Madan Mitra: কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ, না দলের নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ? হঠাৎ করে মদন মিত্রের দল ছাড়ার নেপথ্যে কী কারণ?
Madan Mitra Kamarhati TMC MLA: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মঙ্গলবার সকালে মদন মিত্রর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নোটিস দেয় ED। বুধবার তিনি যোগ দিলেন 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ।

কলকাতা : মঙ্গলবার পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে ED তলব করার দিনই 'ঋতব্রত-তৃণমূল' শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহার বা়ড়িতে গেছিলেন। আর বুধবার সকালে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়ে বিদ্রোহী শিবির অর্থাৎ 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ যোগ দিলেন মদন মিত্র। আর শিবির বদল করেই একাধিক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন কামারহাটির বিধায়ক।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মঙ্গলবার সকালে মদন মিত্রর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নোটিস দেয় ED। মঙ্গলবার রাতে 'ঋতব্রত-তৃণমূল' শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে পৌঁছন মদন মিত্র। বুধবার যোগ দিলেন 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ। তাহলে কি কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়েই হঠাৎ করে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বহু দশকের পুরনো সঙ্গী হঠাৎ করে কালীঘাটের পাট চোকালেন ?
এর আগে পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের নাম উঠে আসে। কিন্তু কেন? কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, কখনও নগদ, আবার কখনও সোনাদানা ঘুষ দিয়ে কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় চাকরি পেয়েছেন অন্তত ১২৫ জন। ED-র তদন্তকারীদের অনুমান, করোনাকালের পরে ওই পুরসভায় চাকরিপ্রার্থীদের নাম সুপারিশ করেন মদন মিত্র। সংখ্যাটা ১০০-র ওপরে। সেখানে মদন মিত্রের সুপারিশে কতজন চাকরি পেয়েছেন তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে ED সূত্রে দাবি, মদন মিত্রের স্ত্রী ও তাঁর দুই ছেলের নামে থাকা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে দুটিতেই সন্দেহজনক লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই সন্দেহজনক লেনদেন পুরসভায় চাকরি বিক্রির টাকা হতে পারে। এসব খতিয়ে দেখতেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য নিয়ে মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে তলব করেছে ইডি।
এরপর ED সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে মদন মিত্রর স্ত্রী অর্চনা মিত্র এবং তাঁর দুই ছেলে স্বরূপ মিত্র এবং শুভরূপ মিত্রকে, ২২ ও ২৩ জুলাই, ব্যাঙ্কের নথিপত্র নিয়ে CGO কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়। এর আগে ১৩ জুন, এই মামলাতেই মদন মিত্রের বিভিন্ন ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল ED. তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। এবার মদন মিত্র ঋতব্রত-তৃণমূলে যোগ দিলেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ? না দলের নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ? হঠাৎ করে মদন মিত্রের দল ছাড়ার নেপথ্যে কী কারণ? তা নিয়ে জল্পনা চলছেই।
শিবির বদলে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগড়ে দিয়েছেন মদন মিত্র। তিনি বলেছেন, 'অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বাড়ি এবং চারপাশে নিঃশ্বাস নেওয়া যাচ্ছিল না।' আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, 'অভিষেকের জন্যে অনেকেরই জেলযাত্রা হয়েছে এবং আরও অনেকের জেলযাত্রা হবে।' হিটলারের সঙ্গেও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের তুলনা করেছেন মদন মিত্র।























