Debraj Chakraborty : 'কুকীর্তি' ফাঁস! দেবরাজের সম্পত্তি কত ? কাদের থেকে তোলা তুলতেন ? মুখ খুললেন এই নেতারা
Debraj Chakraborty Arrested : সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের অভিযোগে গ্রফতার অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। কিন্তু তাঁর সম্পত্তি নিয়ে উঠছে নানা দাবি।

কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের পর একের পর এক 'দুর্নীতির ফাইল' খুলছে বিজেপি সরকার। চলছে ধরপাকড়। তৃণমূল আমলের নেতা, কাউন্সিলর থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী, কেউ বাদ যাননি। এবার সেই খাতায় নাম লিখিয়েছেন দেবরাজ চক্রবর্তী। ভুরি ভুরি অভিযোগ। প্রোমোটার থেকে শুরু করে অটোচালক, সকলের থেকেই নাকি তোলা নিয়েছেন তিনি। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হতেই প্রকাশ্যে আসছে তাঁর কু-কীর্তির কাহিনী। শেষ ৫ বছরে, অর্থাৎ ভোটের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি এবং তাঁর স্বামী। কীভাবে এত সম্পত্তি? নানা দাবি করছেন শাসক ও বিরোধী নেতারা।
বাগুইআটির বেতাজ বাদশা! তাঁর কথা শেষ কথা। কারণ তাঁর মাথায় না কি ক্য়ামাক স্ট্রিটের হাত। তৃণমূল থেকে বিদ্রোহ করে কয়েকমাসের জন্য় কংগ্রেস গিয়ে, আবার তৃণমূলে প্রত্য়াবর্তন। কারণ টাকা তো শাসক দলের ছত্রছায়ায়! যত গড়ে উঠেছে বহুতল, যত বেড়েছে কলকাতার পার্শ্ববর্তী বাগুইআটি-রাজারহাট-তেঘরিয়া, ততই উড়তে শুরু করেছে টাকা। বেড়েছে আর্থিক লেনদেন। তোলাবাজি কার্যত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে দেবরাজের কাছে। কারণ পুলিশ তো হাতের মুঠোয়।
অভিযোগকারীরা কী জানিয়েছেন ?
অভিযোগকারী প্রোমোটার অভিজিৎ সাহা জানান, ''৩০ লাখ টাকায় সেটলমেন্ট হয়েছে। দেবরাজ টাকা নিয়েছে।'' আর এক প্রত্যক্ষদর্শী রেবা সাহা জানান, 'টোটাল ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকা দেবরাজের হাতেই গেছে।' আর এক অভিযোগকারী প্রোমোটার কিশোর হালদার জানান, ''চেয়েছিল এক কোটি। ৫০-এ রফা হয়েছিল। ২৭ দিয়েছিলাম। তারপর আর বাকিটা দিতে দেরি হয়েছিল। আমাকে ডেকেছিল। দিতে ২দিন লেট করেছি বলে লোকজন পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করিয়ে দেয়। ফর্মুলাতে টাকা তুলত। সব দেবরাজ চক্রবর্তী তুলত।''
আরও পড়ুন - রকেট গতিতে রাজনৈতিক উত্থান ! দেবরাজ কীভাবে অভিষেক ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন ? হতবাক সকলে
সম্পত্তি নিয়ে কী অভিযোগ CPM ও বিজেপি নেতাদের ?
বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে নানা অভিযোগ করছে বিজেপি। মুখ খুলেছে সিপিএমও। রাজারহাট গোপালপুর-এর বিধায়ক ও বিজেপি নেতা তরুণজ্য়োতি তিওয়ারি জানান, ''দেবরাজ চক্রবর্তী শুধু একটা নাম নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জায়গায় জায়গায় যে ভাইপো তৈরি করেছিল, তবে যদি ক্লাস ধরা হয়, তাহলে উত্তর ২৪ পরগনার ভাইপো হচ্ছে দেবরাজ। কয়লা, গরু, বালির যে সিন্ডিকেট তার টাকা এখান থেকে যাওয়া, ম্যানেজ করা, তার দায়িত্ব ছিল দেবরাজ চক্রবর্তীর। এছাড়া, পুলিশের পোস্টিং কি হবে, DC কে হবে, IC কে হবে, এবং এর পেছনে যে বিপুল টাকা, এটাও চালাত দেবরাজ।''
সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ জানান, ''বাংলার মা বোনেদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেয়ার নাম করে তৃণমূল কংগ্রেসের আর একজন নেতা বাড়িতে যে কোন কুবেরের ধন তৈরি করেছিল, তার একটা উদাহরণ হচ্ছে দেবরাজ চক্রবর্তী। তৃণমূলের নেতা ও কাউন্সিলর হওয়ার পর, বউ বিধায়ক হওয়ার পর, এরা বাজার করতে যেত বিদেশী গাড়ি চেপে।''























