SSC Case : FIR-এ নাম থাকা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নয়, পুলিশকে নির্দেশ আদালতের
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, 'বিকাশভবনের সামনে আন্দোলনকারী এবং FIR-এ নাম থাকা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ' নির্দেশ আদালতের।

সৌভিক মজুমদার, কলকাতা : বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ করছেন চাকরিহারা শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা। সেখানে কয়েকদিন আগেই তাঁরা রক্তাক্ত হন। উল্টে তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন বিক্ষোভকারী শিক্ষকদের একাংশ। বিকাশ ভবনের সামনে লাঠিচার্জের ঘটনায় চাকরিহারাদেরই নোটিস পাঠিয়ে তলব করেছিল পুলিশ। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হন শিক্ষক-নেতারা। এদিকে আবার আদালতের কাছে রাজ্য বিকাশ ভবনের সামনে চাকরিহারাদের বিক্ষোভ নিয়ে আপত্তি জানায়। শুক্রবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, 'বিকাশভবনের সামনে আন্দোলনকারী এবং FIR-এ নাম থাকা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ' নির্দেশ আদালতের।
পুলিশকে ধীরে চলো নীতি নিয়ে এগোতে বললেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। এছাড়া 'যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ ২০১৬' -র সদস্যরা সেন্ট্রাল পার্কের সুইমিং পুল লাগোয়া অঞ্চলে অবস্থান বিক্ষোভ করতে পারবেন, বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে পর্যায়ভিত্তিক ভাবে ২০০ জন করে ব্যক্তি থাকতে পারবেন সেখানে, নির্দেশে জানাল আদালত।
আদালতের নির্দেশ, সম্ভব হলে আন্দোলনকারীদের জন্য প্রশাসনকে অস্থায়ী তাঁবু বানিয়ে দিতে হবে। বায়ো-টয়লেট, পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দেবে প্রশাসনই, নির্দেশ আদালতের। এছাড়া আদালত স্পষ্ট করে দিয়, 'মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে যে শো কজ নোটিস জারি করা হয়েছে সেটাও কার্যকর করা যাবে না'।
পাশাপাশি 'যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ ২০১৬' -এর সদস্যদের জানান, তাদের তরফে ১০ জনের নাম পুলিশকে দিতে হবে। বিচারপতি বলেন, 'ওখানে ১৫-১৬ দিন আন্দোলন করছেন, আপনাদের প্রতি আমি সমব্যথী। কিন্তু আমাকে তো সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করতে হবে।' বলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
চাকরিহারাদের আন্দোলন নিয়ে বারবার বহিরাগত তত্ত্ব খাড়া করেছে রাজ্যের শাসক দল। একই কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, এতে শিক্ষকের সংখ্যা কম, বাইরের লোকের সংখ্যা বেশি। শুক্রবার আদালতে দাঁড়িয়ে চাকরিহারাদের আইনজীবী স্পষ্ট করে দেন, কোনও বহিরাগত ওখানে নেই, কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ডাকা হয়নি, কেউ আসলে কী করব ? তখন বিচারপতি বলেন, 'আপনাদের প্রতি সবাই সমব্যথী, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয় সেটা খেয়াল রাখুন। এমন ব্যবহার করুন যাতে শিক্ষকদের সম্মান থাকে'।






















