Hindol Majumdar: 'মাই নেম ইজ হিন্দোল মজুমদার অ্যান্ড আই অ্যাম নট এ টেররিস্ট, আফতাব আনসারির সঙ্গে তুলনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, কষ্ট পেয়েছি'
Hindol Majumdar: 'আমি এর আগে বার্সেলোনার ফোর্থ স্টার হোটেলে কনফারেন্সের জন্য লাঞ্চ খেয়েছি। কলকাতা পুলিশ, দিল্লি পুলিশের লকআপেও লাঞ্চ-ডিনার করারও অভিজ্ঞতা হল। সবই অভিজ্ঞতা।'

কলকাতা : গ্রেফতারির ৫ দিন পর, ৩ দিন পুলিশি হেফাজতে কাটানোর পর, অবশেষে জামিন পেয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী স্পেনের গবেষক হিন্দোল মজুমদার। এই কয়েকদিনে কী কী শিখলেন হিন্দোল, কতটা দেখলেন, বুঝলেন - ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন অনুষ্ঠানের সাক্ষাৎকারে কী কী বললেন হিন্দোল মজুমদার।
দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরই ঠিক কী কী ঘটেছিল হিন্দোল মজুমদারের সঙ্গে
হিন্দোল- ইমিগ্রেশনে ছিলাম। যেমন থাকে সবাই। আমায় জানানো হল আমার নামে লুকআউট নোটিস আছে। মার্চ মাসে বের করা। তারপর ইমিগ্রেশন অফিসার আমায় আলাদা করে তার ঘরে নিয়ে গেলেন। যে ইলেকট্রনিক্সগুলো ছিল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব, কিন্ডেল এগুলো উনি নিয়ে নিলেন। কিছুক্ষণ পর দিল্লি পুলিশের কাছে ট্রান্সফার করে দিলেন এক দেড় ঘণ্টা পর।
এতদিনের জীবনযাপন, আর গত ৩ দিনের ঘটনা, কী বুঝলেন স্পেনের গবেষক
হিন্দোল- তিনদিন নয়। ১৩ তারিখ থেকেই তো হচ্ছে এটা আমার সঙ্গে। ১৩ তারিখ সকালে ল্যান্ড করেছি। তখন থেকেই চলছে। একটা অন্য ভারতবর্ষ দেখা হল। যে দেশটাকে চিনতাম, জানতাম, তার বাইরেও যে একটা দেশ আছে, জেলের ভিতরে, বিভিন্ন রকমের মানুষ, কেউ কম অপরাধ করেছেন, কেউ বেশি অপরাধ করেছেন, এগুলো জানলাম, দেখলাম, শিখছি, অভিজ্ঞতা হচ্ছে।
আফতাব আনসারির সঙ্গে হিন্দোলের তুলনা করেছেন সরকারি আইনজীবী, কী বলছেন যাদবপুরের প্রাক্তনী
হিন্দোল- এর উত্তর একটাই হতে পারে, মাই নেম ইজ হিন্দোল মজুমদার অ্যান্ড আই অ্যাম নট এ টেররিস্ট। আমায় একজন বলছিলেন, মনে হয় বিন লাদেনের সঙ্গেও তুলনা করেছে। আমি জানি না যে, বিন লাদেন বা আফতাব আনসারিরা, তাদের যে ঘৃণ্য কাজ, তারা যেগুলো করে থাকে, সেগুলো করার পর সেই শহরে সামার ভ্যাকেশন কাটাতে আসে কিনা। আমি জানি না ঠিক। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কষ্ট পেয়েছি। দুঃখ পেয়েছি এই ধরনের কথা শুনে। এর বেশি আর কিছু বলার নেই।
সত্যিই কী পয়লা মার্চ স্পেনে বসে এখানকার বন্ধু, জুনিয়রদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন হিন্দোল
হিন্দোল- এটা বিচারাধীন বিষয়। আমার আইনজীবীরা আমায় এই প্রসঙ্গে কোনও কথা বলতে বারণ করেছেন। তাই আমি কোনও কথা বলব না।
প্রায় সাড়ে চারদিনের এই লড়াই, কী শেখাল গবেষক হিন্দোল মজুমদারকে
হিন্দোল- আমি মনে করি, মানুষের জলের মতো হওয়া উচিত। যে পাত্রে রাখবে সেই রূপ ধারণ করেই ভালভাবে থাকা উচিত। আমি এর আগে বার্সেলোনার ফোর্থ স্টার হোটেলে কনফারেন্সের জন্য লাঞ্চ খেয়েছি। কলকাতা পুলিশ, দিল্লি পুলিশের লকআপেও লাঞ্চ-ডিনার করারও অভিজ্ঞতা হল। সবই অভিজ্ঞতা। এটাকে নিয়ে আমার কোনও সমস্যা নেই। দিনের শেষে আমি একজন গবেষক। গবেষণা করি। সেই ক্ষেত্রেই থাকতে চাই। এটা তো মহামান্য আদালত ঠিক করবেন আমি গবেষণা করতে পারব কিনা। আমি কিডনির রোগ নিয়ে গবেষণা করি। আমার মনে হয় এটা শুধু আমার কেরিয়ারের জন্য নয়, সমাজের জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ। যদি গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাই তাহলে আনন্দিত হব।
মারি কুরীর নামের ফেলোশিপ পেয়ে স্পেনে গবেষণা করছেন হিন্দোল, এই মারি কুরীর বিখ্যাত উক্তি 'ভয় পাওয়ার কিছু নেই, পুরোটাই বোঝার ব্যাপার', দিনের শেষে কতটা বুঝলেন গবেষক হিন্দোল
হিন্দোল- ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং যারা ভয় পাইয়ে রাখতে চায়, তাদেরকে প্রত্যুত্তরটা একটাই দেওয়ার, হাসিমুখে, ভয়বিহীন ভাবে, নির্ভীক ভাবে থাকা। সেটা বটেই, ১০০ বার। কিন্তু মারি কুরী তো শুধু নন, আমাদের ভারতেরও অনেক বিজ্ঞানী রয়েছেন যাঁরা সমাজ নিয়ে অনেক কিছু লিখেছেন, যেমন- প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বোস, তাঁদের লেখা পড়েও আমরা এটা শিখেছি যে, সমাজে অনেক কিছু আসবে, অনেক রকমের শক্তি আসবে, যারা আমাদের দমিয়ে দিতে চাইবে। তাদের উল্টো দিকে আমাদের লড়ে যেতে হবে। সেই লড়াইয়েরই একটা অংশ। সেভাবেই আপাতত দেখছি এটাকে।






















