Kakdwip CPM Worker Murder : 'পরিকল্পনা করেই খুন', ৮ বছর আগে কাকদ্বীপে CPM কর্মী দম্পতির নৃশংস পরিণতি, চার্জশিট পেশ SIT- র
Kakdwip News: SIT- র চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে হেরে যাওয়ায় ২০১৮ সালে বুধাখালি বুথ দখলের জন্য় পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছিল কাকদ্বীপের CPM কর্মী দম্পতিকে।

কলকাতা : ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে হেরে যাওয়ায় ২০১৮ সালে বুধাখালি দখলের জন্য় পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছিল সিপিএম কর্মী দম্পতি দেবপ্রসাদ দাস ও তাঁর স্ত্রী ঊষারানি দাসকে। কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে চার্জশিটে পেশ করে জানাল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। সিপিএমকে সমর্থন করায় এবং ভোট দেওয়ায় দেবপ্রসাদ দাস এবং ঊষা রানি দাসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ৮ বছর আগে, কাকদ্বীপে সিপিএম কর্মী দম্পতি দেবপ্রসাদ দাস ও তাঁর স্ত্রী ঊষারানি দাসের মৃত্যুর ঘটনায় কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে চার্জশিটে পেশ করল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম।
নতুন মোড় নিল গোটা মামলা। চার্জশিটে সম্পূর্ণ খারিজ করা হল 'শর্ট সার্কিট' তত্ত্ব, 'সিপিএম কর্মীদের জড়িত' থাকার তত্ত্ব। চার্জশিটে স্পষ্ট বলা হল, ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে হেরে যাওয়ায় ২০১৮ সালে বুধাখালি বুথ দখলের জন্য় পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছিল সিপিএম কর্মী দম্পতি দেবপ্রসাদ দাস ও তাঁর স্ত্রী ঊষারানি দাসকে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমে ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং তারপর কেরোসিন ঢেলে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে দু'জনের মৃত্যু হয়। নষ্ট হয়ে যায় প্রমাণ।
২০১৮ সালের ১৩ মে - পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বুধাখালিতে ঘটে ভয়াবহ ঘটনা। নিজেদের বাড়িতে সিপিএম কর্মী দম্পতি দেবু দাস ও ঊষা দাসকে পুড়িয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। দম্পতির ছেলে দীপঙ্কর দাস একাধিক ব্য়াক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হল, যাদের ধরা হয়, তাদের নামই ছিল না অভিযোগপত্রে। অভিযোগ, বেছে বেছে তাঁদেরই গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাঁরা সিপিএমেরই কর্মী ছিলেন।
তৃণমূলের পরাজয়ের পর নতুন সরকার তৈরি হয়। এরপর ফের বিচারের দাবিতে সরব হন নিহত দম্পতির ছেলে। এরপর অভিযোগপত্রে নাম থাকা ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই প্রেক্ষাপটে চার্জশিট দাখিল করল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। চার্জশিটে নাম রয়েছে বুধাখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন তৃণমূল সদস্য অমিত মণ্ডল। এছাড়াও অশোক মণ্ডল, চন্দন গিরি, মেঘনাথ ডাকুয়া, মাধব কাণ্ডার, নিকুঞ্জ নস্কর, শিবপ্রসাদ মণ্ডল, গোকুল জানা, নারায়ণচন্দ্র পতি এবং শেখ মণিরুলের নামও চার্জশিটে রয়েছে।
SIT-র চার্জশিটে বলা হয়েছে, অমিত মণ্ডল ওরফে ঘোতা, নারায়ণ পতি এবং শেখ মণিরুলের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের কল ডিটেলস রেকর্ড (CDRS) খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাতে প্রচুর টেলিফোনিক কার্যকলাপ ও অভিযুক্তদের মধ্যে ঘন ঘন যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি, SIT-র চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, টাওয়ার-লোকেশনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, অভিযুক্তরা যে ঘটনাস্থলে না থাকার দাবি করেছিলেন, তাও সঠিক নয়। পিকনিকের সময় তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন এবং তারপর আর তাঁদের মধ্য়ে কোনও যোগাযোগ না থাকার দাবিও সঠিক নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বুধাখালি গ্রামে পঞ্চায়েত নির্বাচন ছিল। নিহত দেবপ্রসাদ দাস এবং ঊষা রানি দাস CPM সমর্থক ছিলেন। FIR-এ নাম থাকা অভিযুক্তরা তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে বুধাখালি বুথে তাঁরা জিততে পারেননি। তাই ২০১৮ সালে যেনতেন প্রকারে ওই বুথ দখলে তাঁরা মরিয়া ছিলেন। সিপিএমকে সমর্থন করায় এবং ভোট দেওয়ায় দেবপ্রসাদ দাস এবং ঊষা রানি দাসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাদের খুন করা হয়। চার্জশিট পেশ হয়েছে। এবার দোষীরা কঠোর শাস্তি পাবে তো? আশায় বুক বাঁধছেন সর্বহারা সন্তান।
Before You Go
Suvendu Adhikari: "মোদিজির কথায় ডবল ইঞ্জিন মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ট্রিপল ইঞ্জিন", কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?






















