Malda News: বেড়েই চলেছে নদীর জলস্তর, জলমগ্ন মালদার ২০টি গ্রাম, পানীয় জলের জন্য হাহাকার
Flood Situation: এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে কোনও সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ বন্যা দুর্গতদের।

করুণাময় সিংহ, মালদা: বর্ষায় ফের পানীয় জলের জন্য হাহাকার মালদার একাধিক গ্রামে (Malda News)। গঙ্গা এবং ফুলহারের জলে প্লাবিত রতুয়া এক নম্বর ব্লকের মহানন্দটোলা এবং বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত অন্তত ২০টি গ্রাম। জলবন্দি কয়েক হাজার মানুষ ।ওই সমস্ত গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে৷ পানীয় জলের হাহাকার দেখা দিয়েছে গ্রামগুলিতে (Villages Waterlogged)৷
গঙ্গা এবং ফুলহারের জলস্তর বেড়েই চলেছে
এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে কোনও সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ বন্যা দুর্গতদের। ত্রাণ না পৌঁছানোর কথা স্বীকার করে নিয়েছেন মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানও। বিডিও-কে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন মালদার জেলাশাসক।
গত এক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছে গঙ্গা এবং ফুলহারের জলস্তর৷ গঙ্গা রবিবারই বিপদসীমা পেরিয়ে গিয়েছে৷ দুই নদীর জলস্তর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এক সপ্তাহ আগেই জল ঢুকতে শুরু করেছিল অসংরক্ষিত এলাকাগুলিতে৷ গত দু’দিন ধরে প্রবল বেগে জল ঢুকছে ওই সমস্ত এলাকায়৷ বিলাইমারির রুহিমারি, গঙ্গারামটোলা, দ্বারকটোলা, শিসাবন্না, হাটপাড়া-সহ ১০টি গ্রামে জল ঢুকেছে৷ মহানন্দটোলার সম্বলপুর, কোতুয়ালি, জিয়ারামটোলা, বঙ্কুটোলা, বোধনটোলা সহ ১০টি গ্রামও এখন জলের তলায়৷
শুধু কৃষিজমি কিংবা পাড়া নয়, জল ঢুকতে শুরু করেছে অনেক বাড়িতেও৷ সে সব বাড়ির লোকজন নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে শুরু করেছেন৷ তবে এলাকা ছেড়ে কেউ ফ্লাড সেন্টারে যেতে নারাজ৷
আরও পড়ুন: Serampore News: ১০০ দিনে স্রেফ ঘুমিয়ে ৬ লক্ষ টাকা আয়, শ্রীরামপুরের এই মেয়েই দেশের সেরা ঘুমকাতুরে
মহানন্দটোলা পঞ্চায়েতের বন্যা দুর্গত হিমাংশু মিশ্র বলেন, ‘‘গত ৮-১০ দিন ধরে জল বাড়ছে৷ বাড়িতে নদীর জল ঢুকে পড়েছে৷ এই পঞ্চায়েতের ১০টি গ্রাম এখন জলের নিচে৷ বিলাইমারি পঞ্চায়েতেরও ১০টি গ্রাম এই মুহূর্তে জলে ভাসছে৷ আমরা শুকনো খাবার খেয়ে কোনওরকমে বেঁচে আছি৷ এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সহায়তা পাইনি৷ যাতায়াতের জন্য নৌকার ব্যবস্থাও করা হয়নি৷ এক গলা জল ভেঙেই যাতায়াত করতে হচ্ছে৷ গঙ্গা আর ফুলহরের জলে আমাদের এই দশা৷’’
বানভাসি কোতুয়ালি গ্রামের আরতি মণ্ডল বলেন, ‘‘আটদিন ধরে বাড়ির উঠোনে জল৷ এখন ঘরের ভিতরও জল ঢুকে গিয়েছে৷ অন্যের উঁচু জায়গায় চলে গিয়েছি৷ শুকনো খাবার খাচ্ছি৷ খাবার জলের ব্যবস্থা নেই৷ প্রশাসনের কেউ এখনও আসেনি৷ একটা পলিথিনও জোটেনি৷ সবচেয়ে বড় সমস্যা গবাদি পশুদের নিয়ে৷ ওদের খাবার নেই৷ কী করে গরুগুলিকে বাঁচিয়ে রাখব, জানি না৷’’
গ্রামের একটি আমবাগানে ত্রিপল টাঙিয়ে রয়েছেন সম্বলপুরের অর্জুন মণ্ডল৷ তিনি বলেন, ‘‘চারদিন আগে ঘরে জল ঢুকে পড়েছে৷ তাই এই বাগানে চলে এসেছি৷ একটা ছেঁড়া ত্রিপল ছিল৷ সেটাই মাথার উপর টাঙিয়েছি৷ এখনও প্রশাসনের কেউ এলাকায় আসেনি৷ ত্রাণও জোটেনি৷ এভাবে কতদিন চলতে হবে, জানা নেই৷’’
মহানন্দটোলা পঞ্চায়েতের প্রধান কৃষ্ণা সাহা বলেন, ‘‘গঙ্গা আর ফুলহরের জল এক সপ্তাহ ধরে বেড়ে চলেছে৷ আমার পঞ্চায়েতের প্রায় সম্পূর্ণ এলাকা এখন জলের তলায়৷ যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন৷ এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা পানীয় জলের৷ গোখাদ্যেরও সমস্যা প্রচণ্ড৷ পানীয় জল, শুকনো খাবার আর ত্রিপলের জন্য বিডিও-কে জানিয়েছি৷ বানভাসি মানুষের জন্য দুটো ফ্লাড সেন্টার খোলা হয়েছে৷ কিন্তু মানুষ বাড়িতে জিনিসপত্র, গরু-বাছুর ছেড়ে যেতে চাইছেন না৷ গোটা বিষয়টি বিডিও-কে জানিয়েছি৷ ব্লক প্রশাসনের কাছে ত্রাণ সামগ্রীরও আবেদন জানানো হয়েছে৷’’
সরকারের তরফে কোনও সাহায্য় নেই, অভিযোগ স্থানীয়দের
মালদার জেলা শাসক নিতিন সিংহানিয়া যদিও জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ মজুদ রয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত বিডিও-কে ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।






















