Kunal Ghosh: কুণালকে 'চোর' স্লোগান বিধানসভায়, "নামটা মনে রাখবেন, কুণাল কুমার ঘোষ, আপনি উপেক্ষা করতে পারবেন না", পাল্টা বেলেঘাটার বিধায়ক
Beleghata MLA: বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বক্তব্য রাখার সময় 'চোর চোর' স্লোগান ওঠে বিধানসভায়। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিপক্ষকে কার্যত কোনও পাত্তাই দিলেন না বেলেঘাটার বিধায়ক।

কলকাতা: বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন তুমুল হৈ হট্টগোল। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বক্তব্য রাখার সময় 'চোর চোর' স্লোগান ওঠে বিধানসভায়। যদিও হাসি মুখে সেই স্লোগানের জবাব দিতেও দেখা যায় কুণাল ঘোষকে। স্পিকার তাঁর নাম ঘোষণা করার পরই 'চোর চোর' স্লোগান ওঠে। তারপরই তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'আমাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।"
আরও পড়ুন: দলবিরোধী কাজে; ফিরহাদ, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খানকে শোকজ 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর
নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিপক্ষকে কার্যত কোনও পাত্তাই দিলেন না বেলেঘাটার বিধায়ক। কুণাল ঘোষের বক্তব্যের মাঝে যাঁরা স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁদের যেমন থামানোর চেষ্টা করেন স্পিকার, তেমনই কুণাল ঘোষকেও বলেন, অন্য কোনও বিষয় যেন তোলা না হয়। আবার কাউকে "বেশ করেছি, বসুন", বলে দমিয়েও দেন কুণাল। বেশ কয়েকজন বিধায়ক আবার স্লোগান দেওয়া বিধায়কদের থামানোর চেষ্টাও করেন।
তারপর বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলতে শুরু করেন, "আমি সত্যিই আপ্লুত আমি প্রথম বারের মতো বিধায়ক হয়ে এসে, প্রথমবারের জন্য বিধানসভায় বক্তব্য রাখছি, আমি স্পিকার সাহেবকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।" এরপর তিনি মুখ্যমন্ত্রী ও পরিষদীয় মন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, "মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ও মাননীয় পরিষদীয় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাকে বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য।"
এরপরই কুণাল ঘোষের বক্তব্য থেকে ঠিকরে পড়ে আত্মবিশ্বাস। তিনি বলেন, "আমি খুবই অভিভূত যে নামের একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে। বন্ধুরা ভাল বলবেন, শত্রুরা খারাপ বলবেন। বাট ইউ কান্ট ইগনোর। নামটা মনে রাখবেন, কুণাল কুমার ঘোষ।"
এর মধ্যে স্পিকারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন প্রাক্তন পরিষয়দীয় মন্ত্রী ও তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষকে বলতে শোনা যায়, "শোভনদা বসেন, বসেন"। তারপর আবার রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "নতুন একটা সরকার এসেছে। তাদের অধিকার রয়েছে কিছুদিন সময় পাওয়ার। আমরা বিরোধিতা করার জন্য কোনও বিরোধিতা করব না। আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা করব। আপনাদের সঙ্গে ঝগড়া হবে। কিন্তু সরকার কিছু করতে গেলে, সেটা খারাপ, এমন আমরা করব না।"
এর মধ্যে আবারও কুণাল ঘোষের বক্তব্যের মধ্যে স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। এবার স্পিকারের উদ্দেশ্যে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "ও স্যর, আমাকে যদি ডিস্টার্ব করা হয়, এরপর যাঁদের যাঁদের আমি বলতে দেব না, আমাকে থামাবেন না কিন্তু।" তারপর যাঁরা স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁদের উপেক্ষা করে কুণাল ঘোষ বলেন, "এই চল! গলার জোর একার নেই। স্যর, এরা আমাকে ভয় পায়। তাই বলতে দিচ্ছে না। এরা ভয় পায়।"
এর মধ্যে বিধানসভার বিরোধী দলনেতাকেও আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ। এরই মধ্যে নাম করে অশোক দিন্দাকেও প্রশ্ন করেন কুণাল। এর মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠলে পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন পরিষয়দীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তিনি শান্ত থাকতে অনুরোধ করেন হাউসকে। তারপর নিজের বাকি বক্তব্য রাখেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।























