Sona Pappu Case : ২০ কোটি টাকা গেছে তৃণমূলের কোন কোন নেতার কাছে ? সোনা পাপ্পু কাণ্ডে সাক্ষীর বয়ান ফাঁস
Chargesheet Filed Against Biswajit Poddar : সোনা পাপ্পুর চার্জশিটে বিস্ফোরক তথ্য় ED-র। গ্রেফতারির ৬০ দিনের মাথায় কসবার সিন্ডিকেট মাফিয়া সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বিরুদ্ধে চার্জশিট।

কলকাতা : তৎকালীন শাসকদলের সদস্য সোনা পাপ্পুর তদন্তে সাক্ষীর বয়ানে বিস্ফোরক তথ্য। কলকাতা পুরসভার অনুমোদন না থাকলেও করা হয়েছে বেআইনি নির্মাণ। সাক্ষীর বয়ান তুলে ধরে চার্জশিটে উল্লেখ ED-র। ফ্ল্যাট বিক্রির সময় করা হয়নি রেজিস্টার। আবার নথি ছাড়াই বেচাকেনা হয়েছে সমস্ত ফ্ল্যাট। সাক্ষীর বয়ান তুলে ধরে এই ঘটনার কথা চার্জশিটে উল্লেখ ED-র।
সোনা পাপ্পু তৎকালীন শাসকদল অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খান ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমার-এর খুবই ঘনিষ্ঠ। আর এই সোনা পাপ্পুর চার্জশিটে ED-র হাতে উঠে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য়। সাক্ষীর বয়ান থেকে জানা গিয়েছে, বেআইনি নির্মাণ যাতে হয় সেই জন্য ঘুষ বাবদ টাকা পাঠিয়েছে সোনা পাপ্পু। বেআইনি কাজের জন্য ২০২২ সালে ১৯ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা খরচ করে সোনা পাপ্পু। যার মধ্যে ৩ কোটি ৪১ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছে কসবা থানার আধিকারিক, কলকাতা পুরসভার আধিকারিক ও তৃণমূল কাউন্সিলরকে। ঘুষ বাবদ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা।
আর পড়ুন - রাজারহাট বিস্ফোরণ কাণ্ডে রিপোর্ট পেশ NIA-র, কী দাবি সংস্থার ? নেপথ্যে কে ?
শুধুই টাকার খেলা। আধিকারিকদের ঘুষ ছাড়াও চার্জশিটে আরও কিছু ভয়ঙ্কর তথ্য উল্লেখ করেছে ED । পুজোর ডোনেশন ও পার্টি ফান্ডে টাকা দিয়েছে সোনা পাপ্পু। তৃণমূল কাউন্সিলরকে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের দেওয়া হয়েছে ২ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা। ডোনেশন বাবদ দেওয়া হয়েছে ৫৫ লক্ষ ৯১হাজার টাকা। সাধারণ লোকের জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ মামলায় শুক্রবার দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় সংস্থা। গ্রেফতারির ৬০ দিনের মাথায় কসবার সিন্ডিকেট মাফিয়া সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল ইডি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি এলাকা দখল ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল রবীন্দ্র সরোবর থানার অন্তর্গত গোলপার্ক এলাকা ৷ চলে বোমাবাজি ও গুলি। এই ঘটনার পর একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসতে থাকে। সাড়ে ৩ মাসের লুকোচুরি শেষে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিল সোনা পাপপু। তোলাবাজি, জমি দখলের মামলায়, প্রায় ৯ ঘণ্টা জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। জেরার পর বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকুলিয়ায় বোমা-গুলিকাণ্ডে সোনা পাপ্পুর , তারপর থেকেই তিনি উধাও হয়ে যায়। এদিকে সেই সময়ে ফেসবুকে অ্যাকটিভ থাকলেও, পুলিশি অভিযানে তখন তাঁর খবর মেলেনি। পরে রাজ্য়ে পালাবদলের পর আচমকা নিজে থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে হাজির হন তিনি।























