগের ঘটনায় জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
যদিও এই নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) বলেন, "এরপর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবে। উনি বিরোধী দলনেত্রী হবেন। মাঝেমাঝেই ধর্না দিতে হবে, এখন থেকেই প্র্যাকটিস করছেন।" পাল্টা ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) কটাক্ষ, "বিজেপি বাংলায় কোনওদিন আসবে না। বাংলায় সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনও জায়গা নেই।"























