Sujit Basu Arrested: করোনাকালে বন্ধ রেস্তোরাঁ, এদিকে অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কোটি কোটি টাকা! সুজিত বসুকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ইডির
Sujit Basu News: কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন দিক থেকে বিপুল টাকা ঢুকলেও তার কোনও বৈধ লেনদেন দেখাতে পারেননি সুজিত বসু

প্রকাশ সিন্হা, আবির দত্ত, সমীরণ পাল, কলকাতা: করোনার সময় যখন লকডাউন চলছে, তখনই কোটি কোটি টাকার ব্যবসা দেখানো হয়েছে সুজিত বসু ও তাঁর ছেলের রেস্তোরাঁয়। সোমবার প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীকে গ্রেফতারের পর এদিন তাঁকে আদালতে পেশ করে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করল ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন দিক থেকে বিপুল টাকা ঢুকলেও তার কোনও বৈধ লেনদেন দেখাতে পারেননি সুজিত বসু। তাঁকে ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
করোনাকালে বন্ধ হাসপাতাল, এদিকে আয় কোটি কোটি টাকা!
দুর্নীতির পাহাড়! টাকার সমুদ্র! আর তার তদন্তে নেমেই ED এবার গ্রেফতার করেছে, প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা সুজিত বসুকে। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে, শ্রীভূমির কর্তার ঠাঁই আপাতত শ্রীঘরে। কীভাবে টাকা ও জমির বিনিময়ে পুরসভার চাকরি বিক্রি হয়েছিল? সুজিত বসুকে আদালতে পেশ করে, তা নিয়েই চাঞ্চল্য়কর দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। করোনা কালে যখন দেশজুড়ে লকডাউন চলছে! স্কুল-কলেজ, অফিস-কাছারি, বাজার-রেস্তোরাঁ সব বন্ধ! সেই সময়েও, তৃণমূল নেতা সুজিত বসু এবং তাঁর ছেলের রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে কোটি কোটি টাকা! টাকার অঙ্কটাও চমকে দেওয়ার মতো! মঙ্গলবার আদালতে ইডির আইনজীবী দাবি করেন, যখন লকডাউন চলছিল তখন লেকটাউনে সুজিত বসুর চাইনিজ রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা জমা পড়ে। অথচ সেইসময় রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল।
কীভাবে আয় দেখানো হয়েছিল?
সুজিত বসুর ছেলে সমুদ্র বসুর বেঙ্গল ধাবা রেস্তোরাঁয় ২০২০ সালের এপ্রিলে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার নগদে বিক্রি দেখানো হয়। সেই রেস্তোরাঁও তখন বন্ধ ছিল। এমনকী সুজিত বসুর ব্যক্তিগত অ্য়াকাউন্টেও জমা পড়ে ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। ইডির আইনজীবী সওয়াল করেন, সুজিত বসুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বিভিন্ন দিক থেকে বিপুল টাকা ঢুকেছে। কিন্তু কোনও বৈধ লেনদেন দেখাতে পারেননি। ইডির আইনজীবী ধীরজ দ্বিবেদী বলছেন, 'কোভিডকালে অনেক ব্যবসার মাধ্যমে টাকা এসেছে ওনার হোটেল, যে রেস্তোরাঁ কোভিডকালে চলছিল না, সেসব রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে অনেকগুলো টাকা ঢুকেছে। যেখানে ব্যবসা চলছে না, সেখানে কী করে টাকা ওনারা পেলেন বা উপার্জন করলেন, সেটার কোনও ভিত্তি পেলাম না আমরা।'
পুর-দুর্নীতি মামলায় সুজিতের নাম
২০১০ সাল থেকে দীর্ঘদিন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্য়ান ছিলেন সুজিত বসু। পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় CBI যে চার্জশিট দিয়েছিল, তার ১১ নম্বর পাতায় দাবি করা হয়, বেআইনিভাবে সবচেয়ে বেশি চাকরি দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ দমদম পুরসভায়। ২০১৪ সালের পর সেখানে ৩২৯ জনের নিয়োগ হয় টাকার বিনিময়ে। ইডি সূত্রে দাবি, দক্ষিণ দমদম-সহ একাধিক পুরসভায় প্রায় ১৫০ জনের চাকরি হয়েছিল সুজিত বসুর সুপারিশে! কখনও টাকা আবার কখনও জমি বা সম্পত্তির বিনিময়ে সেই চাকরি বিক্রি করা হয়। মঙ্গলবার আদালতে ইডির আইনজীবী দাবি করেন, শ্রীভূমিতে একটি বহুতলে সুজিত বসু ও তাঁর পরিবারের সদস্য়দের নামে তিনটি ফ্লোর রয়েছে। অথচ, তার জন্য় কোনও আর্থিক লেনদেন হয়নি। টাকা না নিয়ে কে বাড়ি দেবে? আসলে সম্পত্তির পরিবর্তে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় চাকরি দেওয়া হয়েছিল!
কী জানাচ্ছে ED?
কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, সুজিত বসু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গত ৭ বছরে জমা পড়েছে ৮ কোটি টাকা! অন্তত ৩টি শেল কোম্পানি খুলে এই কালো টাকা সাদা করার চেষ্টা করা হয়েছে। ইডির আইনজীবী এদিন আদালতে বলেন, সুজিত বসু প্রশ্নের উত্তর দেননি। তদন্তে সহযোগিতা করেননি। ছাড়া পেলেও তিনি তদন্ত প্রভাবিত করতে পারেন। তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা। ধৃত সুজিত বসুর ছেলে, সমুদ্র বসু অবশ্য বলছেন, 'এটা তো ওনাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ তো প্রমাণ হয়নি। সেটা তো কোর্টে প্রমাণ করতে হবে না।' দু'পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে ধৃত প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে। ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: Diljit Dosanjh: দিলজিতের কনসার্টে খলিস্তানি পতাকা, চূড়ান্ত বিতর্ক! সতর্ক করে কী বললেন সঙ্গীতশিল্পী?























